Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • অক্টোবর ১, ২০২৬

জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে আরও জোরদার আন্দোলন ! ৬ অক্টোবর নির্বাচন সদন অভিযান ‘ইন্ডিয়া’ জোটের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে আরও জোরদার আন্দোলন ! ৬ অক্টোবর নির্বাচন সদন অভিযান ‘ইন্ডিয়া’ জোটের

‘ভোটচুরি’র অভিযোগ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিকে সামনে রেখে আন্দোলন আরও জোরদার করার ঘোষণা দিল বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোট। অক্টোবর ও নভেম্বর মাসজুড়ে দেশব্যাপী একাধিক কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেছে বিরোধী দলগুলি। আগামী ২ অক্টোবর, মহাত্মা গান্ধীর জন্মজয়ন্তী থেকে শুরু হবে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা’, যা চলবে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত। কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্ব হিসেবে ৬ অক্টোবর দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সদর দফতর ‘নির্বাচন সদন’ পর্যন্ত মিছিল করে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মিছিলে বিরোধী সাংসদেরা অংশ নেবেন বলে জানা যাচ্ছে।

সম্প্রতি দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠক বসে। কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, সিপিএম-সহ মোট ১৯টি দলের প্রতিনিধিরা বৈঠকে অংশ নেন। তবে বৈঠকে উপস্থিত ছিল না এমকে স্ট্যালিনের দল ডিএমকে এবং অরবিন্দ কেজরীবালের আম আদমি পার্টি (আপ)। সকাল ১১টা নাগাদ বৈঠক শুরু হয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলে। বৈঠক শেষে দুপুর আড়াইটে নাগাদ বিরোধী দলগুলির পক্ষ থেকে যৌথ সাংবাদিক বৈঠক করা হয়। সাংবাদিক বৈঠকে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের পরবর্তী কর্মসূচিগুলি ঘোষণা করেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে। তাঁর পরে বক্তব্য রাখেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বক্তব্যে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, বাংলায় ‘লুট’ হয়েছে এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে মমতা বলেন, তিনি পদত্যাগ না করলে আন্দোলনের তীব্রতা আরও বাড়ানো হবে। মমতা তাঁর বক্তব্যে জ্ঞানেশ কুমারকে ‘চোর’ বলেও মন্তব্য করেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে ইভিএম পোড়ানোর অভিযোগ তোলেন। এর পর বক্তব্য রাখেন রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, দেশের গণতন্ত্রকে যারা ধ্বংস করেছে, তাদের শাস্তি নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে। কোনও ব্যক্তি কত বড় পদে রয়েছেন, সেটি মুখ্য নয়  — দেশের গণতন্ত্র কোনো একজন ব্যক্তির চেয়ে অনেক বড়ো বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বৈঠকের শুরুতেই বিরোধী ঐক্যের বার্তা দেন মল্লিকার্জুন খড়্গে। তিনি জানান, বিরোধী দলগুলি এই লড়াই একসঙ্গে চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নিয়ে নিজেদের উদ্বেগের কথা জানাতে অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সময় চাওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। খড়্গে জানান, রাহুল গান্ধী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্থাপিত ‘ভোটচুরি’র অভিযোগের প্রতিবাদে অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে দেশজুড়ে পাঁচটি বড় সভা করবে ‘ইন্ডিয়া’। তবে সভাগুলির নির্দিষ্ট সময় ও স্থান পরে ঠিক করা হবে। পাশাপাশি, আগামী ১ জানুয়ারি দিল্লিতে একটি বড় কর্মসূচি করার পরিকল্পনাও জানানো হয়েছে।

নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ঘিরে আদালতে চলা মামলাগুলির প্রসঙ্গও ওঠে বৈঠকে। খড়্গে জানান, সুপ্রিম কোর্টে ‘এসআইআর’ এবং নির্বাচনী ব্যবস্থায় কারচুপির অভিযোগ সংক্রান্ত যে মামলাগুলি রয়েছে, সেগুলির দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আবেদন জানানো হবে। নির্বাচন কমিশনের ভিতরে কয়েক জনকে ‘দাবার বোড়ে’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁদের নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছেন।

বৈঠকের পর বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে একাধিক দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—

  • আগামী দিনে যে সমস্ত নির্বাচন হবে, সেগুলিতে ‘এসআইআর’-এর আগে থাকা ভোটার তালিকাকে ভিত্তি করে ভোটগ্রহণের দাবি।
  • কোনো ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ভোটারকে পর্যাপ্ত কারণ জানিয়ে নোটিস দেওয়ার দাবি।
  • প্রশাসনিক ব্যর্থতা, প্রয়োজনীয় নথির অভাব কিংবা সচেতনতার ঘাটতির কারণে যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের আইনি সুরক্ষা দেওয়ার দাবি।
  • ইভিএমের পরিবর্তে ব্যালট পেপারে ভোটগ্রহণের দাবি।

বুধবারের বৈঠকে সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব নিজে উপস্থিত না থাকলেও তাঁর দলের প্রতিনিধি বৈঠকে যোগ দেন। উপস্থিত ছিলেন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি, সিপিআই(এমএল)-এর সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য, ন্যাশনাল কনফারেন্সের নেতা ওমর আবদুল্লা, পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি এবং এনসিপি (এসপি)-র সুপ্রিয়া সুলে-সহ বিরোধী শিবিরের একাধিক শীর্ষ নেতা। বৈঠকে সনিয়া গান্ধীর দু-পাশে বসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও মেহবুবা মুফতি। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, দোলা সেন, ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের সূত্রের দাবি, বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে ‘স্বৈরতন্ত্র’ চালানোর অভিযোগ তোলেন। তাঁকে বাড়ি থেকে বেরোতে দেওয়া হচ্ছে না বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন বলে ওই সংবাদমাধ্যমগুলির প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, ‘ভোটচুরি’র অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধন এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আগামী কয়েক মাস দেশজুড়ে ধারাবাহিক রাজনৈতিক কর্মসূচির পথে এগোতে চাইছে ‘ইন্ডিয়া’ জোট। অক্টোবরের শুরুতেই ‘গণতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা’ এবং ৬ অক্টোবর নির্বাচন সদন অভিমুখে মিছিলের মধ্য দিয়ে সেই কর্মসূচির সূচনা হতে চলেছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!