Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • অক্টোবর ১, ২০২৬

‘ইউপিএসসি’-র একশো বছর উদযাপন ! নিয়োগ পদ্ধতিতে পরিবর্তনের পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর, দ্রুত সংস্কারের পথে কমিশন ?

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
‘ইউপিএসসি’-র একশো বছর উদযাপন ! নিয়োগ পদ্ধতিতে পরিবর্তনের পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর, দ্রুত সংস্কারের পথে কমিশন ?

১ অক্টোবর, ‘ইউপিএসসি’-র শতবর্ষ । ১৯২৬ সালে এ দিনেই প্রতিষ্ঠিত হয় ভারতের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক নিয়োগ সংস্থা । তখন সেটি ছিল মূলত একটি পরামর্শদাতা সংস্থা । স্বাধীনতার পরে দেশের সাংবিধানিক কাঠামোয় তার চরিত্র বদলায় । পরবর্তীতে, ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি ভারতের সংবিধান কার্যকর হওয়ার পর এটি ‘ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন’ নামে আত্মপ্রকাশ করে । তার পর কেটে গিয়েছে একশো বছর । পরিকল্পিত অর্থনীতি থেকে উদারীকরণ, তার পর ডিজিটাল অর্থনীতি — দেশের প্রশাসনিক প্রয়োজনও বদলেছে বার বার। বদলেছে সরকারি পরিষেবার পরিধি। বদলেছে প্রযুক্তি। বদলেছে নাগরিকের প্রত্যাশা ।

দিল্লির ভারত মণ্ডপমে শুরু হয়েছে কমিশনের শতবর্ষ উদ্‌যাপন। ‘মন্থন’ নামের দু-দিনের এই অনুষ্ঠানে প্রশাসনের ভবিষ্যৎ, সিভিল সার্ভিসের ভূমিকা, প্রযুক্তির ব্যবহার, নিয়োগ প্রক্রিয়ার সংস্কার এবং জনসেবার পরিবর্তনশীল ধারণা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।  বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শতবর্ষ উপলক্ষে প্রকাশ করা হয়েছে স্মারক মুদ্রা এবং ডাকটিকিট। প্রকাশিত হয়েছে ‘১০০ ল্যান্ডমার্ক জাজমেন্টস: শেপিং দ্য পলিসিস অফ ইউপিএসসি অ্যান্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশনস ইন ইন্ডিয়া’  নামের একটি বইও। ‘ইউপিএসসি’-র শতাব্দী প্রাচীন পথচলার গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলি নিয়ে একটি বিশেষ গ্যালারিও তৈরি করা হয়েছে।

আমলা নিয়োগের ধারাবাহিক ইতিহাস, বর্তমান পরিস্থিতি, ভবিষ্যত পরিকল্পনা আর দেশ গঠনে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ভূমিকা সহ নানা বিষয়ে স্মৃতিমন্থনে এদিন দিল্লিতে অনন্য এক পরিবেশ।  অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ ইউপিএসসি-র ঐতিহ্যের উৎসব। ১০০ বছর ধরে জনগণ এ সংস্থার উপর আস্থা রেখেছে। বিকশিত ভারতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন সিভিল কর্মকর্তারা। আগামী যাতে এ ধারা অব্যহত থাকে তার জন্য সুষ্ঠু প্রশাসনের প্রয়োজন। তার ব্যবস্থা করবে ইউপিএসসি। তবে এর নিয়োগ পদ্ধতির পরিবর্তন প্রয়োজন।’

কমিশনও বার্তা দিয়েছে, ভারতের সর্বোচ্চ কঠিন পরীক্ষার খাতায় মুখস্থ করা বা প্রশিক্ষণ দিয়ে তৈরি করে দেওয়া ‘মডেল উত্তর’ লিখলেই চলবে না। পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত ভাবতে পারা, যুক্তি দিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছনো এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করার ক্ষমতাও যাচাই করতে হবে। অর্থাৎ, কোনো নির্দিষ্ট প্রশ্নের মুখস্থ উত্তর জানা আছে কি না, তার পাশাপাশি নতুন পরিস্থিতিতে প্রার্থী কী ভাবে ভাবছেন, সমস্যাকে কী ভাবে বিশ্লেষণ করছেন এবং অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে কী ভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন — সে ক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ। আগামী দিনের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় প্রার্থীদের কোন ধরনের দক্ষতা বেশি গুরুত্ব পাবে, তা নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ‘ইউপিএসসি’’-র চেয়ারম্যান অজয় কুমার স্পষ্ট করে দিয়েছেন, পরীক্ষার ধরন ও প্রযুক্তি বদলালেও মেধা, ন্যায্যতা ও সমান সুযোগের মতো সাংবিধানিক মূল নীতিগুলি অটুট থাকবে।

অজয় কুমারের বক্তব্যে উঠে এসেছে তিনটি মূল শব্দ — ‘বিশ্বাস’, ‘স্বচ্ছতা’ আর ‘প্রযুক্তি’। তাঁর মতে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিষ্ঠানকে বদলাতে হবে। প্রযুক্তি বদলাবে, পরীক্ষার ধরন বদলাবে, প্রশাসনিক প্রয়োজনও বদলাবে। কিন্তু ‘ইউপিএসসি’-র সাংবিধানিক দায়িত্বের ভিত্তি বদলানো যাবে না। মেধা, ন্যায্যতা আর সকলের জন্য সমান সুযোগ—এই নীতিগুলিই নিয়োগ প্রক্রিয়ার ভিত্তি হয়ে থাকবে।  পরীক্ষার নিরাপত্তা এবং স্বচ্ছতা বাড়াতেও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর কথা জানিয়েছে কমিশন। ডিজিটাল ই-অ্যাডমিট কার্ড এবং মুখমণ্ডল শনাক্তকরণ ব্যবস্থার মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরীক্ষার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ঠেকানোর উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই একাধিক ক্ষেত্রে প্রযুক্তিনির্ভর সংস্কার করেছে ‘ইউপিএসসি’।

‘ইউপিএসসি’-র কাজ যে শুধু সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা নেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, শতবর্ষের অনুষ্ঠানে সে বিষয়টিও সামনে এসেছে। অজয় কুমার জানিয়েছেন, প্রতি বছর প্রায় ২৫০টি পৃথক নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালনা করে কমিশন। ইঞ্জিনিয়ারিং, চিকিৎসা, বিজ্ঞান, অর্থনীতি, প্রতিরক্ষা-সহ নানা ক্ষেত্রের জন্য নিয়োগ পরীক্ষা ও বাছাই প্রক্রিয়া পরিচালনা করতে হয় তাদের। এর পাশাপাশি প্রতি বছর সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষা নেয় এ সংস্থা। সে পরীক্ষার মাধ্যমেই আইএস, আইপিএস, আইএফএস, আইআরএস –সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবার জন্য আধিকারিক বেছে নেওয়া হয়। কমিশনের কাজের পরিধি যে কতখানি বৃহৎ, তার আরও একটি উদাহরণ দিয়েছেন চেয়ারম্যান। তাঁর বক্তব্য, ইউপিএসসি-র পরীক্ষার ক্যালেন্ডার প্রায় ১৮ মাস আগে তৈরি করতে হয়। অর্থাৎ একটি পরীক্ষা নেওয়ার পিছনে দীর্ঘ সময় ধরে পরিকল্পনা, পরিকাঠামো তৈরি এবং প্রশাসনিক  প্রস্তুতি চলে।

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় একাধিক পরিবর্তন এনেছে ‘ইউপিএসসি’। ২০২৫ সালে চালু হয়েছে ‘ইউনিভার্সাল রেজিস্ট্রেশন নম্বর’। ইন্টারভিউ বোর্ডে ‘র‍্যান্ডমাইজেশন’-এর ব্যবস্থাও করা হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের সমস্যা দ্রুত মেটাতে চালু হয়েছে ক্যান্ডিডেট হেল্পডেস্ক। রয়েছে ৩০-চ্যানেলের আইপি কল সেন্টার এবং দুই স্তরের অভিযোগ নিষ্পত্তি বা এসক্যালেশন ব্যবস্থা। পরীক্ষাকেন্দ্রের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়ানোর পাশাপাশি পরীক্ষার প্রক্রিয়াকে কাগজমুক্ত করার দিকেও এগোচ্ছে কমিশন। ২০২৬ সালে সিভিল সার্ভিসেস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রভিশনাল আনসার কী প্রকাশের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। ‘পেপারলেস ডিপিসি’ প্রক্রিয়ার দিকেও এগোনো হচ্ছে। শতবর্ষের আলোচনায় শুধু পরীক্ষার সংস্কার নয়, আগামী দিনের সরকারি পরিষেবা কেমন হবে, সেই প্রশ্নও উঠে এসেছে।‘বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে আমলাদের ভূমিকা’ শীর্ষক অধিবেশনে ‘ইউপিএসসি’-র সদস্য সুমন শর্মা বলেন, প্রশাসনকে শুধুমাত্র নিয়ম ও প্রক্রিয়া মেনে চলার মধ্যে আটকে থাকলে চলবে না। মানুষের জীবনে প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বাস্তব প্রভাব কতটা পড়ছে, তার উপর গুরুত্ব দিতে হবে। অর্থাৎ, কোনো প্রকল্পে কত টাকা খরচ হল, শুধু সেই হিসাব দিয়ে প্রশাসনের সাফল্য বিচার না করে, সে প্রকল্পের ফলে মানুষের জীবনে কী পরিবর্তন এল, তা দেখার প্রয়োজন রয়েছে।

চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল এন এস রাজা সুব্রহ্মণ্যনও প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে ‘সিলো’ বা বিভাগগত বিচ্ছিন্নতা কাটিয়ে ওঠার প্রসঙ্গ। দ্রুত বদলে যাওয়া পরিস্থিতিতে বুদ্ধিদীপ্ত ঝুঁকি নেওয়া এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি। একই সঙ্গে নাগরিক ও সামরিক ক্ষেত্রের মধ্যে বাড়তে থাকা পারস্পরিক যোগাযোগের কথাও আলোচনায় আসে। সংসদ সদস্য এবং প্রাক্তন বিদেশসচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দেশের ছোটো শহর ও জেলাগুলির প্রতিনিধিত্ব আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। প্রান্তিক জেলাগুলি থেকে আরও বেশি প্রার্থীকে সরকারি পরিষেবায় আনার উপর জোর দেন তিনি। তরুণদের আরও বেশি করে জনসেবায় যুক্ত করার কথাও বলেন শ্রিংলা। উত্তরপ্রদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান সঞ্জয় শ্রিনেত বলেন, প্রশাসনের জবাবদিহি তৃণমূল স্তর পর্যন্ত পৌঁছতে হবে। প্রশাসককে প্রকৃত অর্থেই ‘জনসেবক’ বা ‘সেবক’ হয়ে উঠতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

‘পাবলিক সার্ভিসে উদ্ভাবন’ শীর্ষক দ্বিতীয় অধিবেশনে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল প্রযুক্তি। ‘ইউপিএসসি’-র সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজ শুক্ল (অবসরপ্রাপ্ত)-এর সভাপতিত্বে ওই অধিবেশনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা অ্যানালিটিক্স এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রীর প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি-২ শক্তিকান্ত দাস ‘ইউপিএসসি’-কে ‘জনসেবার প্রবেশদ্বার’ হিসেবে উল্লেখ করেন। সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে সততা এবং ন্যায্যতার গুরুত্বের কথাও বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বক্তব্যেও প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের প্রসঙ্গ উঠে আসে। ভবিষ্যতের সরকারি আধিকারিকদের সামনে তথ্যযুদ্ধ, ডিপফেক, অ্যালগরিদমিক পক্ষপাত এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের মতো নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ আসতে পারে বলে জানান তিনি। সে কারণে সিভিল সার্ভিসের পরীক্ষা ও প্রশিক্ষণে জটিল সমস্যা সমাধান ও দীর্ঘমেয়াদি চিন্তাভাবনার উপর আরও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, একটি পরীক্ষা নেওয়াকে শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট দিনের ঘটনা হিসেবে দেখলে হবে না। নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হতে দীর্ঘ সময় লাগলে তার আর্থিক ও মানসিক চাপ পড়ে পরীক্ষার্থী এবং তাঁদের পরিবারের উপর। কোচিংয়ের খরচ, বাড়িভাড়া, যাতায়াত—পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং নিয়োগের অপেক্ষায় এই সব খরচ বহন করতে হয় প্রার্থীদের। তাই পরীক্ষার গোটা প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত করার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন পাবলিক সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যেখানে সম্ভব, সেখানে মানদণ্ড বা অভিন্ন পদ্ধতি চালুর সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রযুক্তির ব্যবহার, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং বিভিন্ন কমিশনের সফল পদ্ধতিগুলি একে অপরের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার মাধ্যমে নিয়োগ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা সম্ভব বলে তাঁর বক্তব্য। সরকারি পরিষেবায় নিয়োগের ক্ষেত্রে দুটি নীতিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী— দেশ এবং নাগরিকের স্বার্থকে সামনে রেখেই সরকারি পরিষেবায় দায়িত্ব পালনের মানসিকতা তৈরি করতে হবে।

‘নাগরিক দেবো ভব’-এর উল্লেখ করে নরেন্দ্র মোদি বলেন, প্রশাসনের কেন্দ্রে থাকতে হবে নাগরিককে। শুধুমাত্র সরকারি পরিষেবা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই যথেষ্ট নয়, সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় নাগরিকের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সরকারি আধিকারিকদের জনমুখী, সক্রিয় এবং উদ্ভাবনী হওয়ার উপরও জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে দরিদ্র মানুষের সমস্যাকে কাছ থেকে বোঝা এবং সেই সমস্যার সমাধানে সক্রিয় ভাবে এগিয়ে আসার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি। একই সঙ্গে দেশের পরিবর্তনশীল প্রয়োজন বুঝে আইনের কাঠামোর মধ্যে থেকে নতুন পদ্ধতিতে কাজ করার কথাও বলেন। সিভিল সার্ভিসে মহিলাদের অংশগ্রহণের বৃদ্ধির কথাও তুলে ধরে জানান, বছরের পর বছর সরকারি পরিষেবায় মহিলা প্রার্থীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। ‘ইউপিএসসি’-র চেয়ারম্যান পদেও মহিলারা দায়িত্ব পালন করেছেন বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রতিভাবান প্রার্থীর সংখ্যাও বেড়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, দেশের জন্য এই বৃহত্তর ‘ট্যালেন্ট পুল’ গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। একই সঙ্গে এত বিপুল সংখ্যক প্রার্থীর বাছাই প্রক্রিয়া পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলির দায়িত্বও বেড়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯২৬ সালের ১ অক্টোবর একটি পরামর্শদাতা সংস্থা হিসেবে ভারতের প্রথম পাবলিক সার্ভিস কমিশনের যাত্রা শুরু। পরবর্তী কয়েক দশকে একাধিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে সেই প্রতিষ্ঠানই আজকের ‘ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন’-এ পরিণত হয়েছে। স্বাধীনতার পর দেশের সাংবিধানিক কাঠামোয় ‘ইউপিএসসি’ স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা পায়।১৯৭৮ সালে কমিশনের কাজে কম্পিউটারের প্রবেশ। তার পরে ধাপে ধাপে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার। আর এখন মুখমণ্ডল শনাক্তকরণ, ডিজিটাল অ্যাডমিট কার্ড, অনলাইন পরিষেবা, ডেটা অ্যানালিটিক্স এবং এআই-নির্ভর ভবিষ্যৎ প্রশাসনের আলোচনা। এক শতকের সেই যাত্রার মধ্যেই বদলেছে পরীক্ষা, বদলেছে প্রযুক্তি, বদলেছে প্রশাসনের চাহিদা। কিন্তু মেধা, ন্যায্যতা এবং সমান সুযোগের মতো মৌলিক নীতিগুলিকেই ভবিষ্যতের নিয়োগ ব্যবস্থার ভিত্তি হিসেবে রাখার বার্তা দিয়েছে ‘ইউপিএসসি’। শতবর্ষের ‘মন্থন’-এর আলোচনায় সেই পুরনো প্রতিষ্ঠানই তাই নতুন সময়ের পরীক্ষার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে — শুধু জানা নয়, অজানা পরিস্থিতিতে কী ভাবে ভাবছেন একজন প্রার্থী, আগামী দিনে তার মূল্যায়নও কি সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে ?


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!