- এই মুহূর্তে দে । শ
- অক্টোবর ৯, ২০২৬
রাষ্ট্রপতি ভবনে ‘ইন্ডিয়া’, সন্ধ্যায় মুর্মুর সঙ্গে বৈঠক
এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবি জানাতে শুক্রবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চলেছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। জোটের সূত্রে জানা গিয়েছে, রাষ্ট্রপতি ভবনের তরফে সন্ধ্যা ৮টায় সাক্ষাতের সময় দেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী, ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির কাছে নিজেদের অভিযোগ ও দাবি তুলে ধরবে। সম্ভাব্য প্রতিনিধিদলে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধি , প্রিয়ঙ্কা গান্ধি, মল্লিকার্জুন খাড়্গে এবং তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের থাকার কথা।
এসআইআর প্রক্রিয়া এবং ‘ভোটচুরি’ বিতর্ককে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিরোধীদের অসন্তোষ ক্রমশ বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সময় চেয়েছিল ‘ইন্ডিয়া’ জোট। তবে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি ভবনের তরফে কোনও বার্তা না আসায় সাক্ষাৎ নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল। পরে জোটের সূত্রে জানানো হয়, শুক্রবার রাত ৮টায় সাক্ষাতের সময় নির্ধারিত হয়েছে। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করতে বৃহস্পতিবার বিকেলেই দিল্লি পৌঁছন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর একটি অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসার পর নির্বাচন কমিশনের অন্দরের মতবিরোধ নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সাঁধু এবং বিবেক জোশী কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাঁদের অন্ধকারে রাখার অভিযোগ তুলেছেন। ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা বজায় রাখা, ৬ নম্বর ফর্মের বয়ান বেআইনিভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে কি না এবং এসআইআর প্রক্রিয়ার পর ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া ও নতুন নাম অন্তর্ভুক্ত করার মতো একাধিক বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন ওই দুই কমিশনার। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ১০ মাসে কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁরা ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন।
এই অভিযোগ সামনে আসার পর নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়, কমিশনারদের মধ্যে কোনও বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও শেষ পর্যন্ত ঐকমত্যের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে কমিশনের এই ব্যাখ্যার পরেও বিতর্ক থামেনি। বরং বিরোধী দলগুলি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁর পদত্যাগ ও অপসারণের দাবি আরও জোরালো করেছে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকে জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ওই বৈঠকেই রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিরোধী জোটের সাংসদেরা নির্বাচন সদন অভিযান করেন। বুধবার যন্তর মন্তরকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। বৃহস্পতিবারও জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের প্রতিবাদ অব্যাহত ছিল। আগামী শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের একটি বড় সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।
বিরোধী জোটের বক্তব্য, এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং তালিকা সংশোধনের পদ্ধতি নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার জবাব প্রয়োজন। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়েও রাষ্ট্রপতির কাছে নিজেদের উদ্বেগ জানাতে চান তাঁরা। বিরোধীদের দাবি, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের অপসারণের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা উচিত।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্যোগ সম্পর্কে বৃহস্পতিবার কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল জানিয়েছিলেন, ৭ থেকে ৯ অক্টোবরের মধ্যে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করার জন্য সময় চেয়ে আবেদন জানিয়েছিলেন বিরোধী জোটের নেতারা। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার সন্ধ্যা ৮টায় সাক্ষাতের সময় দেওয়া হয়েছে বলে জোটের সূত্রে জানা গিয়েছে।
এদিনের বৈঠকে বিরোধী প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি রাষ্ট্রপতির সামনে তুলে ধরে জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে পারে। রাহুল গান্ধী, প্রিয়ঙ্কা গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়্গে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো শীর্ষ নেতাদের সম্ভাব্য উপস্থিতিতে এই সাক্ষাৎ রাজনৈতিক গুরুত্ব পেতে চলেছে। এসআইআর নিয়ে বিতর্ক, ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা সংক্রান্ত প্রশ্ন এবং নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের অভিযোগ—এই বিষয়গুলিকে সামনে রেখেই রাষ্ট্রপতি ভবনে নিজেদের বক্তব্য পেশ করতে চলেছে ‘ইন্ডিয়া’ জোট। তবে বিরোধীদের অভিযোগ ও দাবির বিষয়ে রাষ্ট্রপতি বা নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী অবস্থান কী হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
❤ Support Us






