- এই মুহূর্তে দে । শ
- অক্টোবর ১৪, ২০২৬
রেকর্ড মুদ্রাস্ফীতি, বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম, কী বলছে কেন্দ্র ?
দেশে মুদ্রাস্ফীতির হার বৃদ্ধি পাওয়ায় ফের চিন্তা বাড়ছে সাধারণ মানুষের। প্রতিদিনের সংসার খরচ সামলাতে গিয়ে কার্যত হিমশিম খেতে হচ্ছে বহু পরিবারকে। খাদ্য ও পানীয় থেকে শুরু করে পোশাক, পড়াশোনার সামগ্রী ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের খরচ ক্রমশ বাড়ছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, খুচরো মুদ্রাস্ফীতির হার আগস্টের ৪.৮৩ শতাংশ থেকে বেড়ে সেপ্টেম্বরে ৫.৫৪ শতাংশে পৌঁছেছে। কেন্দ্রের পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন মন্ত্রক-এর তথ্য অনুসারে, এ হার সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। এক মাসের ব্যবধানে মুদ্রাস্ফীতি বেড়েছে ০.৭১ শতাংশ পয়েন্ট।
এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে দেশের খুচরো মুদ্রাস্ফীতির হার ছিল ৬.২১ শতাংশ। প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে মুদ্রাস্ফীতির হার প্রায় ২৩ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচে। মাসের শুরুতে যে জিনিসগুলি তুলনামূলক কম দামে কেনা যাচ্ছিল, মাসের শেষে সেগুলির জন্যই বেশি টাকা খরচ করতে হচ্ছে। বিশেষ করে পেঁয়াজ, রসুন ও লেবুর মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পাশাপাশি পোশাক, পড়াশোনার সামগ্রী সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসের খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে।
সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, সেপ্টেম্বরে পেঁয়াজের বার্ষিক মূল্যস্ফীতির হার ছিল ১০৮.০৯ শতাংশ। আগস্টে এই হার ছিল ৪৮.৭৮ শতাংশ। অর্থাৎ, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় পেঁয়াজের দামে ব্যাপক বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গিয়েছে। একইভাবে রসুনের বার্ষিক মূল্যস্ফীতির হার আগস্টের ৪৩.৬০ শতাংশ থেকে বেড়ে সেপ্টেম্বরে ৫৪.৬২ শতাংশে পৌঁছেছে। লেবুর ক্ষেত্রেও মূল্যস্ফীতির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগস্টে যেখানে এই হার ছিল ১৫.১৫ শতাংশ, সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬.৪১ শতাংশে।
তবে সব ধরনের সবজির দাম একই হারে বাড়েনি। আদার বার্ষিক মূল্যস্ফীতির হার সেপ্টেম্বরে ছিল ৬২.৮৫ শতাংশ। যদিও আগস্টে এই হার ৭৩.৮২ শতাংশ থাকায় আদার ক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমেছে। অন্যদিকে, গত বছরের তুলনায় কয়েকটি সবজির দাম কম থাকার ইঙ্গিতও মিলেছে সরকারি পরিসংখ্যানে। সেপ্টেম্বরে আলুর বার্ষিক মূল্যস্ফীতির হার ছিল ঋণাত্মক ১১.৫০ শতাংশ এবং টমেটোর ক্ষেত্রে তা ছিল ঋণাত্মক ৮.৬২ শতাংশ। অর্থাৎ, এই দুটি পণ্যের দাম গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কম ছিল। মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব শহরের তুলনায় গ্রামীণ এলাকায় বেশি পড়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে গ্রামীণ খুচরো মুদ্রাস্ফীতির হার বেড়ে ৬.০৮ শতাংশ হয়েছে, যেখানে শহুরে এলাকায় এই হার ছিল ৪.৮৮ শতাংশ। আগস্টে গ্রামীণ মুদ্রাস্ফীতি ছিল ৫.২৪ শতাংশ এবং শহুরে মুদ্রাস্ফীতি ছিল ৪.৩১ শতাংশ। অর্থাৎ, দুই ক্ষেত্রেই মুদ্রাস্ফীতির হার বেড়েছে, তবে গ্রামীণ এলাকায় বৃদ্ধির প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি।
খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা গিয়েছে। সেপ্টেম্বরে গ্রামীণ এলাকায় খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ৮.০৬ শতাংশে পৌঁছেছে। শহুরে এলাকায় এই হার ছিল ৭.১৮ শতাংশ। ফলে খাদ্যপণ্যের ক্রমবর্ধমান দামের কারণে গ্রামের পরিবারগুলিকে বেশি আর্থিক চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। দৈনন্দিন রান্নার জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ায় সংসারের মাসিক বাজেট সামলানো আরও কঠিন হয়ে উঠছে। শুধু খাদ্যপণ্য বা শাকসবজির দাম বৃদ্ধিতেই মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব সীমাবদ্ধও নেই। পড়াশোনার খরচ এবং পোশাক-পরিচ্ছদের মতো ক্ষেত্রেও মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব দেখা যাচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে পড়াশোনার খরচের ক্ষেত্রে মুদ্রাস্ফীতির হার ছিল ৩.৯৪ শতাংশ। পোশাক ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৩.৯৩ শতাংশ। ফলে পড়ুয়াদের শিক্ষা-সংক্রান্ত খরচ এবং পরিবারের পোশাক কেনার বাজেটেও বাড়তি চাপ পড়ছে।
এদিকে রেস্তোরাঁ ও আবাসন পরিষেবার ক্ষেত্রেও মুদ্রাস্ফীতির হার তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল। সেপ্টেম্বরে এই ক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৯.৩৬ শতাংশে। এর ফলে বাইরে খাওয়াদাওয়া করা কিংবা ভ্রমণের সময় হোটেলে থাকার খরচও বেড়ে যেতে পারে। সব মিলিয়ে খাদ্যপণ্য, শিক্ষা, পোশাক এবং পরিষেবার খরচ বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় ক্রমশ বাড়ছে। সংসারের সীমিত আয়ের মধ্যে সমস্ত প্রয়োজনীয় খরচ সামলাতে গিয়ে তাই নতুন করে আর্থিক চাপের মুখে পড়ছেন বহু মানুষ।
❤ Support Us







