- দে । শ
- জুন ১১, ২০২৬
মমতা-কংগ্রেস ঘনিষ্ঠতার জল্পনায় ইন্ডিয়া জোটে ভাঙনের ইঙ্গিত বামেদের । বৃহস্পতিবার দিল্লিতে কংগ্রেসের জরুরি বৈঠকে কাদের তলব ?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কংগ্রেসের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার জল্পনাকে ঘিরে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বাংলার রাজনৈতিক মহল । এমন পরিস্থিতিতে কড়া অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে সিপিএম । দলীয় সূত্রের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কংগ্রেসে নেওয়া হলে প্রদেশ কংগ্রেসের সঙ্গে সমস্ত রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে পারে সিপিএম । এমনকি, ইন্ডিয়া জোটে দলের ভবিষ্যৎ অবস্থান নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে ।
সিপিএমের এক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যের দাবি, ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে কংগ্রেস নেতৃত্বকে সেই বার্তাও দেওয়া হয়েছে । তাঁর মতে, সাম্প্রতিক জোট বৈঠকে সিপিএমের শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতি ছিল সেই রাজনৈতিক অবস্থানেরই ইঙ্গিত ।
অন্যদিকে, মমতার সম্ভাব্য কংগ্রেস-যোগের জল্পনায় অস্বস্তি তৈরি হয়েছে প্রদেশ কংগ্রেসের একাংশের মধ্যেও । প্রবীণ কংগ্রেস নেতা আবদুল মান্নান কটাক্ষ করে বলেন, “নর্দমার জল গঙ্গাকে অপবিত্র করে । কংগ্রেস নোংরা জলে অপবিত্র হবে কি না, তা হাইকমান্ডকে ভাবতে হবে ।”
দীর্ঘদিন ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে কার্যত অনুপস্থিত থাকার পর সম্প্রতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে বৈঠকে যোগ দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । সেখানে তাঁকে শুভেচ্ছা জানান সোনিয়া গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গেসহ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব । সেই ঘটনার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয় যে, মমতাকে কংগ্রেসে যোগদানের প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে ।
এই সম্ভাবনার আঁচ আগেই পেয়েছিল সিপিএম নেতৃত্ব । সেই কারণেই ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে পলিটব্যুরোর কোনও সদস্যকে না পাঠিয়ে রাজ্যসভার সাংসদ জন ব্রিটাসকে প্রতিনিধি হিসেবে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে ।
এরপর সোমবারের বৈঠকের পর বুধবার রাহুল গান্ধী ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একান্ত বৈঠক রাজনৈতিক জল্পনাকে আরও উসকে দেয়। সূত্রের খবর, মমতার সম্ভাব্য কংগ্রেস-যোগ এবং তার রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকেও আলোচনা হয়েছে । আগামী রাজ্য কমিটির বৈঠকে জেলার প্রতিনিধিদের মতামত নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে দল কঠোর অবস্থান নিতেই পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে ।
সিপিএমের ওই কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেস এখন বিশ্বাসযোগ্যতা এবং রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা — দুটিই হারিয়েছে । রাজ্যে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অন্যতম প্রবক্তা হিসেবে তাঁদের দেখা হয় । তাই তাঁদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলাই উচিত ।” তাঁর মতে, এমন পরিস্থিতিতে প্রদেশ কংগ্রেসের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখাও কঠিন হয়ে উঠবে।
শুধু রাজ্য রাজনীতি নয়, জাতীয় স্তরেও প্রশ্ন উঠেছে । বিজেপিকে পরাজিত করার লক্ষ্যেই এতদিন ইন্ডিয়া জোটে ছিল বামপন্থীরা। কিন্তু মমতা কংগ্রেসে যোগ দিলে জোটে থাকা উচিত কি না, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে সিপিএম।
তবে তৃণমূল কংগ্রেস ও কংগ্রেস — দুই দলের শীর্ষ নেতৃত্বই দলগত সংযুক্তি বা একীভূত হওয়ার জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছে । কিন্তু একই সঙ্গে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের সম্ভাবনাও অস্বীকার করেনি তারা । তৃণমূল সূত্রের বক্তব্য, দলভিত্তিক সংযুক্তির প্রশ্ন নেই, তবে আগামী দিনে কংগ্রেস ও তৃণমূল একসঙ্গে পথ চলতে পারে ।
রাজ্যের পুরসভা, পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে বৃহত্তর রাজনৈতিক লড়াইয়েও দুই দলের মধ্যে সমঝোতা ও জোটের সম্ভাবনা ক্রমশ জোরালো হচ্ছে । তৃণমূলের একাংশের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিজেপি-বিরোধী ভোটকে একত্রিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য । সেই কারণেই কংগ্রেসের সঙ্গে দূরত্ব কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ।
তৃণমূলের দাবি, সিপিএম ইতিমধ্যেই কংগ্রেসের সঙ্গে কার্যত রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে । ফলে কংগ্রেস-তৃণমূল সমঝোতার পথে পূর্ববর্তী বাধাগুলিও অনেকটাই দূর হয়েছে । সেই প্রেক্ষাপটেই রাহুল-অভিষেক বৈঠকে বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন এবং বিরোধী রাজনীতির ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
সব মিলিয়ে রাজনৈতিক মহলে এখন সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে একটি বার্তা—‘যোগ নয়, জোট’। কংগ্রেস ও তৃণমূলের নতুন সমীকরণ বাস্তব রূপ পাবে কি না, তা এখন সময়ই বলবে ।
এদিকে, বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে জরুরি বৈঠক ডেকেছে কংগ্রেস । সব রাজ্যের প্রদেশ সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকদের দিল্লির ইন্দিরা ভবনে তলব করা হয়েছে । বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে । মাত্র একদিনের নোটিসে এমন বৈঠক ডাকার ঘটনা বিরল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা । ফলে জল্পনা আরও বেড়েছে যে, বৈঠকে কোনও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বা নতুন কৌশল সম্পর্কে দলের নেতাদের অবহিত করা হতে পারে ।
❤ Support Us





