Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • অক্টোবর ২৯, ২০২৬

৩০ অক্টোবর খাড়গের বাসভবনে ‘জনতার ইমপিচমেন্ট’, সভাপতিত্বে প্রাক্তন লোকসভা স্পিকার মীরা কুমার

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
৩০ অক্টোবর খাড়গের বাসভবনে ‘জনতার ইমপিচমেন্ট’, সভাপতিত্বে প্রাক্তন লোকসভা স্পিকার মীরা কুমার

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এবার ‘জনতার ইমপিচমেন্ট’ কর্মসূচি নিতে চলেছে বিরোধী জোট ইন্ডিয়া। আগামী ৩০ অক্টোবর, শুক্রবার, কংগ্রেস সভাপতি তথা রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গের সরকারি বাসভবনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। প্রাক্তন লোকসভার স্পিকার মীরা কুমার এই কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করবেন। এর আগে দিল্লি পুলিশ দুটি পৃথক স্থানে কর্মসূচি আয়োজনের অনুমতি না দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত খাড়গের বাসভবনকেই বিকল্প স্থান হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে কংগ্রেসের তরফে জানানো হয়েছে।

এই কর্মসূচিতে মল্লিকার্জুন খাড়গে প্রস্তাব উত্থাপন করবেন। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি আলোচনার শেষে বক্তব্য রাখবেন। বিরোধী দলগুলির প্রতিনিধিদের পাশাপাশি নাগরিক সমাজের সদস্যরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন-এর কারণে যাঁরা সমস্যার মুখে পড়েছেন, তাঁদেরও অভিজ্ঞতা ও অভিযোগ তুলে ধরার সুযোগ দেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার খাড়গের বাসভবনে ইন্ডিয়া জোটের নেতাদের বৈঠকে এই কর্মসূচির চূড়ান্ত পরিকল্পনা স্থির হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মল্লিকার্জুন খাড়গে, কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধি বঢরা, জয়রাম রমেশ, সিপিআই(এম) সাংসদ জন ব্রিটাস-সহ একাধিক বিরোধী নেতা।

আগামী ১ নভেম্বর দিল্লিতে ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের মহাসমাবেশ হওয়ার কথা। তার আগেই এই ‘জনতার ইমপিচমেন্ট’ কর্মসূচির মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে নিজেদের আপত্তি ও উদ্বেগ আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে চাইছে বিরোধী জোট।

কংগ্রেসের অভিযোগ, প্রথমে হোটেল অশোকে এই কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু সেখানে দিল্লি পুলিশ অনুমতি দেয়নি। পরে রামলীলা ময়দানেও কর্মসূচি করার অনুমতি না মেলায় স্থান পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সিপিআই(এম) সাংসদ জন ব্রিটাস জানান, এই কর্মসূচিকে নিছক প্রতীকী বা ‘মক ইমপিচমেন্ট’ হিসেবে দেখছে না বিরোধী জোট। বরং নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ ও প্রত্যাশার প্রতিফলন হিসেবেই এই উদ্যোগকে তুলে ধরতে চায় তারা।

ব্রিটাসের কথায়, “আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এটি কোনও মক ইমপিচমেন্ট হবে না। এটি মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হবে।” তিনি জানান, নির্দিষ্ট কাঠামো মেনে আলোচনা চলবে। মীরা কুমার সভাপতিত্ব করবেন এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থাকবেন। SIR-এর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের নিজেদের অভিজ্ঞতা জানানোর জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে।

অনুষ্ঠানে শাসকপক্ষের আসনে কে বসবেন, সেই প্রশ্নের উত্তরে ব্রিটাস বলেন, কেউই ওই আসনে বসতে চাইছেন না। কারণ, তাতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের প্রতি সমর্থন রয়েছে বলে ভুল বার্তা যেতে পারে। তাঁর কথায়, “কেউই জ্ঞানেশ কুমারকে সমর্থন করছেন বলে প্রতীয়মান হতে চান না।”

এদিকে, মল্লিকার্জুন খাড়গে জানিয়েছেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগ তুলে বিরোধীদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। তাঁর দাবি, এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলি একজোট হয়ে প্রচার চালাচ্ছে। পাশাপাশি, ১ নভেম্বরের মহাসমাবেশে যোগ দিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ দিল্লিতে আসছেন বলেও তিনি জানান।

খাড়গে বলেন, “আমরা লড়াই চালিয়ে যাব। কারণ, গণতন্ত্রে লড়াই না করলে মানুষকে জাগ্রত করা যায় না।”

কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈয়ের বক্তব্য, শুক্রবারের কর্মসূচিতে SIR এবং কথিত ‘ভোট চুরি’ নিয়ে বিরোধীরা নিজেদের উদ্বেগ তুলে ধরতে পারবেন। একই সঙ্গে ভোটাধিকার রক্ষার প্রশ্নে বিরোধী দলগুলির ঐক্যের বার্তাও সামনে আসবে। তাঁর কথায়, “মানুষের যন্ত্রণা এবং গণতন্ত্রের উপর আঘাতের বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সামনে আনা দরকার।” তিনি আরও বলেন, শুক্রবারের কর্মসূচি থেকে বিরোধীদের ঐক্যের বার্তা যাবে।

সব মিলিয়ে, ১ নভেম্বরের মহাসমাবেশের আগে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, ভোটার তালিকার সংশোধন এবং ভোটাধিকার নিয়ে বিরোধীদের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করতেই ৩০ অক্টোবরের এই কর্মসূচিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!