- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- অক্টোবর ২, ২০২৬
মস্কোর সঙ্গে বন্ধুত্ব, তবু ইউক্রেন নিয়ে ‘নিরপেক্ষ’ দিল্লি, প্রধানমন্ত্রী মোদির চিন্তাভাবনার প্রশংসা পুতিনের
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সুসম্পর্ক দীর্ঘদিনের। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দুই রাষ্ট্রনেতার ব্যক্তিগত সম্পর্ক আর ভারত-রাশিয়া দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগ আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। এ বার সেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনেই ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ভারতের অবস্থানের প্রশংসা করলেন পুতিন। একই সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ করে শান্তির পথ খোঁজার ক্ষেত্রে মোদীর উদ্যোগ ও চিন্তাভাবনাকেও স্বাগত জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট।
রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের শুরু থেকেই ভারত কোনো পক্ষের সরাসরি সমর্থনে যায়নি। মস্কোর সঙ্গে দীর্ঘদিনের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি দিল্লি বার বার আলোচনার মাধ্যমে সংঘাতের সমাধানের পক্ষে সওয়াল করেছে। ভারতের এই অবস্থানকে রাশিয়া সম্মান করে বলেই জানালেন পুতিন। মস্কোয় অনুষ্ঠিত ভালদাই ফোরাম অফ ইন্টারন্যাশনাল রাশিয়া এক্সপার্টস-এর মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোদির প্রসঙ্গ তোলেন রুশ প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, নরেন্দ্র মোদি এমন রাষ্ট্রনেতাদের মধ্যে অন্যতম, যাঁর সঙ্গে রাশিয়ার অত্যন্ত ভাল ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে এবং যাঁর সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কও যথেষ্ট ঘনিষ্ঠ। কিন্তু সেই সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী বার বার ইউক্রেনের সঙ্গে সংঘাত বন্ধ করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন এবং যুদ্ধ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
পুতিনের বক্তব্য, সব পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য এমন একটি সমাধানের পথ খুঁজে বের করার বিষয়ে মোদির গভীর আগ্রহ রয়েছে। এই বিষয়ে তাঁর চিন্তাভাবনাও যথেষ্ট ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেন রুশ প্রেসিডেন্ট। তাঁর কথায়, মোদি স্বাভাবিক ভাবেই একটি নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণ করে সংঘাত বন্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। পুতিন আরও বলেন, বিষয়টি প্রকাশ্যে বলা তাঁর কর্তব্য, মোদির এই চিন্তাভাবনার জন্য রাশিয়া তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর মস্কোর উপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা চাপায় আমেরিকা-সহ পশ্চিমি দেশগুলি। সেই পরিস্থিতিতে রাশিয়ার কাছ থেকে তুলনামূলক সস্তায় অপরিশোধিত তেল কেনার পরিমাণ বাড়িয়ে দেয় ভারত। দিল্লির এ সিদ্ধান্ত নিয়ে বার বার অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন। আমেরিকার অভিযোগ ছিল, ভারতের রুশ তেল কেনার ফলে মস্কো আর্থিক ভাবে সুবিধা পাচ্ছে এবং সেই অর্থ ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারছে। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই ভারতের উপর উচ্চ হারে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তও নিয়েছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তবে ভারত শুরু থেকেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। দিল্লির বক্তব্য, জাতীয় স্বার্থ এবং আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি বিবেচনা করেই দেশের বাণিজ্যিক ও জ্বালানি নীতি নির্ধারণ করা হয়। ভবিষ্যতেও ভারতের নীতি সেই জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গত কয়েক বছরে একাধিক বার পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। একইসঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কির সঙ্গেও বৈঠক করেছেন তিনি। দুই পক্ষের সঙ্গেই আলোচনায় মোদি সংঘাতের অবসান এবং কূটনৈতিক পথে সমস্যার সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।
সম্প্রতি ব্রিক্স সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে এসেছিলেন পুতিন। সেই সফরেও রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গ ওঠে। প্রধানমন্ত্রী মোদি ফের আলোচনার মাধ্যমে সংঘাতের অবসানের পক্ষে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করেন। ফলে রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেও ইউক্রেন যুদ্ধের ক্ষেত্রে কোনো পক্ষের সরাসরি অবস্থান না নেওয়া এবং শান্তি ও আলোচনার পক্ষে সওয়াল করাই ভারতের কূটনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠেছে। পুতিনের সাম্প্রতিক মন্তব্যে সেই অবস্থানের প্রতিই রাশিয়ার প্রকাশ্য স্বীকৃতি মিলল।
❤ Support Us







