- দে । শ
- অক্টোবর ২৯, ২০২৬
গ্রাহকদের সেভিংস ও ফিক্সড ডিপোজিট থেকে উধাও ৩৫ কোটি, পিএনবিতে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ! সাসপেন্ড ৫
93998168 – new delhi india – october 27, 2017: punjab national bank. punjab national bank is is an indian multinational banking and financial services founded in 1894.
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কে (পিএনবি) ফের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ। গ্রাহকদের অনুমতি ছাড়াই তাঁদের সেভিংস অ্যাকাউন্ট এবং ফিক্সড ডিপোজিট (এফডি) থেকে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উত্তরপ্রদেশের গ্রেটার নয়ডার একটি পিএনবি শাখাকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, গ্রাহকদের সম্মতি ছাড়াই তাঁদের বছরের পর বছর ধরে জমানো সঞ্চয় অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে। এই ঘটনায় শাখা ম্যানেজার-সহ পাঁচ ব্যাঙ্ককর্মীকে সাসপেন্ড করেছে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি, পুলিশ ও ব্যাঙ্কের দুর্নীতি দমন বিভাগের তরফে পৃথক তদন্ত শুরু হয়েছে।
অভিযোগ, গ্রাহকদের অনেকেই নিজেদের অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স পরীক্ষা করতে গিয়ে কিংবা টাকা তুলতে গিয়ে বুঝতে পারেন, তাঁদের জমা অর্থের বড় অংশ উধাও। অথচ, সংশ্লিষ্ট লেনদেনের বিষয়ে তাঁরা কোনও অনুমতি দেননি বলে দাবি করেছেন। এমনকি, অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা সরিয়ে নেওয়ার আগে বা পরে কোনও সতর্কবার্তা কিংবা বিজ্ঞপ্তিও পাননি বলে অভিযোগ গ্রাহকদের। সেভিংস অ্যাকাউন্টের পাশাপাশি ফিক্সড ডিপোজিট থেকেও টাকা উধাও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফলে নিজেদের সঞ্চয়ের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন গ্রাহকেরা।
সংবাদসংস্থা পিটিআইকে হানিফ খান নামে এক গ্রাহক জানিয়েছেন, গ্রেটার নয়ডার ওই শাখায় তাঁর সেভিংস অ্যাকাউন্টে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা জমা ছিল। অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স পরীক্ষা করতে গিয়ে তিনি দেখেন, তাঁর সমস্ত সঞ্চয় উধাও হয়ে গিয়েছে। তাঁর দাবি, টাকা অন্যত্র স্থানান্তরের জন্য তিনি কোনও অনুমতি দেননি। এমনকি, এই সংক্রান্ত কোনও নথিতেও স্বাক্ষর করেননি।
একই রকম অভিযোগ তুলেছেন বিজেন্দ্র সিংহ নামে আর এক গ্রাহক। সাংবাদিকদের তিনি জানিয়েছেন, আগে তাঁর অ্যাকাউন্টে প্রায় ৮৭ থেকে ৮৮ লক্ষ টাকা জমা ছিল। কিন্তু বর্তমানে সেই অ্যাকাউন্টে মাত্র ১ লক্ষ টাকা অবশিষ্ট রয়েছে বলে তাঁর দাবি। তবে, ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তিনি ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন বলেও জানিয়েছেন।
‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন এক চা-শিঙারা বিক্রেতাও। জেওয়ার বিমানবন্দর প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ বাবদ তাঁর অ্যাকাউন্টে ১.২৯ কোটি টাকা জমা পড়েছিল। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, সেই টাকা থেকে ১.১৮ কোটি টাকা উধাও হয়ে গিয়েছে।
সন্তোষ নামে ৬০ বছর বয়সি ওই ব্যক্তি জানিয়েছেন, জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ হিসেবে পাওয়া অর্থই ছিল তাঁর জীবনের শেষ সঞ্চয়। তাঁর ছেলে ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তুলতে গেলে প্রথম এই অনিয়মের বিষয়টি নজরে আসে। জীবনের শেষ সম্বল এ ভাবে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন তিনি।
ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর বুধবার বিপুল সংখ্যক গ্রাহক নিজেদের অভিযোগ জানাতে এবং টাকা ফেরতের বিষয়ে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে উত্তর পেতে সংশ্লিষ্ট শাখায় ভিড় করেন। অন্য দিকে, ক্ষতিগ্রস্তদের টাকা ফেরত দেওয়া এবং এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে ব্যাঙ্কের বাইরে অবস্থান বিক্ষোভ করেন একটি কৃষক ইউনিয়নের সদস্যেরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
গ্রাহকদের অভিযোগ, তাঁদের অ্যাকাউন্টে ঠিক কত টাকা থাকার কথা ছিল এবং বর্তমানে কত টাকা রয়েছে, তার মধ্যে বিস্তর ফারাক দেখা যাচ্ছে। অথচ, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ কী ভাবে সরানো হল, কোথায় স্থানান্তরিত করা হল এবং কারা এই লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট উত্তর মেলেনি। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেও তাঁরা সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাননি বলে অভিযোগ। ফলে নিজেদের কষ্টার্জিত সঞ্চয় আদৌ ফেরত পাবেন কি না, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন গ্রাহকেরা।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পিএনবির আঞ্চলিক কার্যালয়ের তরফে শাখা ম্যানেজার-সহ মোট পাঁচ জন কর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। নয়ডা পুলিশ কমিশনারেটের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত ১৬ জন গ্রাহক পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনার তদন্তের তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে গ্রেটার নয়ডার সহকারী পুলিশ কমিশনারকে (এসিপি)। পাশাপাশি, পিএনবির দুর্নীতি দমন বিভাগের একটি দলও পৃথক ভাবে ঘটনার তদন্ত করছে।
তদন্তকারীরা কী ভাবে গ্রাহকদের অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ স্থানান্তর করা হল, সেই প্রক্রিয়ায় ব্যাঙ্কের কোনও কর্মী বা অন্য কেউ জড়িত কি না এবং লেনদেনের ক্ষেত্রে কী ধরনের নথি ব্যবহার করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন বলে জানা গিয়েছে। তবে, ঠিক কী ভাবে এই বিপুল পরিমাণ টাকা সরানো হয়েছে, সে বিষয়ে তদন্তের চূড়ান্ত ফল এখনও সামনে আসেনি।
উল্লেখ্য, এর আগেও বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম ও কেলেঙ্কারির অভিযোগে বারবার সংবাদ শিরোনামে এসেছে পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক। উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরে ব্যাঙ্কের কারেন্সি চেস্ট বা নগদ অর্থ সংরক্ষণের ভল্টে বিপুল পরিমাণ জাল নোট পাওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছিল।
এ ছাড়াও, ভারতের ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার অন্যতম বড় আর্থিক কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে পিএনবির নাম। হিরে ব্যবসায়ী নীরব মোদী ও মেহুল চোক্সীর বিরুদ্ধে পিএনবিকে কেন্দ্র করে ১৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি মূল্যের ব্যাঙ্ক জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনা দেশের ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার নজরদারি ও আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছিল।
এ বার গ্রেটার নয়ডার শাখায় প্রায় ৩৫ কোটি টাকা উধাও হওয়ার অভিযোগ ফের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে গ্রাহকদের আমানতের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তদন্তে প্রকৃত ঘটনা কী উঠে আসে, গ্রাহকদের অর্থ কী ভাবে ফেরত দেওয়া হয় এবং এই ঘটনায় কারা দায়ী, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।
❤ Support Us





