Advertisement
  • দে । শ
  • অক্টোবর ২৯, ২০২৬

হিংসাত্মক পথে প্রতিবাদ করলেই সরকারি চাকরিতে নিষেধাজ্ঞা ! যোগী সরকারের নয়া বিধিতে তীব্র বিতর্ক

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
হিংসাত্মক পথে প্রতিবাদ করলেই সরকারি চাকরিতে নিষেধাজ্ঞা ! যোগী সরকারের নয়া বিধিতে তীব্র বিতর্ক

চিত্র :পিটিআই

হিংসাত্মক উপায়ে ‘জমানা বদল’ বা ‘রেজিম চেঞ্জ’-এর চেষ্টা কিংবা সেই সংক্রান্ত কার্যকলাপে যুক্ত থাকলে মিলবে না সরকারি চাকরি। এমনই কড়া পদক্ষেপ করল উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথের সরকার। সাম্প্রতিক একটি বিক্ষোভে ‘রেজিম চেঞ্জ’-এর ডাক দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিতর্কের আবহেই সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের চরিত্র যাচাইয়ের নিয়ম আরও কঠোর করল রাজ্য প্রশাসন। এলাহাবাদ হাই কোর্টের নির্দেশ মেনে উত্তরপ্রদেশ সরকারের নিয়োগ ও কর্মিবর্গ দফতরের মুখ্য সচিব এম দেবরাজ এই নয়া নির্দেশিকা জারি করেছেন। রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দফতর, নিগম, পরিষদ এবং স্থানীয় সংস্থায় সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্বাচিত প্রার্থীদের উপর এই বিধি কার্যকর হবে। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টি (এসপি) এবং কংগ্রেস।

নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, যে সব সংগঠনের ঘোষিত লক্ষ্য হিংসাত্মক উপায়ে প্রচলিত ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটানো, সেই ধরনের কোনও সংগঠনের সদস্য হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে সরকারি চাকরির অযোগ্য বলে বিবেচনা করা হবে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, কোনও ব্যক্তি ২১ বছর বয়স পূর্ণ করার পর চরিত্র যাচাইয়ের নির্ধারিত তারিখের ঠিক আগের তিন বছরের মধ্যে এ ধরনের কার্যকলাপে অংশ নিয়ে থাকলে ধরে নেওয়া হবে, তিনি এখনও সক্রিয় ভাবে সেই কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তবে ওই সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে বলে অকাট্য প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁর বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।

তবে এই কড়াকড়ির মধ্যেও কয়েকটি বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে যোগী সরকার। শুধুমাত্র কোনও প্রার্থীর রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে তাঁকে সরকারি চাকরির অযোগ্য ঘোষণা করা যাবে না। একই ভাবে, কারও বিরুদ্ধে শুধু এফআইআর দায়ের হয়েছে অথবা কোনও মামলার তদন্ত এখনও চলছে—এই কারণেই স্বয়ংক্রিয় ভাবে তাঁর চাকরির যোগ্যতা বাতিল করা যাবে না। আদালতে বেকসুর খালাস পাওয়া ব্যক্তি, আপস-মীমাংসার মাধ্যমে যাঁদের মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে এবং জুভেনাইল জাস্টিস আইনের আওতায় থাকা মামলাগুলির ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ, এই ধরনের পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে আপনা থেকেই অযোগ্য বলে ঘোষণা করা যাবে না।

চরিত্র যাচাইয়ের রিপোর্ট পেতে দেরি হলেও নিয়োগ প্রক্রিয়া থামিয়ে রাখার প্রয়োজন নেই বলে নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে। সে ক্ষেত্রে প্রার্থীর কাছ থেকে স্ব-ঘোষণাপত্র বা সেল্ফ-ডিক্লারেশন এবং প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে শর্তসাপেক্ষে সাময়িক নিয়োগপত্র দেওয়া যেতে পারে। তবে পরবর্তী সময়ে চরিত্র যাচাইয়ের রিপোর্টে প্রার্থী অযোগ্য বলে প্রমাণিত হলে কিংবা তিনি মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন বলে ধরা পড়লে অবিলম্বে তাঁর নিয়োগ বাতিল করা হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপও করা হবে। বর্তমানে কর্মরত সরকারি কর্মীদের ক্ষেত্রে নতুন করে চরিত্র যাচাই বাধ্যতামূলক করা হয়নি। যদিও প্রয়োজন মনে করলে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট কর্মীর পূর্ববর্তী দফতরের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন।

নয়া নির্দেশিকায় চরিত্র যাচাইয়ের সময়সীমাও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। জেলা পুলিশ এবং লোকাল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (এলআইইউ)-কে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুরোধ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর চরিত্র যাচাইয়ের রিপোর্ট জমা দিতে হবে। এই কাজে কোনও বিলম্ব হচ্ছে কি না, তা নজরে রাখবে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতর। পাশাপাশি, চরিত্র যাচাইয়ের জন্য পুলিশ বা এলআইইউ-র আধিকারিকদের প্রার্থীর বাড়িতে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রার্থীর সশরীরে উপস্থিতিও বাধ্যতামূলক করা হয়নি।

কোনও প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিরূপ রিপোর্ট জমা পড়লে অবশ্যই তাঁকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে। চূড়ান্ত নিয়োগের সুপারিশ পাঠানোর আগে জেলাশাসক সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে অনলাইনে অথবা সশরীরে নিজের বক্তব্য জানানোর সুযোগ দেবেন। অর্থাৎ, বিরূপ রিপোর্টের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রার্থীর বক্তব্য শোনার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে এই নির্দেশিকায়।

তবে যোগী সরকারের এই নয়া বিধিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতর শুরু হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের প্রধান বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টি এই নির্দেশিকাকে ‘ব্রিটিশ রাজের’ সঙ্গে তুলনা করে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে। দলের মুখপাত্র উদয়বীরের বক্তব্য, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের সময় এ ধরনের ফরমান জারি করা হত। স্বাধীন ভারতে প্রতিবাদ করার অধিকার সংবিধান স্বীকৃত। তাঁর কথায়, সরকার পরিবর্তন একটি আইনি ও প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়া, যা প্রতিটি নির্বাচনের পরেই ঘটতে পারে। সেই প্রক্রিয়ায় যে কেউ অংশ নিতে পারেন।

উদয়বীর আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার ভয় দেখানোর মানসিকতা নিয়ে চলছে বলেই ব্রিটিশ আমলের মতো নির্দেশিকা জারি করতে হচ্ছে। ফলে হিংসাত্মক কার্যকলাপে যুক্ত ব্যক্তিদের সরকারি চাকরি থেকে দূরে রাখার যুক্তিতে যোগী সরকার এই পদক্ষেপ করলেও, তার প্রয়োগের পরিধি এবং প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক ক্রমশ তীব্র হচ্ছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!