Advertisement
  • দে । শ
  • জুন ১৫, ২০২৬

ন্যাশনাল মেডিক্যাল রেজিস্টারে ধীরগতি, দু-বছরে শংসাপত্র পেয়েছেন মাত্র ১,৮০০ চিকিৎসক, ঝুলে ৩০ হাজার আবেদন

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ন্যাশনাল মেডিক্যাল রেজিস্টারে ধীরগতি, দু-বছরে শংসাপত্র পেয়েছেন মাত্র ১,৮০০ চিকিৎসক, ঝুলে ৩০ হাজার আবেদন

দেশের সমস্ত অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসকদের এক ছাতার তলায় এনে একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল তথ্যভান্ডার তৈরির লক্ষ্যেই প্রায় দু-বছর আগে ন্যাশনাল মেডিক্যাল রেজিস্টার (এনএমআর) চালু করেছিল কেন্দ্র । বহুল প্রচারিত এই প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন। সরকারি তথ্য বলছে, এখনো পর্যন্ত ‘এনএমআর’-এর আওতায় শংসাপত্র পেয়েছেন মাত্র ১,৮০০ জন নিবন্ধিত চিকিৎসক । অথচ যাচাইয়ের অপেক্ষায় পড়ে রয়েছে ৩০ হাজারেরও বেশি আবেদন ।

ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন (এনএমসি)-র ১৭তম বৈঠকের কার্যবিবরণী থেকে উঠে এসেছে এ তথ্য । কমিশনের চেয়ারম্যান ডা. অভিজিৎ চন্দ্রকান্ত শেঠের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে ‘এনএমআর’-এর ধীরগতির বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সদস্যদের একাংশ। পরিস্থিতি সামাল দিতে ও প্রকল্পের বাস্তবায়নে গতি আনতে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে ।

২০২৪ সালের আগস্টে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নড্ডা এনএমআর পোর্টালের সূচনা করেন । প্রথমে জানানো হয়েছিল, দেশের সমস্ত নিবন্ধিত চিকিৎসকের জন্য এই পোর্টালে নাম নথিভুক্ত করা বাধ্যতামূলক । সংসদে ২০২৩ সালে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে নিবন্ধিত চিকিৎসকের সংখ্যা প্রায় ১৩ লক্ষ ৫০ হাজার । সে হিসেবে এখনো পর্যন্ত আবেদনকারীদের মাত্র ০.০৫ শতাংশকে শংসাপত্র দেওয়া সম্ভব হয়েছে । যদিও প্রকল্প শুরুর কয়েক মাসের মধ্যেই কেন্দ্র অবস্থান বদলায় । গত বছরের ৮ আগস্ট সংসদে স্বাস্থ্য মন্ত্রক লিখিত জবাবে জানায়, ‘এনএমআর’-এ নাম নথিভুক্ত করা আর বাধ্যতামূলক নয়, বরং তা স্বেচ্ছাভিত্তিক করা হয়েছে ।

‘এনএমসি’-র বৈঠকের কার্যবিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘এনএমআর’-এর অগ্রগতিতে একাধিক বাধা সামনে এসেছে । এর মধ্যে রয়েছে স্বেচ্ছাভিত্তিক নিবন্ধন পদ্ধতি, বিভিন্ন রাজ্যের মেডিক্যাল রেজিস্টার এবং কেন্দ্রীয় ডেটাবেসের মধ্যে তথ্যগত অসঙ্গতি এবং প্রযুক্তিগত জটিলতা। কমিশনের মতে, এসব কারণেই কাজের গতি মন্থর হয়ে পড়েছে। বৈঠকে ‘এনএমসি’-র সচিব ডা. রাঘব লাঙ্গার জানান, বর্তমানে বিভিন্ন রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিল চিকিৎসকদের নিবন্ধনের জন্য পৃথক অনলাইন পোর্টাল কিংবা অফলাইন পদ্ধতি ব্যবহার করছে। ফলে রাজ্য মেডিক্যাল রেজিস্টার ও ‘এনএমআর’-এর মধ্যে দ্রুত তথ্য বিনিময় সম্ভব হচ্ছে না। এ সমস্যার সমাধানে একটি সর্বভারতীয় অভিন্ন নিবন্ধন পোর্টালের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছেন তিনি ।

এনএমসি সূত্রের খবর, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি কমিটি গঠন করা হতে পারে। সে কমিটি নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করা, প্রযুক্তিগত সমস্যা দূর করা, রাজ্য ও কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডারের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়ে সুপারিশ করবে। তবে, ‘এনএমআর’-কে ঘিরে অসন্তোষ নতুন নয়। কেরালার চিকিৎসক ও তথ্য অধিকার কর্মী ডা. কে ভি বাবু, যিনি নিজেও ‘এনএমআর’-এ নাম নথিভুক্ত করতে গিয়ে সমস্যার মুখে পড়েছিলেন, দাবি করেছেন যে, শুরু থেকেই চিকিৎসক মহলের একাংশ এ প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। সম্প্রতি ‘আরটিআই’-এর মাধ্যমে ‘এনএমসি’-র বৈঠকের কার্যবিবরণী হাতে পাওয়ার পর তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের আগস্টেই অনেকেই সতর্ক করেছিলেন যে, এই পদ্ধতিতে এনএমআর কার্যকর করা কঠিন হবে। প্রায় দু-বছর কেটে গেলেও আবেদনকারীদের অতি সামান্য অংশ শংসাপত্র পেয়েছেন। দেশের চিকিৎসকদের একটি নির্ভরযোগ্য ও হালনাগাদ তথ্যভান্ডার তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি।’ শুধু স্বাস্থ্য পরিষেবার মানোন্নয়ন নয়, নতুন মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের অনুমোদনের ক্ষেত্রেও এই তথ্যভান্ডার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তাই ‘এনএমসি’-র উচিত আলোচনার ভিত্তিতে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর সমাধানের পথ খুঁজে বের করা।

অন্যদিকে, চিকিৎসকদের একাংশের অভিযোগ, ‘এনএমআর’-এ নাম নথিভুক্তির ক্ষেত্রে আধার কার্ডের তথ্য, রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলে জমা থাকা নথি এবং ব্যক্তিগত তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি থাকায় সমস্যায় পড়ছেন বহু আবেদনকারী। নামের বানান, পদবি কিংবা জন্মতারিখে সামান্য অমিল থাকলেও আবেদন আটকে যাচ্ছে বলে অভিযোগ। দেশের সব অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসকের একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেস গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে এনএমআর চালু করা হয়েছিল। এই ডেটাবেসের মাধ্যমে চিকিৎসকদের পরিচয় যাচাই, স্বাস্থ্য পরিষেবা পরিকল্পনা এবং নতুন মেডিক্যাল কলেজ অনুমোদনের ক্ষেত্রেও সুবিধা হবে বলে জানিয়েছিল কেন্দ্র। কিন্তু প্রকল্প চালুর প্রায় দু-বছর পরেও বাস্তব চিত্র যে প্রত্যাশার থেকে অনেক দূরে, তা স্পষ্ট করে দিল ‘এনএমসি’-র সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!