- দে । শ
- জুন ১৫, ২০২৬
তারেক রহমানের উপদেষ্টাকে দিল্লি বিমানবন্দরে বাধা, পরে অনুমতি মিললেও ঢাকায় ফিরলেন প্রতিনিধি
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নীতি ও কৌশলবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানকে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় আড়াই ঘণ্টা আটকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাঁর দেশে প্রবেশের অনুমতি দিলেও তিনি আর ভারতে না থেকে কলম্বো হয়ে ঢাকায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এ ঘটনায় দু-দেশের কূটনৈতিক মহলে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন সরকার ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথম সে দেশের কোনো শীর্ষ সরকারি ব্যক্তিত্বকে ঘিরে এমন ঘটনার খবর সামনে এল। ফলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের সাম্প্রতিক সমীকরণ নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম ‘প্রথম আলো’-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, রবিবার সন্ধ্যায় নয়াদিল্লিতে পৌঁছন জাহেদ। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের আয়োজনে ১৫ ও ১৬ জুন অনুষ্ঠিত ‘ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশন’ (আইওআরএ)-এর অভিজ্ঞ কর্তাদের কমিটির ২৮তম বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু বিমানবন্দরে অভিবাসন সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার সময় তাঁকে আটকে রাখা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরে উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপে জাহেদের ভারতে প্রবেশের অনুমতি মেলে। কিন্তু তার পরেও তিনি ভারতে না থেকে কলম্বো হয়ে ঢাকায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। জানা গিয়েছে, সফরের আগে সমস্ত কূটনৈতিক প্রক্রিয়াই সম্পন্ন করা হয়েছিল। শুক্রবার কূটনৈতিক নোট পাঠিয়ে জাহেদের সফরসূচি সম্পর্কে ভারতের বিদেশ মন্ত্রককে আনুষ্ঠানিক ভাবে জানিয়েছিল দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন। এমনকি বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহও সংশ্লিষ্ট ভারতীয় আধিকারিকদের সঙ্গে আগাম যোগাযোগ করেছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও কেন বিমানবন্দরে তাঁকে আটকে রাখা হল, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে দিল্লির কূটনৈতিক মহলের একাংশেরর দাবি, যাচাই প্রক্রিয়ার সময় জাহেদের নাম ‘নিরাপত্তা-সংক্রান্ত নজরদারি তালিকায়’ উঠে আসে। আরও জানা গিয়েছে, তিনি কূটনৈতিক পাসপোর্টে নয়, ‘সার্ক স্টিকার’যুক্ত সাধারণ সবুজ পাসপোর্টে সফর করছিলেন। ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে নানা ব্যাখ্যা।
জাহেদ উর রহমান বাংলাদেশের নতুন প্রশাসনের অন্যতম পরিচিত মুখ। পেশায় চিকিৎসক হলেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামলেখক হিসেবে পরিচিত। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গঠিত নির্বাচন সংস্কার কমিশনের সদস্য হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। গণতন্ত্র, নির্বাচন, সুশাসন ও মানবাধিকার নিয়ে তাঁর লেখালিখি বাংলাদেশে যথেষ্ট আলোচিত। ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসে বিএনপি। ২০২৪ সালের অগস্টে বিক্ষোভের জেরে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সেটাই ছিল বাংলাদেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচন। তার পর থেকেই নয়াদিল্লি ও ঢাকার সম্পর্ক নতুন পর্বে প্রবেশ করেছে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।
সম্প্রতি খবর প্রকাশিত হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর ভারত বা চিনে নয়, মালয়েশিয়ায় হতে পারে। বাংলাদেশের পর্যবেক্ষকদের মতে, ভারত ও চিনের মধ্যে কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখার লক্ষ্যেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা। উল্লেখযোগ্য ভাবে, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই ভারতের তরফে সম্পর্কের বরফ গলানোর চেষ্টা দেখা গিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে তারেক রহমানের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে পাঠান। সে সময়ই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে ভারত সফরের আমন্ত্রণ পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল।
কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, দিল্লি বিমানবন্দরের এ ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলেই দেখা উচিত। কারণ, শেষ পর্যন্ত জাহেদকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে যে সময়ে ঢাকা তাদের বৈদেশিক নীতির নতুন রূপরেখা তৈরির চেষ্টা করছে, সে সময়ে এমন ঘটনার রাজনৈতিক অভিঘাত কতটা পড়ে, সে দিকেই এখন নজর থাকবে দুই দেশের। ভারতের কাছে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত প্রতিবেশী। বাণিজ্য, যোগাযোগ, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং সামুদ্রিক কূটনীতিতে দুই দেশের পারস্পরিক নির্ভরতা যথেষ্ট গভীর। সে কারণেই জাহেদ উর রহমানকে ঘিরে দিল্লি বিমানবন্দরের ঘটনাকে শুধুমাত্র প্রশাসনিক জটিলতা হিসেবে দেখার সুযোগ কম বলেই মনে করছেন অনেকে।
❤ Support Us





