Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬

জিটিএ দুর্নীতিতে কড়া অবস্থান,‘এফআইআর, গ্রেফতারের হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
জিটিএ দুর্নীতিতে কড়া অবস্থান,‘এফআইআর, গ্রেফতারের হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

জিটিএ-র দুর্নীতি নিয়ে ফের কড়া অবস্থান জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাহাড়ের উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোনও ধরনের দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি। জিটিএ-র দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত হবে, এফআইআর দায়ের করা হবে এবং প্রয়োজন হলে অভিযুক্তদের গ্রেফতারও করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুধু তাই নয়, দুর্নীতির মাধ্যমে যে অর্থ লুট হয়েছে, সেই টাকা ফেরত নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, পাহাড়ের উন্নয়নই তাঁর সরকারের প্রধান লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য পূরণে কোনও অনিয়ম বা দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। জিটিএ-র বাজেট দ্বিগুণ করা হয়েছে বলেও এদিনের বৈঠকে উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি কালিম্পংয়ে একটি মেডিক্যাল কলেজ গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। এ জন্য ভূমিপুজোর আয়োজন করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এদিন উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কপ্টারে করে কালিম্পং যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পাহাড়ি এলাকায় ঘন কুয়াশার কারণে চপার অবতরণে সমস্যা দেখা দেয়। বেশ কিছুক্ষণ আকাশে চক্কর কাটার পর শেষ পর্যন্ত কপ্টারটি শিলিগুড়িতে ফিরে আসে। এরপর পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী উত্তরকন্যায় প্রশাসনিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন তিনি।

রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই জিটিএ-র দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এর আগে উত্তরবঙ্গ সফরে এসে প্রথমবার উত্তরকন্যায় প্রশাসনিক বৈঠক করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেই সময় পাহাড় সমস্যার স্থায়ী সমাধানের বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি জিটিএ-র দুর্নীতি নিয়েও সরব হয়েছিলেন তিনি। তখনই পাহাড়ে প্রশাসক বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এবার সেই প্রশাসক কাজ শুরু করেছেন।

এদিনের প্রশাসনিক বৈঠকে জিটিএ-র পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টি, বিভিন্ন এলাকায় ধস এবং তিস্তার পরিস্থিতি নিয়ে আধিকারিকদের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। মালদহের বন্যা পরিস্থিতি নিয়েও খোঁজ নেন তিনি এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন।

জিটিএ-র দুর্নীতির প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জিটিএ-র ১১টি বোর্ডের অর্থ নয়ছয় করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাহাড়ে পানীয় জল, শিক্ষক নিয়োগ-সহ একাধিক ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তাঁর অভিযোগ, বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারি অর্থ লুট হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, এই সমস্ত দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত করা হবে। প্রয়োজনে এফআইআর দায়ের করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারির পদক্ষেপও করা হবে। দুর্নীতির মাধ্যমে যে অর্থ আত্মসাৎ বা লুট করা হয়েছে, তা উদ্ধার করে ফেরত নেওয়া হবে বলেও জোর দিয়ে জানিয়েছেন তিনি।

পাহাড়ের উন্নয়নে অর্থের কোনও অভাব হবে না, তবে সেই অর্থের অপব্যবহারও বরদাস্ত করা হবে না—জিটিএ-র দুর্নীতি নিয়ে এদিনের বার্তায় কার্যত সেই অবস্থানই স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!