- এই মুহূর্তে দে । শ
- সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬
‘আত্মঘাতী’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইঝি!
রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইঝি ‘আত্মঘাতী’ হয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরে বীরভূম জেলার রামপুরহাটের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে বৃষ্টি মুখোপাধ্যায়ের ঝুলন্ত নিষ্প্রাণ দেহ। পরিবারের অভিযোগ, তিনি গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিনি গত ৪, ৫ বছর ধরে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন, চলছিল চিকিৎসা। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে নাম জড়ানোয় গ্রুপ সি-র চাকরিটি হারিয়েছিলেন বৃষ্টি। সম্প্রতি বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা নিয়ে আরও হতাশায় ডুবে গিয়েছিলেন তিনি। এরপর মঙ্গলবার ঘটে এই অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা, যা নিয়ে স্বভাবতই অনেক প্রশ্ন উঠছে।
রামপুরহাটের কুসুম্বা গ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামার বাড়ি। তাঁর মামাতো ভাই নীহার মুখোপাধ্যায় এক সময় রামপুরহাটের ১ নং ব্লকের তৃণমূল সভাপতি ছিলেন। তাঁরই মেয়ে বৃষ্টি মুখোপাধ্যায়। বৃষ্টি স্থানীয় এক স্কুলে গ্রুপ সি-র চাকরি করতেন। নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত শুরুর পর তদন্তকারী সংস্থার নজরে আসেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ভাইঝি বৃষ্টির নাম। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পেশ করা প্রমাণ অনুযায়ী, গ্রুপ সি পরীক্ষার ওএমআর শিটে ৯০ শতাংশই গরমিল ছিল। অর্থাৎ তাতে কারচুপি করে স্বজনপোষণের মাধ্যমে চাকরি পাইয়ে দেওয়া হয়েছে অনেককে। তদন্তে নেমে প্রাথমিকভাবে দুর্নীতি করে চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে উঠে আসে বৃষ্টির নাম। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়ার পর বৃষ্টি চাকরি হারান।
মঙ্গলবার দুপুরে কুসুম্বা গ্রামে বৃষ্টির নিজের বাড়ির দোতলার বারান্দায় গলায় কাপড় দিয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় বৃষ্টির দেহ উদ্ধার হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় রামপুরহাট থানার পুলিশ। দ্রুত দেহ উদ্ধার করে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়। প্রাথমিকভাবে অনুমান, বৃষ্টি আত্মহত্যাই করেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ভাইঝি। কিন্তু কী কারণে এই পদক্ষেপ, গা নিয়ে নানান জল্পনা চলছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে রামপুরহাট থানার পুলিশ। যদিও পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ৪-৫ বছর ধরে বৃষ্টি মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন বৃষ্টি। ইদানিং নিজের ঘরে নিজেকে বন্দি করেই তিনি রাখতেন, কোথাও বার হতেন না। তাঁর এক আত্মীয়ের কথায়, ‘ও ডিপ্রেশনে ছিল, চিকিৎসা চলছিল। নিজের ঘরে একাই থাকত। আমাদের সঙ্গে বেশি কথা বলত না। আজ সকালেও ছিল নিজের ঘরে। আমরা কেউ আর বাইরে দেখিনি। তারপর তো শুনছি, গলায় দড়ি দেওয়া অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে। জানি না হঠাৎ কী ঘটে গেল।’ আরও জানা যাচ্ছে, বৃষ্টির বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা চলছিল। তা নিয়ে তিনি মানসিকভাবে ভারাক্রান্ত থাকতেন। সেই কারণেই আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো চাপ ছিল, এসব প্রশ্ন উঠছেই। গোটা ঘটনায় থমথমে কুসুম্বা গ্রাম।
❤ Support Us






