- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- মে ২৫, ২০২৬
অভিষেকের ‘শান্তিনিকেতন’-এ পুলিশ, বাজেয়াপ্ত মনিটর। কারণ ঘিরে ধোঁয়াশা
সোমবার দুপুরে আচমকা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন ‘শান্তিনিকেতন’-এ প্রবেশ করল কয়েক জন পুলিশ। তাঁদের কয়েক জন ছিলেন সাধারণ পোশাকে। কয়েক জন পরেছিলেন সাদা উর্দি। কিছুক্ষণ পরেই বাড়ির ভিতর থেকে একটি মনিটর নিয়ে বেরিয়ে আসেন পুলিশকর্মীরা। তাঁরা অভিষেকের বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরে একটি কালো গাড়ি সেখানকার গ্যারেজ থেকে বেরিয়ে যায়। গাড়িটি লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস সংস্থার নামে নথিভুক্ত। শান্তিনিকেতন বাড়িটিও ওই সংস্থার নামেই পুরসভায় নথিভুক্ত রয়েছে।
তবে কেন হঠাৎ তৃণমূল সাংসদের বাড়িতে পুলিশ গেলেন, তা নিয়ে ধন্দ রয়েছে। এ বিষয়ে লালবাজারের এক কর্তাকে প্রশ্ন করা হলে, তিনি জানান, এখনই এ সব নিয়ে কিছু জানানো যাবে না। লালবাজার সূত্রে জানা গেছে ডিরেক্টরেট অফ সিকিউরিটি থেকে ৪ পুলিশ আধিকারিক অভিষেকের বাড়িতে এসেছিলেন। এই মুহূর্তে বেআইনি নির্মাণ বিতর্ককে ঘিরে চর্চার কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতা পুরসভার নোটিস, সম্পত্তির বৈধতা নিয়ে প্রশ্নের আবহে সোমবার বিকেলে তাঁর হরিশ চ্যাটার্জি রোডের বাড়ি ‘শান্তিনিকেতন’-এ কলকাতা পুলিশের একটি টিম পৌঁছে যাওয়ায় রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে।
সূত্রের খবর, ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত ‘শান্তিনিকেতন’ সম্পত্তি দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে। তৃণমূল জমানায় এ সংস্থাকে ঘিরে একাধিক প্রশ্ন উঠেছিল। এর মধ্যেই কলকাতা পুরসভার দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার দিনেই আচমকা পুলিশের উপস্থিতি নতুন করে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। গত সোমবার কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাট রোড এবং হরিশ মুখার্জি রোডের দুটি ঠিকানায় নোটিস পাঠানো হয়েছিল। অভিযোগ, ওই সম্পত্তিগুলিতে অতিরিক্ত নির্মাণ করা হয়েছে কি না এবং সেই নির্মাণের জন্য পুরসভার অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, তা জানতে চাওয়া হয়। পাশাপাশি ‘শান্তিনিকেতন’-এর বেআইনি অংশ ভেঙে ফেলার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। পুরসভার নজরে রয়েছে অভিষেকের মোট ১৭টি সম্পত্তি বলেও সূত্রের দাবি।
নোটিস অনুযায়ী সোমবারই ছিল জবাব দেওয়ার শেষ দিন। তবে তার আগেই কলকাতা পুরসভার কাছে অতিরিক্ত সময় চেয়ে আবেদন করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সে আবেদনে সাড়া দিয়ে সোমবারই তাঁকে আরও ১০ দিনের সময়সীমা দেয় কলকাতা পুরসভা। এ পরিস্থিতিতেই সোমবার অভিষেকের বাড়িতে পৌঁছে যায় কলকাতা পুলিশের একটি দল। যদিও পুলিশ আধিকারিকরা বাড়ি থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি। ফলে জল্পনা আরও বেড়েছে। প্রশ্ন উঠছে, ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ সংক্রান্ত কোনও বিষয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়েছে কি না, নাকি পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে নিরাপত্তাজনিত কারণেই এই ‘অভিযান’!
এই বিতর্কের মধ্যেই কয়েকদিন আগে কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতা পুরসভার নোটিস নিয়ে একের পর এক প্রশ্নের মুখে প্রথমে নীরব থাকলেও পরে গাড়ির কাঁচ নামিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেন তিনি। আঙুল তুলে সাংবাদিকদের উদ্দেশে অভিষেক বলেন, ‘নির্দিষ্ট করে জেনে আসুন বাড়ির কোন অংশটা অবৈধ। তারপর আমাকে প্রশ্ন করুন, উত্তর দেব।’ অভিষেকের সেই কড়া প্রতিক্রিয়া ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছিল। তবে শেষপর্যন্ত পরিস্থিতি কিছুটা নরম করতে দেখা যায় ডায়মন্ড হারবারের সাংসদকে।
❤ Support Us





