- দে । শ
- আগস্ট ১৪, ২০২৬
স্বাধীনতা দিবসে দময়ন্তী সেন-সহ ১৪ আইপিএসকে মুখ্যমন্ত্রী পদক
কর্তব্য পালনে দক্ষতা, নিষ্ঠা এবং বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে স্বাধীনতা দিবসে রাজ্যের ১৪ জন আইপিএস আধিকারিককে মুখ্যমন্ত্রী-পদকে সম্মানিত করা হবে। আগামী ১৫ আগস্ট রেড রোডে স্বাধীনতা দিবসের মূল অনুষ্ঠানে তাঁদের হাতে এ সম্মান তুলে দেওয়া হবে। রাজ্য পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং প্রশাসনিক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকার জন্যই তাঁদের বেছে নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, এ বার দু-টি পৃথক বিভাগে এই পদক দেওয়া হচ্ছে। ‘আউটস্ট্যান্ডিং সার্ভিস’ অর্থাৎ অসামান্য কাজের জন্য সম্মানিত করা হবে ৬ জনকে। অন্যদিকে, ‘কমেন্ডেবল সার্ভিস’ বা প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতি পাবেন আরও ৮ জন দুঁদে আইপিএস আধিকারিক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন, গুরুত্বপূর্ণ তদন্ত ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে তাঁদের ভূমিকার মূল্যায়নের পরেই এ তালিকা চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
‘আউটস্ট্যান্ডিং সার্ভিস’-এর তালিকায় রয়েছেন দময়ন্তী সেন, অজয় কুমার, নীরজকুমার সিংহ, কে জয়রামন, প্রণব কুমার এবং কুণাল অগ্রবাল। রাজ্য পুলিশের পরিচিত এবং অভিজ্ঞ আধিকারিকদের মধ্যে অন্যতম দময়ন্তী। তাঁর কর্মজীবনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তদন্তের দায়িত্ব এসেছে। বিশেষ করে পার্ক স্ট্রিট ধর্ষণ-কাণ্ডের তদন্তের সময় তাঁর ভূমিকা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে যথেষ্ট আলোড়ন তৈরি হয়েছিল। সেসময় তদন্তের নিরপেক্ষতা এবং পেশাদারিত্বের প্রশ্নও সামনে এসেছিল। এ বার তাঁরই কাজের স্বীকৃতি হিসাবে মুখ্যমন্ত্রী-পদক দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
অজয় কুমারের নামও রাজ্যের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তদন্তের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। রিজওয়ানুর রহমানের মৃত্যুর তদন্তের দায়িত্ব এক সময় তাঁর উপর ছিল। অন্যদিকে, কে জয়রামনের দীর্ঘ কর্মজীবনে রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তদন্তের অভিজ্ঞতা। দুর্নীতি-বিরোধী তদন্তেও তাঁর ভূমিকা নজরে এসেছে। তাঁদের পাশাপাশি নীরজকুমার সিংহ, প্রণব কুমার এবং কুণাল অগ্রবালের কর্মক্ষেত্রে অবদানও এ বার ‘অসামান্য’ হিসাবে বিবেচিত হয়েছে। ‘কমেন্ডেবল সার্ভিস’-এর জন্য মুখ্যমন্ত্রী-পদক পাচ্ছেন আরও ৮ জন। সে তালিকায় রয়েছেন প্রেসিডেন্সি বিভাগের আইজি কঙ্কর প্রসাদ বারুই, চন্দননগরের পুলিশ কমিশনার সুনীল কুমার যাদব, বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার রাঠোর অমিত কুমার ভরত এবং কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ট্রাফিক) সূর্য প্রতাপ যাদব।
এছাড়াও সম্মানিত হচ্ছেন পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা, পূর্ব বর্ধমানের পুলিশ সুপার পুষ্পা, মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলার সুপার শচীন মক্কর এবং বারুইপুর পুলিশ জেলার সুপার ডক্টর অরবিন্দ কুমার আনন্দ। জেলা পুলিশ থেকে শুরু করে কমিশনারেট এবং রাজ্য পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামলানো এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাঁদের কাজকে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, প্রতি বছরই স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে পুলিশ আধিকারিকদের বিশেষ অবদানের জন্য এ পদক দেওয়া হয়। প্রশাসনিক মহলের মতে, এ সম্মানের পিছনে শুধু ব্যক্তিগত কৃতিত্বকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি নেই, পুলিশ বাহিনীর অন্য আধিকারিকদেরও দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্য রয়েছে। বিশেষত কঠিন পরিস্থিতিতে দায়িত্ব সামলে যাঁরা সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন, তাঁদের কাজের স্বীকৃতি বাহিনীর নিচুতলার কর্মীদের মধ্যেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এবছরও, রেড রোডে স্বাধীনতা দিবসের মূল অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং কুচকাওয়াজের আবহেই হবে পদক প্রদান অনুষ্ঠান। রাজ্য প্রশাসনের বক্তব্য, রাজনৈতিক বা অন্য কোনো বিবেচনার বাইরে আধিকারিকদের কাজের দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা এবং কর্মক্ষেত্রে তাঁদের অবদানকেই মূল মাপকাঠি করা হয়েছে। স্বাধীনতা দিবসের মঞ্চে এই সম্মান তাই সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের কাছে যেমন গর্বের, তেমনই রাজ্য পুলিশের কাছেও তা বিশেষ তাৎপর্যের।
❤ Support Us





