Advertisement
  • বি। দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬

জেরুজালেমে ব্রিটিশ দূতাবাস বন্ধের নির্দেশ ইজরায়েলের, ১২ জন ব্রিটিশ কর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
জেরুজালেমে ব্রিটিশ দূতাবাস বন্ধের নির্দেশ ইজরায়েলের, ১২ জন ব্রিটিশ কর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি

জেরুজালেমে অবস্থিত ব্রিটিশ দূতাবাস বন্ধ করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করল ইজরায়েল। পশ্চিম তীরে ইজরায়েলি বসতি স্থাপনের কারণে ব্রিটেনের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার জবাবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইজরায়েলি বসতির বাসিন্দাদের সহিংসতার কারণে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা আরোপে ব্রিটেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। ইজরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার জানিয়েছেন যে, পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত যুক্তরাজ্যের দূতাবাস বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং কিরিয়াত গাত বেসামরিক-সামরিক সমন্বয় কেন্দ্রতে থাকা ব্রিটিশ প্রতিনিধিদের বহিষ্কার করা হবে।

শুধু দূতাবাস বন্ধ করাই নয়, আরও কিছু নিষেধাজ্ঞার কথা ঘোষণা করেছে ইজরায়েল। অন্যান্য নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে রামাল্লায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা বাহিনীকে ব্রিটিশ বাহিনীর প্রশিক্ষণ বন্ধ করা এবং ইহুদি–বিদ্বেষী ও ইজরায়েল–বিরোধী কার্যকলাপে জড়িত ১২ জন ব্রিটিশ নির্বাচিত প্রতিনিধি ও অন্যান্য ব্রিটিশ নাগরিকের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা। সেইসঙ্গে যারা ইজরায়েল রাষ্ট্রের অস্তিত্বকেই অস্বীকার করে তাঁদেরও প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ইজরায়েলে প্রবেশে নিষিদ্ধ হওয়া ১২ জন ব্রিটিশ কর্মকর্তা হলেন ব্রিটিশ এমপি জেরেমি করবিন, জারা সুলতানা, নাজ শাহ, ডায়ান অ্যাবট, হান্না স্পেন্সার, কার্লা ডেনিয়ার, সিয়ান বেরি, এলি চাউন্স, জন ম্যাকডোনেল, রিচার্ড বার্গন ও অ্যাড্রিয়ান রামসে এবং ‘রিভারওয়ে টু দ্য সি’ ছবির পরিচালক ফাহাদ আনসারি।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতিতে ইজরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি এই অভিযোগগুলোকে মিথ্যা বলে অভিহিত করেছেন এবং ব্রিটেনের এই পদক্ষেপকে ইজরায়েলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সার বলেন, ‘‌পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত ব্রিটিশ দূতাবাস, যা পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যুক্ত, সেটি এখনই বন্ধ করে দেওয়া হবে।’‌ ইজরায়েল গাজায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন সমন্বয় মিশনে ব্রিটেনের অংশগ্রহণেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ইজরায়েল ১২ জন ব্রিটিশ কর্মকর্তার দেশে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তও নিয়েছে। আগামী ২৭ অক্টোবর ইজরায়েলের নির্বাচনের ঠিক আগে এই ঘটনাটি ঘটল। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু তাঁর নির্বাচনী প্রচারে পশ্চিম তীরের বসতিগুলোর প্রতি সমর্থনকে একটা প্রধান বিষয় হিসেবে তুলে ধরছেন।

সার ব্রিটেনের এই নিষেধাজ্ঞাগুলিকে প্রকাশ্য নির্বাচনী হস্তক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘‌ব্রিটিশ ঘোষণাগুলি এবং এর পরে অন্যান্য দেশগুলির নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার ফলে সংঘাতের সমাধান খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেল।’‌ তিনি আরও বলেন, ‘‌ব্রিটিশ জনগণের বিরুদ্ধে ইজরায়েলের কোনও বিদ্বেষ নেই। আমরা জানি যে ব্রিটেনে আমাদের অনেক বন্ধু আছে। দুর্ভাগ্যবশত, একটা বৈরী লেবার সরকার ক্ষমতায় রয়েছে, যারা পরিকল্পিতভাবে ইজরায়েল রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কাজ করছে। এবং আমাদের শেষপর্যন্ত তাদের বৈরী কর্মকাণ্ডের জবাব দেওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না।’‌

এর আগে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হার্জগ এই নিষেধাজ্ঞাগুলিকে একটা সার্বভৌম রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক নির্বাচনে চরম হস্তক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘‌নিষেধাজ্ঞা কোনও সমাধান নয়, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হতে পারত। আমি সব বিদেশি সরকারকে বলছি, নিষেধাজ্ঞা ও বয়কটের এই অচলাবস্থা থেকে বেরিয়ে আসুন এবং গঠনমূলক আলোচনা ও সহযোগিতার দিকে অগ্রসর হোন।’‌ প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইয়ার লাপিদ পশ্চিম তীরের বসতিগুলোর ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করে বলেছেন, ‘‌ইরায়েলের ওপর বয়কট ও নিষেধাজ্ঞা আরোপের ব্রিটিশ সরকারের সিদ্ধান্ত গুরুতর ভুল সিদ্ধান্ত। এটা ভুল সময়ে এবং ভুল কারণে গৃহীত একটা ভ্রান্ত ও বিপজ্জনক নীতি। এই সিদ্ধান্ত নেসেট নির্বাচনের ঠিক আগে ইজরায়েলে চরমপন্থী কণ্ঠগুলোকে শক্তিশালী করবে এবং হামাস ও সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে উৎসাহ জোগাবেট।’‌


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!