Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • অক্টোবর ১২, ২০২৬

দিল্লিকে ‘কারাগার’ বানানোর অভিযোগ, ‘ভোটচুরি’ বিতর্কে ২০০ আমলা যোগ দাবি রাহুলের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
দিল্লিকে ‘কারাগার’ বানানোর অভিযোগ, ‘ভোটচুরি’ বিতর্কে ২০০ আমলা যোগ দাবি রাহুলের

সাংবাদিক বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার পাশাপাশি দিল্লিতে প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘিরে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়েও সরব হলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুলগান্ধি। তাঁর অভিযোগ, বিরোধী দলের কর্মী-সমর্থকদের রাজধানীতে পৌঁছতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। ট্রেন ও বাস চলাচলেও প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। দিল্লি জুড়ে ব্যারিকেড এবং বিপুল পুলিশ মোতায়েনের প্রসঙ্গ তুলে রাহুল প্রশ্ন করেন, দেশের রাজধানীকে কেন কার্যত কারাগারে পরিণত করা হয়েছে ?

১২ অক্টোবর কংগ্রেসের নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের উদ্দেশে মিছিলের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কথিত অনিয়মের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের দাবিতেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বিরোধীদের অভিযোগ, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে তাঁদের নেতাদের আটক করা হয়েছে। রাহুলের বক্তব্য, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানানোর অধিকার প্রয়োগ করায় বিরোধী নেতাদের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে।

সাংবাদিক বৈঠকে রাহুল গান্ধি দাবি করেন, কেন্দ্রীয় সরকারের প্রায় ২০০ জন আধিকারিক বিরোধী শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি), সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই) এবং বিদেশ মন্ত্রকের মতো গুরুত্বপূর্ণ দফতরের আধিকারিকেরাও এই যোগাযোগের আওতায় রয়েছেন বলে তিনি ইঙ্গিত করেন। ওই আধিকারিকেরা সরকারের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য দিচ্ছেন বলেও দাবি করেন বিরোধী দলনেতা। যদিও এই দাবির সমর্থনে কী কী নথি বা নির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশ্যে এসেছে, তা স্পষ্ট নয়।

নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার এবং সংবিধানের মর্যাদা রক্ষার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান রাহুল। তাঁর বক্তব্য, সংবিধানকে সমুন্নত রাখা এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত দেশের যুবসমাজ আন্দোলন থেকে পিছিয়ে আসবে না। এই লড়াইকে তিনি সংবিধান রক্ষার বৃহত্তর সংগ্রাম হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।

এ দিন সাংবাদিক বৈঠকে একাধিক ভিডিয়ো দেখিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারীদের উপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তোলেন রাহুল। তাঁর দাবি, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মারধর করা হয়েছে। বিশেষ করে মহিলা প্রতিবাদকারীদের উপর পুলিশের নির্যাতনের অভিযোগও করেন তিনি। রাহুলের বক্তব্য, এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে, যাতে অভিভাবকেরা ভয় পেয়ে তাঁদের সন্তানদের আন্দোলনে যোগ দিতে বাধা দেন। তাঁর মতে, দেশের যুবসমাজকে ভয় দেখিয়ে প্রতিবাদ থেকে সরিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে।

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিবাদ কর্মসূচি নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন কংগ্রেস নেতা। তাঁর বক্তব্য, আন্দোলনকারীরা কোন দলের সঙ্গে যুক্ত, তা বড় কথা নয়; সংবিধান ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার দাবিতে সব প্রতিবাদকেই বৃহত্তর আন্দোলনের অংশ হিসেবে দেখা উচিত। কোনও একটি দলের কর্মসূচিকে অন্যদের থেকে আলাদা করে দেখার পক্ষপাতী নন তিনি। রাহুলের মতে, এই প্রতিবাদগুলির মূল উদ্দেশ্য একই।

সাংবাদিক বৈঠক থেকে সাধারণ মানুষের কাছেও সংহতির আবেদন জানান রাহুল গান্ধি। যাঁরা কোনও কারণে মিছিলে যোগ দিতে পারবেন না, তাঁদেরও প্রতিবাদকারীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। সংবিধান রক্ষার পক্ষে নিজেদের অবস্থান প্রকাশ্যে জানানোর পাশাপাশি দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মত প্রকাশ করতে সাধারণ মানুষকে উৎসাহ দেন। সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে তিনি জানতে চান, উপস্থিত কত জন মনে করেন যে দেশে যা ঘটছে, তার সবটাই ন্যায়সংগত ও সঠিক। দিল্লিতে ব্যারিকেড এবং পুলিশের উপস্থিতি প্রসঙ্গে রাহুল বলেন, তাঁদের লড়াই কেবল রাস্তা নিয়ে নয়, মানুষের মন ও চিন্তাভাবনা নিয়েও। অর্থাৎ, জনমত গড়ে তোলাকেই তিনি আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে তুলে ধরেন।

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিরোধী নেতাদের সাক্ষাৎ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাহুল। তাঁর দাবি, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করার বিষয়ে সম্মতি পাওয়া গেলেও পরে প্রধানমন্ত্রীর দফতরের হস্তক্ষেপে সেই বৈঠক আর হয়নি। তবে এই অভিযোগের সমর্থনে সংশ্লিষ্ট যোগাযোগ বা নথির বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ্যে এসেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

এ ছাড়া, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে এবং রাহুল গান্ধি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ জানাতে চেয়েছিলেন বলেও সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধান বিচারপতি প্রশাসনিক স্তরে তাঁদের সঙ্গে বৈঠকে সম্মতি দেননি এবং বিষয়টি বিচারবিভাগীয় প্রক্রিয়ায় তোলার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে কংগ্রেসের আন্দোলন এবং ‘ভোটচুরি’ সংক্রান্ত অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতর অব্যাহত রয়েছে। এর আগে বিরোধী দলগুলি নির্বাচন কমিশনের দফতরের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছে। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস। তাদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকায় অনিয়মের আশঙ্কা রয়েছে এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ নিয়ম মেনেই করা হচ্ছে। মৃত, অন্যত্র স্থানান্তরিত বা একাধিকবার নথিভুক্ত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার মতো কারণেই তালিকায় পরিবর্তন আনা হয় বলে কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে। ফলে ভোটার তালিকা সংশোধনের পদ্ধতি এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ ও নির্বাচন কমিশনের অবস্থানের মধ্যে মতবিরোধ অব্যাহত রয়েছে।

সব মিলিয়ে, ১২ অক্টোবরের সাংবাদিক বৈঠকে রাহুল গান্ধি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, কথিত নির্বাচনী অনিয়মের তদন্ত, প্রতিবাদকারীদের উপর পুলিশের ভূমিকা এবং কেন্দ্রীয় সরকারের আধিকারিকদের সঙ্গে বিরোধীদের যোগাযোগের মতো একাধিক বিষয় সামনে আনেন। কংগ্রেসের ঘোষিত কর্মসূচির মূল দাবি, নির্বাচনী ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ‘ভোটচুরি’র অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করা। তবে রাহুলের তোলা অভিযোগগুলির সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথি, তদন্তের ফলাফল এবং নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!