- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- জুন ৯, ২০২৬
কম্বোডিয়ায় সক্রিয় ৩৬ হাজার ভারতীয় সিম ! ১০০ কোটির সাইবার জালিয়াতি চক্র, তদন্তে ইডি
ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে সংঘটিত অন্তত ১০০টি সাইবার প্রতারণার ঘটনার মধ্যে মিল খুঁজে পেয়ে বৃহৎ আন্তর্জাতিক জালিয়াতি চক্রের সন্ধান পেল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য— প্রায় ৩৬ হাজার ভারতীয় মোবাইল সিম কার্ড কম্বোডিয়া থেকে পরিচালিত হচ্ছিল, যার মধ্যে অন্তত ৫,৩০০টি সিম সরাসরি সাইবার প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত হয়েছে বলে অভিযোগ।
ইডির তদন্ত শুরু হয় রাজস্থানের যোধপুর সাইবার ক্রাইম থানায় দায়ের হওয়া একটি এফআইআরের ভিত্তিতে। অভিযোগ ছিল, কিছু ‘পয়েন্ট-অফ-সেল’ কাউন্টারের অসাধু বিক্রেতারা অবৈধভাবে সিম কার্ড সক্রিয় করে সেগুলি অপরাধচক্রের হাতে তুলে দিচ্ছিল। তদন্তে জানা যায়, জাল নথি কিংবা প্রতারণামূলক উপায়ে ভারতে বিপুল সংখ্যক মোবাইল নম্বর সক্রিয় করা হয়েছিল। পরে সেই সিম কার্ডগুলি মালয়েশিয়ার নাগরিকদের মাধ্যমে কম্বোডিয়ায় পাচার করা হতো। সেখানে বসেই প্রতারকরা হোয়াটসঅ্যাপ কল, মেসেজিং অ্যাপ এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের মানুষকে টার্গেট করত।
প্রায় ২.৩ লক্ষ মোবাইল নম্বরের বিশ্লেষণ করে ইডি দেখতে পায়, তার মধ্যে ৩৬ হাজার নম্বর কম্বোডিয়ায় সক্রিয় ছিল। আরও উদ্বেগের বিষয়, নম্বরগুলির মধ্যে অন্তত ৫,৩০০টির বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই সাইবার প্রতারণার অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, এই জালিয়াতির আর্থিক পরিমাণ ১০০ কোটি টাকারও বেশি। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের স্বল্পশিক্ষিত ও অসচেতন মানুষদের টার্গেট করত চক্রটি। কখনো নম্বর পোর্ট করার নামে, কখনো নতুন সিম দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের পরিচয়পত্র সংগ্রহ করা হতো। পরে সেসব নথি ব্যবহার করে অসংখ্য সিম কার্ড সক্রিয় করা হয় এবং প্রকৃত গ্রাহকের অজান্তেই সেগুলি বিদেশে পাচার করা হতো।
এ মামলায় জড়িত থাকার সন্দেহে সম্প্রতি ইডি রাজস্থানের কিষানগড়, নাগৌর ও যোধপুর এবং পাঞ্জাবের লুধিয়ানায় একাধিক স্থানে তল্লাশি চালায়। অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ নথি, ডিজিটাল প্রমাণ এবং বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্য উদ্ধার হয়েছে। তদন্তকারীরা অর্থপাচারের দিকটিও খতিয়ে দেখছেন। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, গত কয়েক বছরে কম্বোডিয়া আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারণা চক্রের অন্যতম বড় ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। সেখান থেকে পরিচালিত কল সেন্টার ও অনলাইন স্ক্যাম নেটওয়ার্ক বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে তেলঙ্গানা সাইবার সিকিউরিটি ব্যুরোও একটি অনুরূপ চক্রের সন্ধান পেয়েছিল। সে ঘটনায় জানা যায়, ২০২৩ সাল থেকে ৬০০-রও বেশি ভারতীয় সিম কম্বোডিয়ায় পাচার করা হয়েছিল। ওই মামলায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তকারীদের ধারণা, বর্তমান মামলাটি আরও বৃহৎ আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের অংশ। ইডির দাবি, তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। বিদেশে বসে এই চক্র পরিচালনাকারী মূল হোতাদের শনাক্ত করাই এখন সবচেয়ে বড়ো চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া অর্থের গতিপথ অনুসরণ করে তা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। এছাড়া আরও কত ভারতীয় সিম আন্তর্জাতিক জালিয়াতি চক্রের হাতে পৌঁছেছে, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
❤ Support Us




