- দে । শ
- সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬
আইএসএফের প্রতীক বদল, নির্বাচন কমিশনকে প্রশ্ন হাই কোর্টের ?
আগামী ৬ অক্টোবর রাজ্যের দুই বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন। তার আগে ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ)-এর নির্বাচনী প্রতীক বদলকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলল কলকাতা হাই কোর্ট। গত বিধানসভা নির্বাচনে যে ‘খাম’ প্রতীকে লড়েছিল আইএসএফ, কয়েক মাসের ব্যবধানে সেই প্রতীক অন্য একটি রাজনৈতিক দলকে বরাদ্দ করা এবং আইএসএফকে ‘আলমারি’ প্রতীক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে বৃহস্পতিবার তীব্র প্রশ্নের মুখে পড়ে কমিশন।
নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় নওশাদ সিদ্দিকীর দল আইএসএফ। বুধবার মামলাটির শুনানিতে আদালত কমিশনের কাছে এ বিষয়ে রিপোর্ট তলব করেছিল। বৃহস্পতিবার বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের বেঞ্চে মামলাটি ফের শুনানির জন্য ওঠে।
এ দিন শুনানিতে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে আদালত। বিচারপতি কমিশনের উদ্দেশে জানতে চান, “চার মাস আগে একটি প্রতীক দিলেন। সেই দল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করল। আর এখন উপনির্বাচনে দলের প্রতীক নিয়ে নিলেন? কেন আপনারা ওই প্রতীক সংরক্ষণ করলেন না? এটা কী ধরনের আচরণ? যেন নির্বাচন শুরু হল, আর খেলাও শুরু হয়ে গেল।”
গত বিধানসভা নির্বাচনে আইএসএফ ‘খাম’ প্রতীকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও এই প্রতীকটি আইএসএফ ‘ফ্রি সিম্বল’ হিসেবে ব্যবহার করেছিল। কিন্তু আসন্ন উপনির্বাচনে সেই ‘খাম’ প্রতীক আইএসএফের বদলে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’-কে বরাদ্দ করেছে কমিশন। আইএসএফের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ‘আলমারি’ প্রতীক।
আইএসএফের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তিনি যুক্তি দেন, কমিশন চাইলে ‘খাম’ প্রতীকটি সব দলের জন্যই ফ্রিজ করে রাখতে পারত। সেক্ষেত্রে ভোটারদের মধ্যে প্রতীক নিয়ে বিভ্রান্তির সম্ভাবনাও থাকত না।
অন্য দিকে, নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী আদালতে জানান, আইএসএফ কমিশনের খাতায় স্বীকৃত রাজনৈতিক দল নয়। ফলে তাদের কোনও সংরক্ষিত নির্বাচনী প্রতীক নেই। এর আগে আইএসএফকে ‘খাম’ প্রতীক দেওয়া হয়েছিল ‘ফ্রি সিম্বল’ হিসেবে এবং বর্তমানেও তারা সেই প্রতীক দাবি করতে পারে। কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, সংরক্ষিত প্রতীক কেবল স্বীকৃত রাজনৈতিক দলগুলির জন্যই বরাদ্দ থাকে।
কমিশনের এই বক্তব্যের পর আদালত স্পষ্ট করে জানায়, প্রতীক সংক্রান্ত নিয়মের ব্যাখ্যায় না গিয়ে মূল প্রশ্নটি হল—একটি সাধারণ নির্বাচনে কোনও দলকে একটি প্রতীক দেওয়ার পর মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে উপনির্বাচনে কেন সেই প্রতীক থাকবে না। বিচারপতি বলেন, “আপনাদের নিয়মে থাকতেই পারে। আমার সেই নিয়মের মধ্যে যাচ্ছি না। মূল নির্বাচনে প্রতীক দেওয়া হলে কয়েক মাস পরে উপনির্বাচনে সেই প্রতীক থাকবে না কেন? এটা তো কোনও নতুন নির্বাচন নয়!”
কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তোলে আদালত। বিচারপতির মন্তব্য, “আপনারা সব সময় এমন বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেন কেন! পিঞ্চ করতে লিগ্যাল প্রসিডিং করেন? ১৮৩টি প্রতীক আছে। যেই নির্বাচন শুরু হয়, আপনারা সিদ্ধান্ত নেন… আর সব রাজনৈতিক দল আদালতে চলে আসে।”
আদালত আরও জানতে চায়, উপনির্বাচনের ক্ষেত্রে কেন ‘খাম’ প্রতীকটি অন্য কোনও দলের মতো ফ্রিজ করে রাখা হল না। বিচারপতির মন্তব্য, “কমিশনের উচিত নিরপেক্ষ হয়ে কাজ করা। মাত্র চার মাস আগে যে প্রতীক একটি দল ব্যবহার করেছিল, সেটা বদলে গেল? এখন রুল, আইন দেখাচ্ছেন?”
এ দিনের শুনানিতে ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’-এর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলে আদালত। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের হয়ে আইনজীবী বিশ্বরূপ ভট্টাচার্য আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাঁকে বিচারপতি প্রশ্ন করেন, “আপনারা যখন জানেন এটা অন্য দলের, আপনারাই বা কেন ‘খাম’ চাইলেন?”
জবাবে বিশ্বরূপ ভট্টাচার্য জানান, তাঁদের দল নির্বাচন কমিশনের কাছে তিনটি প্রতীকের প্রস্তাব দিয়েছিল। সেই তিনটির মধ্যে থেকেই কমিশন তাঁদের জন্য ‘খাম’ প্রতীক নির্ধারণ করেছে।
এদিকে, আইএসএফের প্রতীক বদলের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কোনও বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল কি না, তা-ও জানতে চেয়েছে আদালত। এ বিষয়ে শুক্রবারের মধ্যে আদালতকে বিস্তারিত জানানোর জন্য কমিশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ফলে আগামী উপনির্বাচনের আগে আইএসএফের ‘খাম’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বৈধতা ও প্রক্রিয়া নিয়ে হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
❤ Support Us






