- এই মুহূর্তে দে । শ
- সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬
পুরভোটের জোর প্রস্তুতিতে পদ্মশিবির ! বাড়ি বাড়ি প্রচারে নিবিড় জনসংযোগ, ইস্তেহার তৈরিতে জনমতকেই প্রাধান্য
কলকাতা পুরভোটকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই ঘুঁটি সাজাতে শুরু করে দিয়েছে বঙ্গ বিজেপি। নির্বাচনে কোন কৌশলে তৃণমূলকে টেক্কা দেওয়া যায়, তা নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মধ্যে দফায় দফায় রুদ্ধদ্বার বৈঠক চলছে। দলের অন্দরের খবর, পুজোর মধ্যেই কলকাতা পুরভোটের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা তৈরি করে ফেলতে চাইছে বিজেপি। এমনকী, পুজোর মরশুমের মধ্যেই প্রথম দফার প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হতে পারে।
নির্বাচনের আগে প্রার্থীরা যাতে নিজেদের ওয়ার্ডে অন্তত এক মাস প্রচারের সময় পান, সে লক্ষ্যেই পুজোর মধ্যে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, পুরভোটে প্রার্থী হতে ইচ্ছুকদের কাছ থেকে আবেদনপত্র সংগ্রহের জন্য ‘ড্রপ বক্স’ চালুর কথাও ভাবছে রাজ্য বিজেপি। সাধারণত বিজেপিতে পুরভোটে প্রার্থী হওয়ার আবেদনপত্র মণ্ডল বা জেলা নেতৃত্বের কাছে জমা দিতে হয়। সেখান থেকে আবেদনপত্র রাজ্য নেতৃত্বের কাছে পৌঁছয়। পরে পুরভোটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিটি আবেদনগুলি খতিয়ে দেখে প্রার্থী বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। এ প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকরাও তাঁদের মতামত দেন। তবে এবার এই প্রচলিত ব্যবস্থার পাশাপাশি ‘ড্রপ বক্স’ রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে। দলের অন্দরের হিসাবে, কলকাতার প্রতিটি ওয়ার্ড থেকেই ইতিমধ্যে ১০ থেকে ১৫ জন করে প্রার্থী হওয়ার দাবিদার রয়েছেন।
রাজ্যে প্রথমবার ক্ষমতা দখলের পর কলকাতা পুরসভা জয়ের লড়াইকে কোনোভাবেই হালকা ভাবে নিতে চাইছে না বিজেপি। পুরসভা দখলের লক্ষ্যেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করে ভোটের রণকৌশল তৈরি করছেন রাজ্য নেতারা। গোটা প্রক্রিয়াটি নজরদারি করছেন রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতা সুনীল বনসল। কলকাতা পুরভোটের দায়িত্বে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব অভিজ্ঞ নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারকে ইনচার্জ করেছে। দায়িত্ব পাওয়ার পরই পুরভোটের প্রস্তুতিতে সক্রিয়ভাবে মাঠে নেমেছেন তিনি। কো-ইনচার্জ হিসেবে রয়েছেন বিজেপির পুরনো নেতা রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি প্রবীণ রাজনীতিবিদ তাপস রায়কে কমিটির কনভেনর করা হয়েছে। কো-কনভেনর হিসেবে রয়েছেন বিধায়ক রীতেশ তেওয়ারি। রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, মানুষের আশীর্বাদে এবার কলকাতা পুরসভা বিজেপিই দখল করবে। তাঁর কথায়, দলের কর্মীরা ইতিমধ্যেই পুরোদমে প্রচারের প্রস্তুতিতে নেমে পড়েছেন।
দলের সূত্রে খবর, কলকাতা পুরভোটের প্রচারের জন্য ওয়ার্ডভিত্তিক ছয় দফা কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। বড়ো সভার বদলে বাড়ি বাড়ি জনসংযোগ এবং মহল্লায় মহল্লায় ছোট বৈঠক ও সভার উপর জোর দেওয়া হবে। একইসঙ্গে তৃণমূল পরিচালিত কলকাতা পুরসভার বিরুদ্ধে ওয়ার্ডভিত্তিক ‘চার্জশিট’ তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। পুরসভার পরিচালনায় অব্যবস্থা, গলদ এবং দুর্নীতির অভিযোগগুলি সেখানে তুলে ধরা হবে। এছাড়াও, ভাইফোঁটার পর পুরভোটের ইস্তেহার প্রকাশ করার পরিকল্পনা রয়েছে বিজেপির। ওয়ার্ডভিত্তিক প্রচারে দলের পুরনো ও নতুন কর্মী-নেতাদের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে প্রচার চালানো হবে।
গত নির্বাচনে বা পুরসভা পরিচালনার ক্ষেত্রে তৃণমূল কী কী প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা পূরণ করেনি, সেগুলিও ওয়ার্ডভিত্তিক ভাবে সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, বিজেপির পুরভোটের ইস্তেহার তৈরিতেও সাধারণ মানুষের মতামত নেওয়া হবে। অর্থাৎ, কলকাতার নাগরিকদের কী সমস্যা, তাঁদের প্রত্যাশা কী এবং পুরসভা পরিচালনায় তাঁরা কী ধরনের পরিবর্তন চান— সেসব মতামত সংগ্রহ করেই ইস্তেহারে তার প্রতিফলন ঘটানোর পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্য বিজেপির।
❤ Support Us





