Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • অক্টোবর ১২, ২০২৬

জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে কেরালা বিধানসভায় প্রস্তাব পাশ

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে কেরালা বিধানসভায় প্রস্তাব পাশ

ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’-কে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বিরোধীদের সংঘাত ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। এ আবহে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবিতে প্রস্তাব পাশ করল কেরলা বিধানসভা। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী ভি ডি সতীশনের পেশ করা প্রস্তাবে শুধু জ্ঞানেশের অপসারণের দাবিই নয়, ভোটার তালিকা থেকে অন্যায় ভাবে বাদ পড়া যোগ্য নাগরিকদের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার কথাও বলা হয়েছে। প্রস্তাবের অন্যতম দাবি, নিয়োগ সংক্রান্ত কমিটিতে প্রধানমন্ত্রী ও লোকসভার বিরোধী দলনেতার পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকেও রাখতে হবে।  

কংগ্রেসের দাবি, দেশের মধ্যে এই প্রথম কোনো রাজ্যের বিধানসভায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের দাবিতে প্রস্তাব পাশ হলো। ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, ভোটার তালিকার নির্ভুলতা ও নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা নিয়ে যে বিতর্ক চলছে, কেরলা বিধানসভার এ পদক্ষেপ তাকে নতুন মাত্রা দিল। কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধীও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে যোগ্য নাগরিকদের ভোটাধিকার খর্ব করার পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। কেরালা বিধানসভায় প্রস্তাবের মূল বক্তব্য, ভোটার তালিকা সংশোধনের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত তালিকাকে নির্ভুল করা। কিন্তু সে প্রক্রিয়ায় যদি কোনো যোগ্য নাগরিকের নাম বাদ পড়ে, তবে তা শুধুমাত্র প্রশাসনিক ত্রুটি বলে এড়িয়ে যাওয়া যায় না। সংশ্লিষ্ট নাগরিকের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি কী ভাবে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো, তা খতিয়ে দেখাও জরুরি। কেরালার কংগ্রেস সরকারের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের উপর মানুষের আস্থা বজায় রাখতে হলে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে।

মুখ্যমন্ত্রী সতীশনের পেশ করা প্রস্তাবে মূলত তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পদক্ষেপের আর্জি জানানো হয়েছে। দ্বিতীয়ত, ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়ায় অন্যায় ভাবে বাদ পড়া সমস্ত যোগ্য ভোটারের নাম পুনরায় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার ও সংশোধন প্রক্রিয়ায় কথিত অনিয়মের নিষ্পত্তির দাবি তোলা হয়েছে। তৃতীয়ত, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ সংক্রান্ত আইন পুনর্বিবেচনা করে নিয়োগ কমিটিতে প্রধান বিচারপতিকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কেরালা সরকারের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে যখন প্রশ্ন উঠছে, তখন শুধু অভিযোগের নিষ্পত্তি করলেই চলবে না, ভবিষ্যতে যাতে একই ধরনের বিতর্ক না তৈরি হয়, তার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাও শক্তিশালী করতে হবে। সে কারণেই নিয়োগ পদ্ধতি পুনর্বিবেচনার দাবি জানানো হয়েছে। তবে বিধানসভায় প্রস্তাব পাশ হওয়া আর মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের অপসারণ এক বিষয় নয়। নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক অবস্থান ও মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের নির্দিষ্ট পদ্ধতি রয়েছে। ফলে কেরালা বিধানসভার প্রস্তাব রাজনৈতিক ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হলেও, এর ফলে স্বয়ংক্রিয় ভাবে জ্ঞানেশ কুমারের পদ খারিজ হচ্ছে না। পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য প্রযোজ্য সাংবিধানিক ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ পদ্ধতি নিয়ে বিরোধীদের আপত্তির কেন্দ্রে রয়েছে ২০২৩ সালের আইন। ওই আইনের আগে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত অন্তর্বর্তী ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী, লোকসভার বিরোধী দলনেতা ও প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে নিয়োগ সংক্রান্ত কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছিল। পরে সংসদে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সে কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হয়। বর্তমান আইনে নিয়োগ কমিটিতে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর মনোনীত এক জন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা। বিরোধীদের অভিযোগ, এ ব্যবস্থায় সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রভাবই নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রাধান্য পাচ্ছে। তাঁদের মতে, নির্বাচন কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি বিরোধী পক্ষ এবং বিচার বিভাগের প্রতিনিধিত্ব থাকা প্রয়োজন। তাতে নিয়োগ প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে, কমিশনের স্বাধীনতা নিয়ে জনমানসে আস্থা জোরদার হবে।

কেরালা বিধানসভার প্রস্তাবেও এ যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ কমিটিতে ফেরানোর দাবি জানিয়ে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করতে নিয়োগ পদ্ধতিতে ভারসাম্য থাকা জরুরি। কমিশনারদের নিয়োগ নিয়ে আপত্তি উঠলেও সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে কেন্দ্রের মতই প্রাধান্য পাচ্ছে বলে বিরোধীদের অভিযোগ। প্রস্তাবের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়ায় কথিত অনিয়মের অভিযোগ। মুখ্যমন্ত্রী সতীশন অভিযোগ করেছেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় স্পষ্ট মানদণ্ড ও যথাযথ আগাম বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। প্রস্তাবে বিশেষ ভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, সংখ্যালঘু, পরিযায়ী শ্রমিক আর তরুণ ভোটারদের নিয়ে। বিরোধীদের বক্তব্য, নথিপত্রের সমস্যা, ঠিকানার পরিবর্তন কিংবা প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে এই সব শ্রেণির নাগরিকদের ভোটার তালিকায় নাম থাকা নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে। তবে কত জন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের মধ্যে কত জন যোগ্য নাগরিক ও কোন ক্ষেত্রে নিয়ম লঙ্ঘন হয়েছে, তা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।  

পাশাপাশি, সফ্‌টওয়্যার ব্যবস্থার মাধ্যমে ভোটার তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে নির্বাচন নিবন্ধন আধিকারিকদের ক্ষমতা খর্ব করা হয়েছে। ১৯৬০ সালের ভোটার নিবন্ধন বিধির পরিপন্থী ভাবে ‘৬ নম্বর ফর্ম’-এও পরিবর্তন আনার অভিযোগ তোলা হয়েছে। নতুন ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করার ক্ষেত্রে এই ফর্ম গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ফর্মের নিয়ম বা যাচাইয়ের পদ্ধতিতে কোনো পরিবর্তন হয়ে থাকলে তার প্রভাব ভোটার তালিকায় নাম তোলার প্রক্রিয়ায় পড়তে পারে। প্রস্তাবে দাবি করা হয়েছে, এই পদক্ষেপগুলিকে ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরেও মতবিরোধের খবর প্রকাশিত হয়েছে। কমিশনের অধিকাংশ সদস্য সংশ্লিষ্ট পদক্ষেপের সঙ্গে সহমত ছিলেন না বলে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। তবে এই অভিযোগগুলির সত্যতা এবং সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রেক্ষাপট নিয়ে আরও তথ্য প্রয়োজন।

অন্যদিকে, কেরালার বিজেপি বিধায়ক ভি মুরলীধরন এ অংশে সংশোধনী আনার প্রস্তাব দেন। তাঁর বক্তব্য, ‘৬ নম্বর ফর্ম’ সংশোধন নিয়ে যে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনকে ভিত্তি করে অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেটিকে নির্বাচন কমিশন নিজেই ভুল বলে চিহ্নিত করেছে। তাই প্রস্তাবে সে বক্তব্যও অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। পাশাপাশি, নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে হেয় করার উদ্দেশ্যে স্বার্থান্বেষী মহলের প্রচেষ্টার নিন্দা জানানোর কথাও সংশোধনীতে যুক্ত করার প্রস্তাব দেন তিনি। ফলে কেরালা বিধানঅভায় ‘এসআইআর’ ঘিরে বিতর্ক শুধু ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার অভিযোগে সীমাবদ্ধ থাকেনি। অভিযোগের ভিত্তি, নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যা এবং সংশোধন প্রক্রিয়ার আইনগত বৈধতা নিয়েও বিধানসভার ভিতরে মতবিরোধ সামনে এসেছে।

১৪০ আসনের কেরালা বিধানসভায় কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্টের (ইউডিএফ) ১০২ জন বিধায়ক রয়েছেন। বিরোধী বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের (এলডিএফ) বিধায়কসংখ্যা ৩৫। বিজেপির রয়েছে ৩ জন বিধায়ক। এই রাজনৈতিক সমীকরণে কংগ্রেস সরকারের প্রস্তাবের পক্ষে বামেদের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছিল। কংগ্রেস সরকার আশা করেছিল, ‘এসআইআর’ নিয়ে নিজেদের পূর্ববর্তী অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাম বিধায়কেরাও প্রস্তাবের পক্ষে থাকবেন। অতীতেও দক্ষিণের এ রাজ্যে রাজনৈতিক বিরোধিতা সরিয়ে রেখে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কংগ্রেস ও বাম শিবির একমত হয়েছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কেরলের তৎকালীন বাম সরকার ‘এসআইআর’ চালুর বিরোধিতা করে বিধানসভায় প্রস্তাব পাশ করিয়েছিল। সে প্রস্তাবে সমর্থন জানিয়েছিল তৎকালীন বিরোধী দল কংগ্রেসও। ফলে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে কেরালার দুই প্রধান রাজনৈতিক শিবিরের আপত্তি নতুন নয়। তবে এ বার সে আপত্তি আরও এক ধাপ এগিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের অপসারণ আর কমিশনারদের নিয়োগ কাঠামো পরিবর্তনের দাবিতে পৌঁছেছে।

সোমবারের প্রস্তাবটি সংশোধনী-সহ পাশ হয়। বিজেপির ৩ বিধায়ক এর বিরোধিতা করেন। তাঁদের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ভিত্তি যাচাই না করে প্রতিষ্ঠানটির বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলা উচিত নয়। অন্যদিকে কংগ্রেস সরকারের যুক্তি, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বলেই নির্বাচন কমিশনের কাজকর্মের সমালোচনার ঊর্ধ্বে থাকার কথা নয়। বরং তার নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর সন্দেহ তৈরি হলে সেই প্রশ্নের জবাব দেওয়া প্রয়োজন। প্রস্তাব পাশের পরে সমাজমাধ্যমে সতীশন বলেন, ‘ভোটাধিকার আমাদের গণতন্ত্রের ভিত্তি। কোনো প্রতিষ্ঠানকে আমাদের নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার খর্ব করতে দেওয়া যায় না। আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। ভোটাধিকার রক্ষা করতেই হবে। সংবিধানকে সমুন্নত রাখতে হবে। গণতন্ত্রের জয় নিশ্চিত করতে হবে। অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পক্ষে কেরলম দৃঢ় ভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে।’

প্রস্তাবে সংবিধানের ৩২৬ নম্বর অনুচ্ছেদের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের ভোটাধিকারের সাংবিধানিক ভিত্তি যে এই অনুচ্ছেদে রয়েছে, তা মনে করিয়ে দিয়ে বলা হয়েছে, ভোটার তালিকা থেকে যোগ্য নাগরিকদের নাম অন্যায় ভাবে বাদ পড়লে তাঁদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এখন দেখার, কেরালা বিধানসভার এই অবস্থানের পরে জাতীয় রাজনীতিতে ‘এসআইআর’ বিতর্ক কোন দিকে গড়ায়। ভোটার তালিকা থেকে যোগ্য নাগরিকদের নাম বাদ পড়ার অভিযোগের নিষ্পত্তি, নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য ও নিয়োগ পদ্ধতি নিয়ে বিরোধীদের দাবির ক্ষেত্রে কেন্দ্র কী অবস্থান নেয়, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের। তবে কেরালা সরকারের বার্তা স্পষ্ট — অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে ভোটাধিকার রক্ষা আর নির্বাচন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের উপর জনসাধারণের আস্থা বজায় রাখা জরুরি।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!