- এই মুহূর্তে দে । শ
- সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬
পুজোর পরেই রাজ্যে পুরভোটের প্রস্তুতি, কলকাতা-হাওড়া নিয়ে তৎপর নির্বাচন কমিশন, সব ওয়ার্ডেই প্রার্থী দেবে ‘ঋতব্রত’ তৃণমূল!
পুজো মিটতেই রাজ্যে পুরভোটের প্রস্তুতি জোরদার করতে চাইছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। কলকাতা ও হাওড়া পুরনিগম-সহ রাজ্যের বাকি পুরসভাগুলিতে নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। বুধবার পুরসভা ও পুরনিগম নির্বাচন নিয়ে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলির জেলাশাসকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসতে চলেছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। পুজোর পর যাতে ভোটের আবহে কোনো খামতি না থাকে, সে লক্ষ্যেই আগেভাগে গোটা নির্বাচনী পরিকাঠামো খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে কমিশন সূত্রে খবর। এদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন, আগামী ডিসেম্বর মাসেই পুরসভার নির্বাচন সম্পন্ন করে নতুন পুরো বর্ডার হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়া হবে।
বুধবারের বৈঠকে মূলত যে সব পুরসভা ও পুরনিগমে নির্বাচন হওয়ার কথা, সেখানকার বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে। ভোট পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ইভিএম, নির্বাচনী পরিকাঠামো এবং অন্যান্য প্রস্তুতি কতটা রয়েছে, তা নিয়ে জেলাশাসকদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নেওয়া হতে পারে। বিশেষ করে ইভিএম-সহ ভোট পরিচালনার সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা ঠিক রয়েছে কি না, তা যাচাই করতেই এই বৈঠক বলে জানা যাচ্ছে। তবে পুরভোটের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে অন্যতম সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে পর্যাপ্ত ইভিএমের অভাব। সে সমস্যা মেটাতে ইতিমধ্যেই কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। ইভিএম-সহ একাধিক বিষয়ে দ্রুত শুনানির আবেদনও করা হয়েছে। মঙ্গলবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি অতরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে জরুরি ভিত্তিতে মামলাটির শুনানির আবেদন জানানো হয়। আগামী সপ্তাহে মামলার শুনানি হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
আসন্ন পুরভোটে বিশেষ নজর রয়েছে কলকাতা ও হাওড়া পুরনিগমের দিকে। কারণ, দুই পুর এলাকার প্রশাসনিক মানচিত্রে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের পর কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ১৪৪ থেকে বেড়ে হয়েছে ২০৯। অর্থাৎ, আগের তুলনায় কলকাতায় নতুন করে ৬৫টি ওয়ার্ড যুক্ত হয়েছে। অন্যদিকে, হাওড়া পুরসভার ক্ষেত্রেও ওয়ার্ডের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ৫০টি ওয়ার্ড থেকে সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৬৮। অর্থাৎ, হাওড়ায় বেড়েছে ১৮টি ওয়ার্ড। ফলে কলকাতা ও হাওড়া—দুই পুরনিগমেরই আগামী নির্বাচন নতুন ওয়ার্ড বিন্যাসের ভিত্তিতে হওয়ার কথা। ওয়ার্ড সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে ভোটারদের বিন্যাস, বুথ ও ভোটকেন্দ্রের পরিকল্পনা, নির্বাচনী পরিকাঠামো এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনাতেও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে কলকাতা পুরসভার ক্ষেত্রে ১৪৪ থেকে ২০৯ ওয়ার্ডে সম্প্রসারণের ফলে গোটা নির্বাচনী মানচিত্রই অনেকটাই বদলে গিয়েছে। তাই ভোটের আগে নতুন করে নির্বাচনী প্রস্তুতি এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিশ্চিত করাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে কমিশন।
এরই মধ্যে ইভিএম-সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে কমিশন জানিয়েছে, কলকাতা হাই কোর্টে একাধিক ইলেকশন পিটিশন সংক্রান্ত মামলা এখনও বিচারাধীন। ওই মামলাগুলির ক্ষেত্রে আদালত বিভিন্ন কেন্দ্রের ইভিএম, ভিভিপ্যাট-সহ অন্যান্য নির্বাচনী সামগ্রী সংরক্ষণ করার নির্দেশ দিয়েছে। ফলে পর্যাপ্ত ইভিএম হাতে না থাকায় পুরনির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করতে দেরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন।
এই পরিস্থিতিতে একদিকে জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠক করে পুরভোটের মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি যাচাই, অন্যদিকে আদালতের মাধ্যমে ইভিএম-সহ প্রয়োজনীয় নির্বাচনী সামগ্রী ব্যবহারের বিষয়ে দ্রুত সমাধান খোঁজা—দুই দিকেই একসঙ্গে এগোচ্ছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে পুজোর পর রাজ্যে ফের শুরু হতে পারে ভোটের উৎসব।
অন্যদিকে, কলকাতা পুরসভার আসন্ন নির্বাচনে ডিলিমিটেশনের পর তৈরি হওয়া ২০৯টি ওয়ার্ডেই বিজেপির বিরুদ্ধে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘ঋতব্রত’ তৃণমূল কংগ্রেস। পুরভোটের রণকৌশল চূড়ান্ত করতে সপ্তাহের শেষে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ও নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের নিয়ে বৈঠকে বসার প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ের কাজও শুরু করে দিয়েছে দল। বিধানসভায় এক প্রশ্নের উত্তরে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ডিলিমিটেশনের পর কলকাতা পুরসভার যে ২০৯টি ওয়ার্ড তৈরি হচ্ছে, তার প্রতিটিতেই বিজেপির বিরুদ্ধে দলের প্রার্থী লড়াই করবেন। শুধু কলকাতা নয়, হাওড়া-সহ অন্যান্য পুরসভাতেও প্রতিটি ওয়ার্ডে নাগরিক স্বার্থে দলীয় প্রার্থীদের নির্বাচনে দাঁড় করানোর কথা জানান তিনি।
ঋতব্রত বলেন, পুরভোটের কৌশল চূড়ান্ত করতে সপ্তাহের শেষে সিনিয়র নেতৃত্ব ও পুরভোটের দায়িত্বে থাকা নেতাদের নিয়ে বৈঠক হবে। সেখানেই ‘কালেক্টিভ ডিসিশন’-এর মাধ্যমে নির্বাচনী রণকৌশল নির্ধারণ করা হবে। দলীয় সূত্রের দাবি, পুরভোটের আগেই দলের প্রতীক এবং নির্বাচনী তহবিল সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের রায় আসতে পারে। সে রায় ‘ঋতব্রত’ তৃণমূলের পক্ষে গেলে প্রার্থীদের ভোটে লড়াই করার ক্ষেত্রে আরও সুবিধা হবে বলেই মনে করছে ঋতব্রত শিবির।
এদিকে মঙ্গলবারই ঋজু দত্তকে দলের জাতীয় মুখপাত্রের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এসআইআর-এ আবেদন করার পরও যাঁদের নাম এখনও ট্রাইবুন্যালে আটকে রয়েছে, তাঁদের নাম পুজোর আগেই ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য রাজ্য সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ দাবি করছে ঋতব্রত শিবির। এ বিষয়ে শীঘ্রই মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে দলের। পুরভোটের প্রস্তুতি নিয়ে মঙ্গলবার বিধানসভাতেই প্রাক্তন পুরমন্ত্রী তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং জাভেদ খানের সঙ্গে একদফা আলোচনা করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সপ্তাহের শেষে যে বৈঠক ডাকা হচ্ছে, সেখানে পুরভোটের সার্বিক রণকৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা।
ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মধ্য দিয়েই কলকাতা ও হাওড়া পুরসভার নির্বাচনের প্রস্তুতি কার্যত শুরুর মুখে। ইতিমধ্যেই বিজেপি নির্বাচনী কমিটি গঠন করে পুরভোটের ময়দানে নেমে পড়েছে। পাল্টা প্রস্তুতি শুরু করেছে ঋতব্রত নেতৃত্বাধীন তৃণমূলও। কলকাতা পুরসভার সর্বদলীয় বৈঠকে বিধানসভার উপদলনেতা সন্দীপন সাহা উপস্থিত হয়ে ডিলিমিটেশন নিয়ে দলের আপত্তির কথা জানিয়েছেন। পাশাপাশি উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতা জেলা সভাপতিদের সম্ভাব্য ওয়ার্ডগুলির প্রার্থী তালিকা তৈরির কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে দল। ফলে ডিলিমিটেশন নিয়ে আপত্তি জানানো থেকে শুরু করে সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই এবং নির্বাচনী রণকৌশল নির্ধারণ—সব দিক থেকেই কলকাতা পুরভোটকে সামনে রেখে দ্রুত সংগঠন গোছানোর পথে এগোচ্ছে ‘ঋতব্রত’ তৃণমূল শিবির।
❤ Support Us







