- দে । শ
- নভেম্বর ৪, ২০২৬
সুমিত রায়কে জেরা, ডায়মন্ড হারবারে তৃণমূলের পার্টি অফিস থেকে উদ্ধার বিপুল টাকা
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবারে তৃণমূল কংগ্রেসের একটি দলীয় কার্যালয় থেকে উদ্ধার হল বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা। মঙ্গলবার রাতে সরিষা এলাকায় ওই পার্টি অফিসে অভিযান চালিয়ে মোট ১ কোটি ২ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা উদ্ধার করে ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশ। পুলিশের দাবি, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে জেরা করেই এই বিপুল পরিমাণ টাকার সন্ধান পাওয়া গিয়েছে।
শালবনির জমি দুর্নীতির মামলায় আগেই গ্রেফতার হয়ে জেল হেফাজতে ছিলেন সুমিত রায়। এর পাশাপাশি দক্ষিণ ২৪ পরগনার কালীতলা আশুতি থানা এলাকায় সরকারি ও বেসরকারি জমি থেকে বেআইনিভাবে মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগেও তাঁর নাম জড়ায়। এই ঘটনায় সুমিত-সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। ওই মামলার তদন্তের স্বার্থে গত শনিবার আলিপুর আদালতে সুমিতকে শোন অ্যারেস্ট করার আবেদন জানায় পুলিশ। বিচারক পুলিশের সেই আবেদন মঞ্জুর করে তাঁকে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, হেফাজতে নেওয়ার পর সুমিত রায়কে দীর্ঘক্ষণ ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সেই জেরাতেই তদন্তকারীদের হাতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র আসে। সেই সূত্রের ভিত্তিতেই মঙ্গলবার রাতে ডায়মন্ড হারবারের সরিষা এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযান চলাকালীন তৃণমূলের একটি দলীয় কার্যালয় থেকে উদ্ধার হয় ১ কোটি ২ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা নগদ।
ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অভিষেক মজুমদার জানান, সুমিত রায়কে জেরা করেই উদ্ধার হওয়া টাকার সন্ধান মিলেছে। তবে ওই দলীয় কার্যালয়টি কার পরিচালনায় ছিল, তা এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। তাঁর কথায়, এটি তৃণমূলের পার্টি অফিস ছিল বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু কার্যালয়টি কে পরিচালনা করতেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এত বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে কেন রাখা হয়েছিল, টাকাগুলি কোথা থেকে এসেছিল এবং এর পিছনে কারা রয়েছেন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। উদ্ধার হওয়া টাকার প্রকৃত উৎস জানার চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, কালীতলা আশুতি থানায় দায়ের হওয়া মাটি চুরির মামলার সঙ্গে এই বিপুল পরিমাণ নগদ টাকার কোনও যোগসূত্র থাকতে পারে।
তবে তদন্তের স্বার্থে এখনও পর্যন্ত টাকার উৎস কিংবা পার্টি অফিসটির পরিচালনার দায়িত্বে কারা ছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি পুলিশ। উদ্ধার হওয়া অর্থের সঙ্গে মাটি চুরির অভিযোগের সম্পর্ক কতটা গভীর, সুমিত রায়ের ভূমিকা কী এবং এই ঘটনায় আর কারা জড়িত রয়েছেন, এখন সেদিকেই নজর তদন্তকারীদের।
❤ Support Us






