- মা | ঠে-ম | য় | দা | নে
- অক্টোবর ২৭, ২০২৬
ব্যালন ডি’অর জিতলেন হ্যারি কেন, সেরা উদীয়মান ফুটবলার ইয়ামাল
২০২৬ সালের পুরুষদের ব্যালন ডি’ওর জিতলেন ইংল্যান্ডের ৩৩ বছর বয়সী তারকা স্ট্রাইকার হ্যারি কেন। ২৫ বছর পর কোনও ইংরেজ ফুটবলার হিসেবে ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার জিতলেন। এর আগে ২০০১ সালে মাইকেল ওয়েন এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন। গত মরশুমে ক্লাব ও দেশের হয়ে রেকর্ড সংখ্যক গোল করা ও বড় শিরোপা জয়সহ দুর্দান্ত পারফরমেন্সের জন্য হ্যারি কেনকে এই পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে এবং স্পেনের লামিনে ইয়ামালকে পেছনে ফেলে সেরার পুরস্কার জিতেছেন কেন।স্প্যানিশ মিডফিল্ডার রদ্রি চতুর্থ এবং আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি লিওনেল মেসি পঞ্চম স্থান পেয়েছেন।
২০২৫-২৬ মরশুম হ্যারি কেনের কাছে দারুণভাবে স্মরণীয়। তিনি ক্লাব এবং দেশের হয়ে ৬৫ ম্যাচে ৭৩টি গোল করেছেন এবং ৮টি অ্যাসিস্ট করেছেন। তাঁর গোল করার ক্ষমতা তাকে ইউরোপের অন্যতম প্রভাবশালী স্ট্রাইকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। পুরো মরশুম জুড়ে জার্মানির লিগে গোল করার রেকর্ড ভেঙেছেন এবং দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে কেন বুন্দেশলিগা এবং জার্মান কাপ শিরোপা জিতেছেন। জার্মান কাপের ফাইনালে তিনি স্টুটগার্টের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেন, যা দলের শিরোপা জয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে তার ভূমিকা শুধু গোল করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি আক্রমণ পরিচালনা, সতীর্থদের জন্য সুযোগ তৈরি এবং চাপের মুখে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হিসেবেও গোটা মরশুম জপরে দারুণ পারফর্ম করেন কেন। ২০২৬ বিশ্বকাপে ৬টি গোল করে গ্যারি লিনেকারকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন। এই পারফরমেন্স তাঁকে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বকালের শীর্ষ পাঁচ গোলদাতার তালিকায়ও স্থান করে দেয়। সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে গেলেও, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে এমবাপের ফ্রান্সকে হারিয়ে দেশকে ব্রোঞ্জ এনে দেন হ্যারি কেন। গত ৬০ বছরে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের এটাই সেরা পারফরমেন্স। দলের অধিনায়ক হিসেবে কেনের ভূমিকা এবং মাঠে তাঁর অবদান ব্যালন ডি’অরের জন্য তার দাবিকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।
অন্যদিকে, রিয়াল মাদ্রিদের ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপে দ্বিতীয় হয়েছেন। বার্সেলোনার তরুণ ফুটবলার লামিনে ইয়ামাল তৃতীয় হয়েছেন। রদ্রি চতুর্থ এবং ৮ বারের বিজয়ী লিওনেল মেসি পঞ্চম হয়েছেন। প্যারিস সেন্ট–জার্মেইয়ের খভিচা কভারাতসখেলিয়া ষষ্ঠ এবং উসমান দেম্বেলে সপ্তম হয়েছেন। ম্যানচেস্টার সিটির আর্লিং হালান্ড অষ্টম, বায়ার্ন মিউনিখের মাইকেল ওলিসে নবম এবং পিএসজির ফাবিয়ান রুইজ দশম হয়েছেন।
সেরা ফুটবলারের স্বীকৃতি না পেলেও ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠান থেকে একেবারেই খালি হাতে ফেরেননি লামিনে ইয়ামাল। বার্সেলোনা ও স্পেনের এই তরুণ তারকা টানা তৃতীয়বারের মতো সেরা তরুণ ফুটবলার হিসেবে কোপা ট্রফি জিতেছেন। অল্প বয়সে ধারাবাহিকভাবে শীর্ষ পর্যায়ে পারফর্ম করা ইয়ামাল আরও একবার নিজের প্রতিভা প্রমাণ করেছেন। মহিলা বিভাগে বার্সেলোনা ও স্পেনের ভিকি লোপেজ মহিলা কোপা ট্রফি জিতেছেন।
মহিলা বিভাগে স্পেনের অ্যালেক্সিয়া পুতেয়াস তৃতীয়বারের মতো ব্যালন ডি’অর জিতে ইতিহাস গড়েছেন। বার্সেলোনার হয়ে দুর্দান্ত একটা মরশুম কাটানো পুতেয়াস আরও একবার মহিলা ফুটবলের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সম্মান অর্জন করেছেন। এর আগে তিনি ২০২১ এবং ২০২২ সালে টানা এই পুরস্কার জিতেছিলেন।
একনজরে পুরস্কার বিজয়ীরা:
- ছেলেদের ব্যালন ডি’অর জয়ী: হ্যারি কেইন (ইংল্যান্ড ও বায়ার্ন মিউনিখ)
- মেয়েদের ব্যালন ডি’অর জয়ী: অ্যালেক্সিস পুতেয়াস (স্পেন ও লন্ডন সিটি লায়নেস)
- ছেলেদের সেরা উদীয়মান তরুণ খেলোয়াড় : লামিনে ইয়ামাল (স্পেন ও বার্সেলোনা)
- মেয়েদের সেরা উদীয়মান তরুণ খেলোয়াড়: ভিকি লোপেজ (স্পেন ও বার্সেলোনা)
- মেয়েদের ফুটবলে সেরা কোচ: পেরে রোমেউ (বার্সেলোনা)
- ছেলেদের ফুটবলে সেরা কোচ: লুইস দে লা ফুয়েন্তে (স্পেন)
- মেয়েদের ফুটবলে সেরা গোলকিপার: কাতা কোল (বার্সেলোনা)
- ছেলেদের ফুটবলে সেরা গোলকিপার: উনাই সিমোন (স্পেন)
- সক্রেটিস পুরস্কার: বুকায়ো সাকা (ইংল্যান্ড ও আর্সেনাল)
- মেয়েদের সেরা ক্লাব: বার্সেলোনা
- ছেলেদের সেরা ক্লাব: পিএসজি
- ছেলেদের সেরা স্ট্রাইকার: হ্যারি কেন (ইংল্যান্ড ও বায়ার্ন মিউনিখ)
- মেয়েদের সেরা স্ট্রাইকার: শার্লিন কোবরাল (মেক্সিকো ও পাচুয়া)
❤ Support Us








