Advertisement
  • দে । শ
  • মে ২৩, ২০২৬

ড্রোন-রেডার-ক্যামেরায় নিশ্ছিদ্র নজরদারি, পাকিস্তান-বাংলাদেশ সীমান্তে প্রযুক্তিনির্ভর ‘স্মার্ট বর্ডার’-এর ঘোষণা শাহর

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ড্রোন-রেডার-ক্যামেরায় নিশ্ছিদ্র নজরদারি, পাকিস্তান-বাংলাদেশ সীমান্তে প্রযুক্তিনির্ভর ‘স্মার্ট বর্ডার’-এর ঘোষণা শাহর

পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বিস্তীর্ণ আন্তর্জাতিক সীমান্তকে এ বার সম্পূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির আওতায় আনতে চলেছে কেন্দ্র। সীমান্ত পাহারায় শুধু জওয়ান নয়, ব্যবহার করা হবে ড্রোন, রেডার, হাই-রেজলিউশন ক্যামেরা, সেন্সর-ভিত্তিক মনিটরিং ব্যবস্থা এবং অত্যাধুনিক নজরদারি প্রযুক্তি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শুক্রবার নয়াদিল্লিতে বিএসএফের বার্ষিক ‘রুস্তমজি মেমোরিয়াল’ বক্তৃতায় ঘোষণা করলেন কেন্দ্রের বহু প্রতীক্ষিত ‘স্মার্ট বর্ডার’ প্রকল্পের কথা। তাঁর দাবি, আগামী এক বছরের মধ্যেই এ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে যাবে। লক্ষ্য একটাই— পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সীমান্তকে ‘দুর্ভেদ্য’ করে তুলে অনুপ্রবেশে সম্পূর্ণ লাগাম টানা।

এ দিন সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন শাহ। তাঁর বক্তব্য, বর্তমান সময়ে সীমান্ত রক্ষা আর শুধুমাত্র প্রচলিত পদ্ধতিতে সম্ভব নয়। প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্তে সর্বক্ষণ মানবিক নজরদারি রাখা কার্যত অসম্ভব। সে কারণেই প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারিকেই ভবিষ্যতের পথ হিসেবে দেখছে কেন্দ্র। শাহ বলেন, ‘খুব দ্রুত এমন একটি স্মার্ট বর্ডার কাঠামো গড়ে তোলা হবে, যেখানে ড্রোন, রেডার, নজরদারি ক্যামেরা এবং একাধিক আধুনিক ডিভাইস ব্যবহার করে সীমান্তের প্রতিটি নড়াচড়ার উপর নজর রাখা সম্ভব হবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, এই প্রকল্প চালু হলে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাজ অনেক বেশি কার্যকর হবে। শুধু স্থলপথ নয়, নদীবেষ্টিত সীমান্ত অঞ্চল এবং আকাশপথেও নজরদারি জোরদার করা হবে। সীমান্তের যেসব অংশ এখনো কাঁটাতারের বাইরে রয়েছে, সেগুলিকেও দ্রুত সুরক্ষার আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। বিএসএফকে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন শাহ। অনুপ্রবেশ ইস্যুতেও এ দিন অত্যন্ত কড়া অবস্থান নেয় কেন্দ্র। শাহ স্পষ্ট ভাষায় জানান, কেন্দ্র সরকারের নীতি ‘জিরো টলারেন্স’। তাঁর কথায়, শুধু নতুন করে অনুপ্রবেশ ঠেকানোই নয়, ইতিমধ্যেই যারা বেআইনিভাবে দেশে ঢুকেছে, তাদের শনাক্ত করে ফেরত পাঠানোর কাজেও জোর দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘দেশের জনবিন্যাসের স্বাভাবিক চরিত্র বদলে দেওয়ার যে কোনো চেষ্টা সরকার বরদাস্ত করবে না।’

বিএসএফের মঞ্চ থেকেই শাহ দাবি করেন, সীমান্তবর্তী কিছু এলাকায় ধারাবাহিক অনুপ্রবেশের ফলে জনবিন্যাস বদলের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও অসম সরকারের সঙ্গে কেন্দ্রের সমন্বয়ের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, এই রাজ্যগুলির প্রশাসন অনুপ্রবেশ রুখতে কেন্দ্রের নীতির সঙ্গে একমত এবং প্রতিটি অনুপ্রবেশকারীকে শনাক্ত করে বহিষ্কারের বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এ দিনের বক্তৃতায় মোদি সরকারের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা নীতির পরিবর্তনের প্রসঙ্গও টেনে আনেন শাহ। তাঁর দাবি, ২০১৪ সালের আগে জঙ্গি হামলার পরে মূলত কূটনৈতিক আলোচনা ও নরমপন্থার উপর জোর দেওয়া হতো। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে। সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, এয়ার স্ট্রাইকের মতো পদক্ষেপের মাধ্যমে ভারত ‘সরাসরি জবাব’-এর নীতি নিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সীমান্ত নিরাপত্তার বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলিও বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য,  শুধু অনুপ্রবেশ নয়, মাদক পাচার, গরু পাচার, জাল নোটের কারবার এবং ড্রোন ব্যবহার করে অস্ত্র ও নিষিদ্ধ সামগ্রী পাঠানোর মতো ঘটনাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। সে কারণেই গোটা সীমান্ত ব্যবস্থাকে প্রযুক্তির মাধ্যমে আরও শক্তিশালী করা জরুরি হয়ে উঠেছে। এ দিন সীমান্তবর্তী গ্রামগুলির উন্নয়ন নিয়েও কথা বলেন শাহ। ‘ভাইব্র্যান্ট ভিলেজ’ প্রকল্পের প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ দ্রুত এগোচ্ছে বলে জানান তিনি। সীমান্ত অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা, পরিকাঠামো এবং নিরাপত্তা জোরদারে বিএসএফের ভূমিকাও তুলে ধরেন। পাশাপাশি বিএসএফের কার্যপরিধি ১৫ কিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত করার সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!