- এই মুহূর্তে দে । শ
- অক্টোবর ২৯, ২০২৬
পুরভোটের আগে ২ নভেম্বর কলকাতায় মহামিছিল পদ্মশিবিরের, যোগ দেবেন নীতীন নবীন
আসন্ন কলকাতা ও হাওড়া পুরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার করতে চলেছে বিজেপি। একদিকে পুরভোটের প্রার্থী নির্বাচন ও রণকৌশল নিয়ে দলের অন্দরে আলোচনা চলছে, অন্যদিকে বিরোধীদের আন্দোলনের মোকাবিলায় রাজ্যজুড়ে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা নিয়েছে গেরুয়া শিবির। কর্মসূচির অংশ হিসেবেই ২ নভেম্বর কলকাতায় মহামিছিলের আয়োজন করা হচ্ছে। সেখানে উপস্থিত থাকার কথা বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীনের।
আগামী ২ নভেম্বর কলকাতায় আসবেন নীতীন নবীন। ওই দিন রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করার পাশাপাশি মহামিছিলেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। কলেজ স্ট্রিট থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত এই মিছিল করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মিছিলে নীতীন নবীন ছাড়াও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, রাজ্য নেতৃত্বের একাধিক শীর্ষ নেতা এবং রাজ্যের মন্ত্রীরা উপস্থিত থাকবেন বলে দলীয় সূত্রে খবর।
মহামিছিলের পর পুরভোটের প্রস্তুতি নিয়ে দলীয় বৈঠক করবেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। কলকাতা ও হাওড়া পুরসভা নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই, সাংগঠনিক প্রস্তুতি এবং নির্বাচনী রণকৌশল নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হতে পারে। বিশেষ করে প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলরদের বিজেপির টিকিট দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে দলের অন্দরে যে মতপার্থক্য রয়েছে, সে বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এক দিনের সফর শেষে ২ নভেম্বর রাতেই অথবা পরদিন সকালে দিল্লি ফিরে যাওয়ার কথা নীতীন নবীনের।
এদিকে, কালীপুজোর পর রাজ্যে আসার কথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহেরও। ফলে পুরভোটের আগে রাজ্য বিজেপির সাংগঠনিক প্রস্তুতি ও নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণের ক্ষেত্রে আগামী কয়েক সপ্তাহ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিজেপির পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী শনিবার থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত রাজ্যে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ কর্মসূচি পালিত হবে। ২ নভেম্বর কলকাতায় মহামিছিলের পর ৩ নভেম্বর হাওড়া ও শিলিগুড়ি, ৪ নভেম্বর কৃষ্ণনগর এবং ৫ নভেম্বর দুর্গাপুরে কর্মসূচি হওয়ার কথা রয়েছে। দলের রাজ্য সহ-সভাপতি প্রবাল রাহা জানিয়েছেন, কালীপুজো শেষ হওয়ার পর আগামী ১১ নভেম্বর থেকে কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায় শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই পর্যায়ে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৮০০টি জায়গায় পদযাত্রা আয়োজনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কর্মসূচিতে ন্যূনতম ১০ হাজার মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
নীতীন নবীন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি হওয়ার পর দেশজুড়ে এটিই দলের প্রথম বড় কর্মসূচি বলে দাবি করছে গেরুয়া শিবির। দলের বক্তব্য, এই কর্মসূচির মাধ্যমে জাতীয়তাবাদী মনোভাবাপন্ন মানুষকে একত্রিত করা এবং বিরোধীদের আন্দোলনের রাজনৈতিক মোকাবিলা করা হবে। নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করেই বিজেপির এই কর্মসূচির পরিকল্পনা বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলির আন্দোলনের সঙ্গে ইন্ডি জোটের একাংশও যুক্ত হয়েছে বলে দাবি বিজেপির।
গেরুয়া শিবিরের বক্তব্য, বিরোধীরা আগামী লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত এই ধরনের আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনৈতিক চাপ তৈরির চেষ্টা করতে পারে। সেই পরিস্থিতির মোকাবিলায় পাল্টা জনসংযোগ ও সংগঠনকে সক্রিয় করতেই ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। তবে বিরোধীদের আন্দোলনকে ‘অরাজকতা’ হিসেবে বর্ণনা করা বিজেপির নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান। উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বরের শেষেও দু-দিনের সফরে বাংলায় এসেছিলেন নীতীন নবীন। সেই সফরে রাজ্য বিজেপির নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছিলেন তিনি। এবার পুরভোটের প্রস্তুতি, প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে দলের অভ্যন্তরীণ আলোচনা এবং রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি — তিনটি বিষয়ই তাঁর সফরে গুরুত্ব পেতে চলেছে।
❤ Support Us







