- দে । শ
- অক্টোবর ২৭, ২০২৬
নিরাপত্তা পরিষদে সমান ভেটো ক্ষমতার পক্ষে সওয়াল হরিশের
রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে আমূল সংস্কারের দাবিতে ফের সরব হল ভারত। সংস্কার করা হলে পরিষদের সমস্ত স্থায়ী সদস্যকে সমান অধিকার ও দায়িত্ব দেওয়ার পাশাপাশি ভেটো ক্ষমতাও দিতে হবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিল নয়াদিল্লি। ভেটো ক্ষমতাহীন বা সীমিত ক্ষমতাসম্পন্ন স্থায়ী সদস্যের পৃথক শ্রেণি তৈরির প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে ভারত। রাষ্ট্রসংঘে ভারতের রাষ্ট্রদূত পার্বথনেনি হরিশ এই অবস্থান তুলে ধরে জানান, নিরাপত্তা পরিষদে প্রকৃত সংস্কার আনতে হলে সদস্যদের মধ্যে বৈষম্য দূর করা জরুরি।
রাষ্ট্রসংঘে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পার্বথনেনি হরিশ বলেন, নিরাপত্তা পরিষদে যতদিন ভেটো ক্ষমতা বহাল থাকবে, ততদিন সংস্কার হওয়া পরিষদের সমস্ত স্থায়ী সদস্যকেই এই ক্ষমতা দিতে হবে। তাঁর কথায়, ভেটো ক্ষমতা বজায় রেখে নতুন স্থায়ী সদস্যদের সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হলে তা সমানাধিকারের নীতির পরিপন্থী হবে।
ভারতের মতে, ভেটো ক্ষমতাহীন স্থায়ী সদস্যের পৃথক শ্রেণি তৈরি করা হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলি কার্যত রাষ্ট্রসংঘে দ্বিতীয় শ্রেণির সদস্যে পরিণত হবে। এতে নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় মৌলিক কোনও পরিবর্তন আসবে না। বরং বর্তমানে যে পাঁচটি স্থায়ী সদস্য দেশ পরিষদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিশেষ প্রভাব বিস্তার করে, তাদের নিয়ন্ত্রণই বজায় থাকবে। তাই শুধু সদস্য সংখ্যা বাড়ানো নয়, পরিষদের কাঠামো ও ক্ষমতার বণ্টনেও পরিবর্তন আনার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছে ভারত।
তবে ভেটো ক্ষমতা দেওয়ার পাশাপাশি তার প্রয়োগ নিয়েও সতর্ক হওয়ার বার্তা দিয়েছে নয়াদিল্লি। হরিশের বক্তব্য, ভেটো ক্ষমতা সংযমের সঙ্গে ব্যবহার করা উচিত। কোনও দেশের সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে এই ক্ষমতার ব্যবহার কাম্য নয়।
নিরাপত্তা পরিষদের কার্যকারিতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ভারত। রাষ্ট্রসংঘে ভারতের বক্তব্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত নিরাপত্তা পরিষদে ২০০টি প্রস্তাব পেশের ক্ষেত্রে মোট ৩৩১ বার ভেটো প্রয়োগ করা হয়েছে। ভারতের মতে, বারবার ভেটো প্রয়োগের ঘটনা পরিষদের বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এই পরিস্থিতিতে ভেটো ক্ষমতার ব্যবহার এবং পরিষদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান কাঠামো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছে ভারত। ১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই পরিষদে বর্তমানে মোট ১৫টি সদস্য দেশ রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি দেশ স্থায়ী সদস্য এবং বাকি ১০টি দেশ নির্বাচিত অস্থায়ী সদস্য হিসেবে দুই বছরের মেয়াদে দায়িত্ব পালন করে।
নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য দেশ হল চিন, ফ্রান্স, রাশিয়া, আমেরিকা এবং ব্রিটেন। এই পাঁচটি দেশের হাতেই বর্তমানে ভেটো ক্ষমতা রয়েছে। অন্যদিকে, অস্থায়ী সদস্য দেশগুলির সেই অধিকার নেই।
ভারতের বক্তব্য, ১৯৪৫ সালের আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এই কাঠামো একবিংশ শতাব্দীর বর্তমান বাস্তবতাকে যথাযথভাবে প্রতিফলিত করে না। তাই নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী ও অস্থায়ী—উভয় ধরনের সদস্য সংখ্যাই বাড়ানো প্রয়োজন। শুধু অস্থায়ী সদস্যের সংখ্যা বাড়িয়ে সংস্কারের উদ্যোগ নিলে তা কার্যকর হবে না বলেই মনে করে নয়াদিল্লি।
পাশাপাশি, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদ পাওয়ার দাবিও দীর্ঘদিনের। নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামোগত সংস্কার এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সমানাধিকারের প্রশ্নকে সামনে রেখে সেই দাবিই ফের জোরালো করল ভারত।
❤ Support Us






