- দে । শ
- সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬
মুখ্যমন্ত্রীর কণ্ঠস্বর নকল করে প্রতারণা, চাকরির টোপ দিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ, গ্রেফতার সরকারি আধিকারিক
চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে অসমে গ্রেফতার হলেন ধেমাজি জেলার ডেভেলপমেন্ট কমিশনার দেবেশ্বর বরা। অভিযোগ, প্রতারণার কাজে অভিনব কৌশল অবলম্বন করেছিলেন ১৯৯৯ ব্যাচের অসম সিভিল সার্ভিসের এই আধিকারিক। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা, রাজ্যের মুখ্যসচিব রবি কোটা-সহ বিভিন্ন শীর্ষ প্রশাসনিক কর্তার কণ্ঠস্বর নকল করতে তিনি এক জন মিমিক্রি আর্টিস্টকে ভাড়া করেছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশ ও তদন্তকারী সূত্রের খবর, চাকরি অথবা সরকারি কোনো সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করতেন দেবেশ্বর। প্রতারণার শিকার ব্যক্তিরা যাতে তাঁর কথায় সহজে বিশ্বাস করেন, সে জন্যই ব্যবহার করা হত ভাড়া করা নকলনবিশকে। ওই মিমিক্রি শিল্পী কখনও মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার কণ্ঠস্বর নকল করে ফোনে কথা বলতেন, কখনও রাজ্যের মুখ্যসচিব রবি কোটার পরিচয়ে কথা বলতেন। প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য কোনও সরকারি আধিকারিকের কণ্ঠস্বরও নকল করে ফোন করা হত বলে অভিযোগ।
তদন্তকারীদের দাবি, দেবেশ্বর নিজেকে মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচয় দিতেন। তাঁর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে এবং রাজ্যের একাধিক শীর্ষ প্রশাসনিক কর্তার সঙ্গেও তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে—এমন দাবি করে চাকরিপ্রার্থীদের বিশ্বাস অর্জন করতেন তিনি। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলিয়ে দেওয়ার আশ্বাসও দিতেন। এর পরেই শুরু হতো প্রতারণার মূল পর্ব। দেবেশ্বরের ভাড়া করা মিমিক্রি শিল্পী ফোনের অন্য প্রান্তে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে কখনও মুখ্যমন্ত্রী, কখনও মুখ্যসচিব, আবার কখনও অন্য কোনও সরকারি কর্তার কণ্ঠস্বর নকল করে কথা বলতেন। এর ফলে চাকরিপ্রার্থী বা সুবিধাপ্রত্যাশীরা ফোনের ওপারে সত্যিই কোনও শীর্ষ সরকারি কর্তা রয়েছেন বলে বিশ্বাস করতেন বলে তদন্তকারীদের দাবি। এই কৌশলে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েক জনের আস্থা অর্জন করেছিলেন দেবেশ্বর।
তবে শেষ পর্যন্ত ধরা পড়ে যায় গোটা কারসাজি। এক চিকিৎসকের অভিযোগের ভিত্তিতে দেবেশ্বরের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে ভিজিল্যান্স। তদন্তে তাঁর আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন সম্পত্তির হদিস মেলে। সেই সম্পত্তির উৎস খতিয়ে দেখতে গিয়ে তদন্তকারীরা দেবেশ্বরের প্রতারণার অভিনব কৌশলের সন্ধান পান। এরপরই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। দেবেশ্বরের বিরুদ্ধে এর আগেও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল বলে তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে। ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তিনি অসম সরকারের মেডিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ডিপার্টমেন্টের সচিব পদে ছিলেন। ওই সময়েও তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। সম্প্রতি তাঁকে ধেমাজি জেলার ডেভেলপমেন্ট কমিশনার পদে নিয়োগ করা হয়েছিল।
দেবেশ্বরের বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকা অবশ্য এখানেই শেষ নয়। ধেমাজির এক নেতাও তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন। এর আগে ২০২০ সালে কোকরাঝাড়ের অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার পদে থাকাকালীন তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগও উঠেছিল। সব মিলিয়ে, মুখ্যমন্ত্রী ও মুখ্যসচিবের মতো শীর্ষ প্রশাসনিক ব্যক্তিদের কণ্ঠস্বর নকল করিয়ে চাকরি ও সরকারি সুবিধার টোপ দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে দেবেশ্বরের গ্রেফতারি অসমের প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। তদন্তকারীরা এখন তাঁর সঙ্গে আর কারা এই প্রতারণা চক্রে যুক্ত ছিলেন এবং কত জনের কাছ থেকে কী পরিমাণ অর্থ নেওয়া হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছেন।
❤ Support Us






