- দে । শ
- অক্টোবর ১৪, ২০২৬
বায়নার অপেক্ষায় পূর্বস্থলীর মহিলা ঢাকিরা
ঢাকি গ্রাম। এই নামেই সকলে চেনে পূর্বস্থলীর পাটুলি পঞ্চায়েতের মধুপুর গ্রামকে। গ্রামের দাসপাড়ার পুরুষ-মহিলা নির্বিশেষে প্রায় সব পরিবারের সদস্যদের ঢাকের বাজনার নিখুঁত তালে কোমর দুলতে বাধ্য। গ্রামের সিংহভাগ পরিবারের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ঢাক-সহ বিভিন্ন তালবাদ্য বাজানোর পেশা। দাসপাড়ায় গিয়ে দেখা গেল তুমুল ব্যস্ততা। কেউ ঢাক সারাচ্ছেন। কেউ ঢাক সাজাচ্ছেন। কেউ আবার ঢাকে রোদ খাওয়াচ্ছেন। কেউ ঢাকের কাঠি তৈরি করতে ব্যস্ত। পাড়ার মহিলা মহল আবার সংসার সামলে একই পোশাক পরে একচোট মহড়া সেড়ে নিচ্ছেন। উদ্যোক্তাদের খুশি করতে হবে যে !
মহড়ার মাঝে হতাশা ঝরে কেকা দাস, কাজল দাসদের। এখনও তেমন জুতসই বায়না মেলেনি। তাই মহড়ার মাঝেমাঝেই ঘটছে ছন্দপতন। খুকুরানি দাস, চামেলি দাসদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, গত বছর দুর্গাপুজোর সময় তাঁরা ঢাক বাজাতে গিয়েছিলেন সেকেন্দ্রাবাদে। সেখানে ঢাক বাজিয়ে নজরও কেড়েছিলেন। এবছর ওড়িশা-সহ বেশ কয়েকটা রাজ্য থেকে বরাত এলেও দূরে বাজাতে যাওয়ার নানা সমস্যার কথা ভেবে বায়না ফিরিয়ে দিয়েছেন। কারণ ঢাক নিয়ে দূরপাল্লার ট্রেনে যাতায়াত করতে গিয়ে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়। বড় বাদ্যযন্ত্র নিয়ে ট্রেনে ওঠা, যাতায়াত ও নানা ঝামেলার জন্যই এবার দূরের বায়না বাতিল করেছেন। ভেবেছিলেন রাজ্যেরই কোনো জেলা বা কাছাকাছি কোনও পুজোমণ্ডপ থেকে বাজানোর ডাক আসবে এবার। সেই ডাকের অপেক্ষাতেই দিন গুনছেন তাঁরা। তবে বিশ্বাস, মনোমত বায়না মিলবেই।
মধুপুরের মহিলা ঢাকিদের পথচলা খুব বেশি দিনের নয়। গ্রামেরই বধূ শিখা দাসের হাত ধরে কাঁধে ঢাক তুলে নেওয়া শুরু মহিলাদের। স্বামী আর ছেলেকে ঢাক বাজাতে দেখে একদিন শিখার মনে হয়েছিল, ইস্, আমিও যদি অমন করে ঢাক বাজাতে পারতাম ! তাতে সংসারে আর্থিক সাহায্যের পাশাপাশি নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগও তৈরি হবে। প্রশ্ন জাগে, গ্রামের একজন মহিলা একা ঢাক বাজিয়ে কী করবেন ? তবে এই ইচ্ছের কথা পাড়ার অন্যান্য ঢাকি পরিবারের মহিলাদের জানাতেই তুমুল সাড়া মেলে। তৈরি হয় মহিলা ঢাকির দল। সংসার সামলে চলে শেখার পালা। শুরুতে গ্রাম ও পড়শি গ্রামের মণ্ডপে হাতেখড়ি। ধীরে ধীরে সেই গণ্ডি ডিঙিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বাজানোর ডাক আসতে থাকে। আর গত বছরতো একেবারে ভিন্ রাজ্য সেকেন্দ্রাবাদে পাড়ি। সেখানকার পুজোমণ্ডপে ঢাক বাজিয়ে শিখাদের বাহিনী প্রমাণ করেন, ইচ্ছে আর পরিশ্রমের জোরে গ্রামের বধূরাও পৌঁছে যেতে পারেন বহুদূর। ঢাক তাঁদের কাছে আজ শুধু নিছক বাদ্যযন্ত্র নয়, স্বনির্ভরতার হাতিয়ার। ঢাক বাজিয়েই সংসারে বাড়তি রোজগারের রাস্তা খোলার পাশাপাশি নিজেদের পরিচয়ও তৈরি করেছেন মধুপুরের মহিলা ঢাকিরা।
❤ Support Us





