- বি। দে । শ
- সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬
ইয়েমেনের হুথি নিয়ন্ত্রিত জাওফ কারাগারে সৌদির হামলা
দক্ষিণ লেবাননে ইজরায়েলি হামলা, ইয়েমেনে হুথিদের দায় স্বীকার এবং হরমুজ নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলির সতর্কবার্তা সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা। এই সংঘাত নৌচলাচলের নিরাপত্তা, বেসামরিক মানুষের মৃত্যু এবং রাজনৈতিক সমাধানের ক্ষীণ হয়ে আসা সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। উদ্বেগ আরও চরম আকার ধারণ করল ইয়েমেনের জাওফের এক কারাগারে হামলা চালিয়ে সৌদি আরব ৪ জনকে হত্যা করার ঘটনায়। হুথিরা দাবি করেছে, জাওফ কারাগারে সৌদি হামলায় শিশুসহ ৭ জন নিহত হয়েছেন। এই অভিযোগটি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন সম্মুখ সমর তীব্র হচ্ছে এবং ইয়েমেনের বিপর্যস্ত যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাচ্ছে।
ইরান–সমর্থিত হুথি এবং সৌদি–সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। হুথি পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, সৌদি আরবের এই হামলায় একজন মহিলাসহ আরও অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। হামলাটি জাওফ প্রদেশের কৌশলগত শহর হাজমের কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে আঘাত হানে। কারাগারের ওয়ার্ডেন হুথি আল–মাসিরাহ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ৩৫ জন বন্দী এবং কারাগারে থাকা নিজের স্বামীকে দেখতে যাওয়া এক মহিলা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন। সৌদি আরবের গণমাধ্যম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
হুথি পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আনিস আল–আসবাহি বলেছেন, হামলার পর ঘটনাস্থল থেকে মৃত ও আহতদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আল–মাসিরাহ স্যাটেলাইট নিউজ চ্যানেল ৪৬ সেকেন্ডের একটা ভিডিও ফুটেজ সম্প্রচার করেছে, যেখানে হামলার পরবর্তী দৃশ্য দেখা গেছে। ভিডিওতে একটা ধসে পড়া ভবন, ভাঙা কংক্রিটের স্ল্যাব এবং ধ্বংসস্তূপ দেখা যায়। উদ্ধারকারী দলসহ বেশ কয়েকজনকে ধ্বংসাবশেষের মধ্যে তল্লাশি চালাতে দেখা গেছে।
হুথি সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি জাওফে বিমান হামলা ও গণহত্যা চালানোর জন্য সৌদি আরবকে অভিযুক্ত করেছেন। তিনি রিয়াদকে গোয়েন্দা ড্রোন মোতায়েন এবং ভাড়াটে সৈন্যদের বিভিন্ন অস্ত্র সরবরাহ করার জন্যও অভিযুক্ত করেছেন। ইয়াহিয়া সারি বলেন, ‘ইয়েমেনের বিরুদ্ধে চলমান সৌদি আগ্রাসনের জবাব না দিয়ে বা শাস্তি না দিয়ে পার পাবে না।’ সারি দাবি করেছেন, হুথি বাহিনী গত ২৪ ঘণ্টায় চারটি সৌদি গোয়েন্দা ড্রোন ভূপাতিত করেছে, যার মধ্যে একটা সোমবার সকালে বায়দা প্রদেশে দেখা গিয়েছিল।
আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বাহিনী ইয়েমেনের জাওফ, বায়দা, দাহলে এবং মারিব প্রদেশসহ বিভিন্ন রণাঙ্গনে অগ্রসর হওয়ার সময়েই হুথিরা এই দাবি করেছে। ২০১৪ সালে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়, যখন হুথিরা তাদের উত্তরাঞ্চলীয় শক্ত ঘাঁটি থেকে অগ্রসর হয়ে রাজধানী সানা দখল করে নেয়। এতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার দক্ষিণে পালিয়ে যেতে এবং পরে সৌদি আরবে নির্বাসনে যেতে বাধ্য হয়। পরের বছর সরকারকে পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।
যুদ্ধ চলাকালীন কারাগারে হামলা কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। ২০২২ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের এক হামলায় সাদা প্রদেশের একটা আটক কেন্দ্রে অন্তত ৮৭ জন বন্দী নিহত এবং প্রায় ২৬৬ জন আহত হন। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ধামার প্রদেশে হুথি পরিচালিত একটা আটক কেন্দ্রে আরেকটি হামলায় ১০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং কয়েক ডজন আহত হন। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে অন্তত দেড় লক্ষ মানুষ নিহত হয়েছেন এবং এই যুদ্ধ দেশটিকে মাঝে মাঝে দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছে। ২০২২ সাল থেকে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি বর্তমানে ভেস্তে গেছে, এবং একাধিক জায়গায় নতুন করে লড়াই শুরু হওয়ার মধ্যেই সর্বশেষ এই কারাগারে হামলার ঘটনা ঘটল।
❤ Support Us








