Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • অক্টোবর ৯, ২০২৬

রাজধানীতে তুঙ্গে ‘এসআইআর’ আন্দোলন ! রাষ্ট্রপতি ভবনের দিকে ‘ইন্ডিয়া’ জোট, দিল্লি অবরুদ্ধ করার প্রস্তুতি সিজেপির

ট্রেন বাতিল, বন্ধ মেট্রো । নজিরবিহীন প্রস্তুতি প্রশাসনের, তৈরি হচ্ছে আটক কেন্দ্র

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
রাজধানীতে তুঙ্গে ‘এসআইআর’ আন্দোলন ! রাষ্ট্রপতি ভবনের দিকে ‘ইন্ডিয়া’ জোট, দিল্লি অবরুদ্ধ করার প্রস্তুতি সিজেপির

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে বিরোধীদের ‘ইন্ডিয়া’ জোট। পরপর তিন দিন বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি, বিরোধী সাংসদদের আটক এবং রাজঘাটে অবস্থান কর্মসূচির পর শুক্রবার ফের পথে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিরোধী নেতারা। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চেয়ে আবেদন জানালেও এখনো পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি ভবনের তরফে কোনো উত্তর মেলেনি বলে দাবি বিরোধীদের। এ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি ভবনের দিকে পদযাত্রা থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ — সমস্ত সম্ভাবনাই খোলা রাখছে জোট।

অন্যদিকে, শনিবার, ১০ অক্টোবর যন্তরমন্তরে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ও বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির ডাকা বিক্ষোভ ঘিরে রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নজিরবিহীন ভাবে জোরদার করা হচ্ছে বলে খবর। দিল্লি পুলিশের দাবি, সম্ভাব্য জমায়েতের কারণে আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি বিঘ্নিত হতে পারে। সে আশঙ্কায় কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ২২১টি কোম্পানি, প্রায় ২৩ হাজার কর্মী মোতায়েনের ব্যবস্থা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় আটক কেন্দ্র তৈরি, রেল চলাচল নিয়ন্ত্রণ, হোটেলে নতুন বুকিংয়ে বিধিনিষেধ এবং প্রায় ৪০টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে। যদিও বিরোধীদের অভিযোগ, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার খর্ব করতেই এই কড়াকড়ি।

শুক্রবার বিকেল ৩টেয় সংবিধান সদনের সেন্ট্রাল হলে বৈঠকে বসার কথা ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সাংসদদের। সেখান থেকে রাষ্ট্রপতি ভবনের দিকে মিছিল করা হতে পারে বলে বিরোধী শিবিরের সূত্রে খবর। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি না মিললে পরবর্তী কর্মসূচি কী হবে, তা নিয়েও আলোচনা হতে পারে। সূত্রের দাবি, রাষ্ট্রপতি ভবন ছাড়াও সেবা তীর্থ, উপরাষ্ট্রপতির বাসভবন এবং মোদি ও শাহের বাসভবনকে সম্ভাব্য বিক্ষোভস্থল হিসাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) কে সি বেণুগোপাল বৃহস্পতিবার জানান, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য প্রথম আবেদন পাঠানো হয়েছিল গত ২ অক্টোবর। পরে রাষ্ট্রপতি ভবনের তরফে সাক্ষাতে যোগ দিতে পারেন, এমন নেতাদের নাম চাওয়া হয়। সে অনুযায়ী ৫ অক্টোবর ফের আবেদন জানিয়ে ৭, ৮ অথবা ৯ অক্টোবরের মধ্যে সাক্ষাতের সময় চাওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি। বেণুগোপালের দাবি, ‘এখনো পর্যন্ত কোনো উত্তর আমরা পাইনি। শুক্রবার পর্যন্ত অপেক্ষা করব।’

বিরোধী শিবিরের সূত্রে খবর, ১০টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের নাম রাষ্ট্রপতি ভবনে পাঠানো হয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দিল্লিতে পৌঁছেছেন মমতা। এর আগে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, ‘এসআইআর’ নিয়ে যৌথ ভাবে আন্দোলন চালানো হবে। জনসভা, ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ পদযাত্রা এবং রাষ্ট্রপতির কাছে অভিযোগ জানানোর কর্মসূচিও সে পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত। বৈঠকের পর মল্লিকার্জুন খাড়্গে জানিয়েছিলেন, ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরতে চায় জোট। তাঁর ভাষায়, এই সরকার ‘ভোট চুরির সরকার’। বিরোধীদের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দিতে হবে নির্বাচন কমিশনকে।

বৃহস্পতিবার মহাত্মা গান্ধীর সমাধিস্থল রাজঘাটে অবস্থান বিক্ষোভ করেন বিরোধী নেতারা। প্রধানমন্ত্রী মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলেন তাঁরা। বিরোধীদের দাবি, ‘ভোট চুরি’র মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তাঁরা। রাজঘাটে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি বিজেপি সরকার এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ‘বুদ্ধি ফেরার’ জন্য প্রার্থনা করেন বিরোধী নেতারা। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তাঁরা। এর আগে পরপর দু–দিন দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দফতরের দিকে এগোনোর সময় পুলিশি বাধার মুখে পড়েন বিরোধী সাংসদেরা। রাহুল গান্ধী-সহ একাধিক নেতাকে আটক করে পুলিশ। বিরোধীদের অভিযোগ, সাংসদদের শারীরিক ভাবে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং জোর করে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

‘ইন্ডিয়া’ জোটের আন্দোলনের পাশাপাশি শনিবারের সিজেপি ও বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিল্লির পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। যন্তরমন্তরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা ও ‘এসআইআর’ বাতিলের দাবিতে বড়ো আকারের বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। একাধিক বিরোধী দলের প্রতিনিধিরাও সেখানে যোগ দিতে পারেন বলে খবর। তবে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারায় নিষেধাজ্ঞামূলক নির্দেশের কথা উল্লেখ করে বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ৮ থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত দিল্লি পুলিশের জন্য কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ২২১টি কোম্পানি দিয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ২৩ হাজার কর্মী মোতায়েনের ব্যবস্থা হয়েছে। এর মধ্যে মহিলাদের পাঁচটি আধাসেনা কোম্পানিও রয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীর, পশ্চিমবঙ্গ এবং ছত্তিশগঢড় থেকে সিআরপিএফের বিভিন্ন কোম্পানিকে দিল্লিতে আনা হচ্ছে। পুলিশের দাবি, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক মানুষের জমায়েত হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই দিল্লির প্রবেশপথগুলিতে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। বাইরে থেকে বিক্ষোভকারীদের সংগঠিত ভাবে নিয়ে আসার চেষ্টা হচ্ছে বলে সন্দেহ হলে তাঁদের সীমানাতেই আটকে দেওয়া বা আটক করা হতে পারে।

শুধু রাস্তায় নয়, রেল পরিষেবাতেও বিধিনিষেধের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ আধিকারিকেরা রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে ট্রেন চলাচল নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা করেছেন। তাঁদের দাবি, রাজধানীতে বাইরে থেকে লোকজন আনার সম্ভাবনা নিয়ে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ বিবেচনা করা হচ্ছে। শনিবারের বিক্ষোভের আগে নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন রেল স্টেশনে ট্রেন চলাচল নিয়ে বড়ো সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল। ১০ অক্টোবর ভোর ৪টে থেকে দুপুর ২টো পর্যন্ত ওই দুই স্টেশনে আসা এবং সেখান থেকে ছেড়ে যাওয়া সমস্ত ট্রেন বাতিল করা হয়েছে বলে এক রেল আধিকারিক জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, বিক্ষোভের জেরে যাত্রীদের অসুবিধা কমাতেই এই ব্যবস্থা।  শনিবারের সম্ভাব্য যানজটের কথা মাথায় রেখে শুক্রবারই বাতিল করা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ থেকে ছাড়ার কথা থাকা দু–টি রাজধানী এক্সপ্রেস। পূর্ব রেলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১২৩০১ হাওড়া-নয়াদিল্লি রাজধানী এক্সপ্রেস এবং ১২৩১৩ শিয়ালদহ-নয়াদিল্লি রাজধানী এক্সপ্রেস শুক্রবার যাত্রা শুরু করবে না। নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনের আশপাশে শনিবার যান চলাচল ব্যাহত হতে পারে বলেই এই সিদ্ধান্ত বলে রেল সূত্রে খবর।

দিল্লির বিভিন্ন জেলায় প্রায় ১০টি আটক কেন্দ্র তৈরি করা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। বিক্ষোভ চলাকালীন আটক ব্যক্তিদের রাখার জন্য বাওয়ানার রাজীব গান্ধী স্টেডিয়াম এবং ছত্রশাল স্টেডিয়াম-সহ কয়েকটি নির্দিষ্ট জায়গা প্রস্তুত করা হচ্ছে। নরেলা, পূর্ব দিল্লি এবং উত্তর-পশ্চিম দিল্লিতেও এমন কেন্দ্র তৈরি করা হচ্ছে। মধ্য দিল্লি এবং তার আশপাশের হোটেল, অতিথিশালা ও অন্যান্য আবাসন কর্তৃপক্ষকে নতুন বুকিং বন্ধ রাখা বা সীমিত করার কথা বলা হয়েছে বলে দাবি পুলিশের। পাহাড়গঞ্জের হোটেল মালিকদের নতুন বুকিং না নিতে সতর্ক করা হয়েছে। দক্ষিণ ও উত্তর দিল্লির কয়েকটি এলাকাতেও একই ধরনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে আধিকারিকেরা জানিয়েছেন। এছাড়াও, অ্যাপ-নির্ভর ট্যাক্সি চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে ওলা ও উবেরের মতো সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে পুলিশ। যন্তরমন্তরের দিকের রাস্তাগুলিতে প্রবেশ সীমিত করার প্রস্তুতি চলছে। স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে প্রায় ৪০টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা বা যাত্রীদের প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জুলাই মাসে ‘সিজেপির বিক্ষোভের সময় প্রায় ১৬টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছিল।

বিক্ষোভস্থল এবং আটক কেন্দ্রের আশপাশে ইন্টারনেট পরিষেবা নিয়ন্ত্রণ করা হতে পারে বলেও পুলিশ সূত্রে খবর। বিক্ষোভের ছবি তোলা বা সরাসরি সম্প্রচারের সময় কেউ পুলিশের কাজে বাধা দিলে কিংবা বিধিনিষেধ ভাঙলে তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হতে পারে। তবে শুধু ছবি তোলা বা সরাসরি সম্প্রচার করলেই কাউকে বিক্ষোভকারী হিসাবে গণ্য করা হবে না বলে জানিয়েছেন আধিকারিকেরা। আন্দোলনের খবর সংগ্রহ করতে যাওয়া সাংবাদিকদের বৈধ পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা এবং পুলিশের ব্যারিকেড ও স্পর্শকাতর এলাকায় তা স্পষ্ট ভাবে দেখানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এদিকে, শনিবারের বিক্ষোভের আগে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আন্দোলনকারীদের আটক করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে সিজেপি ও বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলি। সিজেপির সহ-আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কার দাবি, সংগঠনের সহ-দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা দীপক বালিয়ানকে রাজস্থানের আলওয়ারে আটক করা হয়েছিল। মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গে হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবক আটক হয়েছেন বলেও অভিযোগ তাঁর।

বালিয়ানের পরিবারের দাবি, বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ তাঁর বাড়িতে গিয়ে স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকের তলবের কথা জানায়। পরে তিনি পুলিশি পদক্ষেপের ছবি সমাজমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করতে শুরু করলে পুলিশকর্মীরা সেখান থেকে চলে যান বলে অভিযোগ। এর পরে পুলিশ আবার ফিরে এসে তাঁকে ভিডিয়ো মুছে ফেলতে বলে। বালিয়ান তাতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে আটক করা হয় বলে পরিবারের দাবি। তাঁর পায়ে আগে থেকেই চোট ছিল বলেও জানানো হয়েছে। আশুতোষ রাঙ্কা সমাজমাধ্যমে অভিযোগ করেন, বালিয়ানকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার নিয়ে যাওয়ার পর বাড়ির কাছে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া পুণে থেকে দিল্লিগামী সর্বভারতীয় ছাত্র ফেডারেশন বা এআইএসএফের সঙ্গে যুক্ত প্রায় ২২ জন ছাত্রীকে মধ্যপ্রদেশে আটক করে একটি হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসএফআইয়েরও দাবি, দিল্লিতে পৌঁছনো আটকাতে পুলিশ বিভিন্ন ছাত্রনেতা ও আন্দোলনকারীর বাড়িতে গিয়ে তাঁদের পরিবারকে ভয় দেখাচ্ছে।

দিল্লিতে নিরাপত্তা বাহিনীর বিপুল মোতায়েন নিয়ে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ শুক্রবার মোদি সরকারকে কটাক্ষ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘ইন্ডিয়া’ জোটের টানা চার দিনের আন্দোলনের পরে সরকারের ‘আতঙ্ক ও উদ্বেগ’ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অন্য দিকে, সিপিআই(এম)-এর সাংসদ জন ব্রিটাস অভিযোগ করেছেন, ছাত্রছাত্রী ও তরুণদের রাজধানীতে পৌঁছতে বাধা দেওয়ার জন্য সরকার কঠোর পদক্ষেপ করছে। তাঁর দাবি, পুলিশ মসজিদে গিয়েও মানুষকে বিক্ষোভে যোগ না দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে, যা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে পরোক্ষ হুমকির শামিল। বিরোধীদের বক্তব্য, ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা গণতান্ত্রিক অধিকার। সে প্রশ্নের জবাব দেওয়ার বদলে পুলিশি বিধিনিষেধ, আটক এবং বিপুল নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের মাধ্যমে আন্দোলনকে স্তব্ধ করার চেষ্টা হচ্ছে। তবে, সরকারি পক্ষের বক্তব্য, রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়ানোই এ ব্যবস্থার উদ্দেশ্য।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!