- দে । শ
- সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬
শব্দতান্ডব রুখতে প্রতিবাদ, উন্মত্ত প্রহারে দিল্লিতে মৃত্যু মণিপুরের সংগীতশিল্পীর । আইনশৃঙ্খলা নিয়ে শাহকে প্রশ্ন রাহুলের
মণিপুরের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী সি. বিক্রম সিংকে দিল্লিতে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগকে কেন্দ্র করে নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে সরব হলেন কংগ্রেস নেতা তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি। এই ঘটনায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং দিল্লি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেশে, বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষের বিরুদ্ধে ‘বাড়তে থাকা আইনশৃঙ্খলার অবনতি’ মোকাবিলায় সরকার কী পদক্ষেপ করছে, তা জানতে চেয়েছেন । একই সঙ্গে দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন রাহুল।
৫৪ বছর বয়সি সি. বিক্রম সিং মণিপুরের বাসিন্দা ছিলেন এবং দিল্লির কিলোকরি গ্রামের একটি আবাসনে বেশ কয়েক বছর ধরে বসবাস করছিলেন। সোমবার ভোরে তাঁর বাড়ির বাইরে একদল ডেলিভারি কর্মী এবং ধাবার কর্মচারীর সঙ্গে বচসার পর তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, ওই ব্যক্তিরা তাঁর বাড়ির বাইরে উচ্চস্বরে কথা বলছিলেন এবং মদ্যপান করছিলেন। শব্দ কমানোর জন্য তাঁদের বলতে নিচে নেমেছিলেন বিক্রম সিং।
অভিযোগ, এরপরই ওই ব্যক্তিরা তাঁকে ঘিরে ধরে মারধর করেন। ঘুষি ও তীব্র আঘাতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে তাঁর ছেলে ইয়াইফাবা তাঁকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যেই সাতজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি এক নাবালককেও আটক করা হয়েছে।
এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে রাহুল গান্ধি মঙ্গলবার সমাজমাধ্যম ‘এক্স’-এ লেখেন, “মণিপুরের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী চোংথাম বিক্রম সিংজি তাঁর বাড়ির বাইরে কয়েকজনকে শব্দ কমাতে বলতে নিচে নেমেছিলেন। তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “একজন বাবা, নিজের বাড়ির সামনে, নিজের দেশের রাজধানীতে খুন হলেন।”
রাহুলের বক্তব্য, দিল্লিতে বসবাসকারী উত্তর-পূর্ব ভারতের পরিবারগুলির মধ্যেও এই ঘটনার পর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, “এমন বহু ঘটনার পর আজ দিল্লিতে বসবাসকারী উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রতিটি পরিবার একই প্রশ্ন করছে—আমরা কি এখানে নিরাপদ?”
রাহুল গান্ধি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মন্ত্রক এবং দিল্লি পুলিশের উদ্দেশে প্রশ্ন তোলেন, উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষদের বিরুদ্ধে ঘটে চলা এই ধরনের ঘটনা এবং দেশে ‘বাড়তে থাকা আইনশৃঙ্খলার অবনতি’ মোকাবিলায় তাঁরা কী করছেন।
তিনি দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেন, ঘটনার জন্য যারা দায়ী, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি বিক্রম সিংয়ের পরিবারের প্রতি সমবেদনাও জানান তিনি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিক্রম সিংকে মারধরের ঘটনা সম্পর্কে সোমবার ভোরে সানলাইট কলোনি থানায় একটি পিসিআর কল আসে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, বিক্রম সিং মেইতেই সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং বেশ কয়েক বছর ধরে কিলোকরি গ্রামে বসবাস করছিলেন।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, তাঁর বাড়ির বাইরে একদল ব্যক্তি মদ্যপান করে হইচই ও গোলমাল করছিলেন। বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে তাঁদের শব্দ কমাতে বলেছিলেন বিক্রম। অভিযোগ, এরপরই তাঁকে ঘুষি ও অন্যান্যভাবে মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরে তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং হামলার সঙ্গে বিক্রম সিংয়ের মৃত্যুর সম্পর্ক খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের নর্থ ইস্ট স্টুডেন্টস সোসাইটি (NESSDU)-ও বিক্রম সিংয়ের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছে। সংগঠনটি তাঁকে “সম্মানিত মণিপুরি সংগীতশিল্পী” হিসেবে উল্লেখ করেছে।
NESSDU-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাথমিকভাবে যে তথ্য পাওয়া গিয়েছে, সেই অনুযায়ী বিক্রম সিং তাঁর আবাসনের বাইরে একদল ব্যক্তিকে মদ্যপান করতে এবং গোলমাল করতে দেখে তাঁদের শব্দ কমাতে বলতে নিচে গিয়েছিলেন। এরপরই তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি পরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
ঘটনাটি ঘিরে দিল্লিতে বসবাসকারী উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং পুলিশি ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
❤ Support Us






