- এই মুহূর্তে দে । শ
- আগস্ট ১৪, ২০২৬
জনগণনার এনুমারেশনে ৪০ প্রশ্ন, নতুন বিজ্ঞপ্তি কেন্দ্রের
২০২৭ সালের ষোড়শ জনগণনাকে ঘিরে নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করল কেন্দ্রীয় সরকার। প্রথম বিজ্ঞপ্তিতে ৩৩টি প্রশ্নের তালিকা প্রকাশ করা হলেও দ্বিতীয় বিজ্ঞপ্তিতে আরও সাতটি প্রশ্ন যুক্ত হওয়ায় বাড়ি-বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের সময় মোট ৪০টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত কেন্দ্রের গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, জনগণনার এনুমারেশন পর্বে ধর্মীয় ও জাতিগত পরিচয়ের পাশাপাশি কোভিড টিকাকরণ সংক্রান্ত তথ্যও সংগ্রহ করা হবে।
ভারতের রেজিস্ট্রার জেনারেল মৃত্যুঞ্জয় কুমার নারায়ণের আদেশে এ নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। জনগণনা প্রক্রিয়ায় ধর্মীয় পরিচয়, জাতিগত পরিচয় এবং বিশেষ করে কেউ তফসিলি জাতি বা তফসিলি জনজাতি-ভুক্ত কি না, সেই তথ্য নেওয়া হবে। এর পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কোভিডের টিকা নিয়েছেন কি না, তাও জানতে চাওয়া হবে। গত ১ এপ্রিল থেকে ২০২৭ সালের জনগণনার প্রথম পর্যায়ের কাজ শুরু হয়েছে। এ পর্যায়ে বাড়ির তালিকা, বাড়ির অবস্থা-সহ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এরপর শুরু হবে মূল পপুলেশন এনুমারেশন, অর্থাৎ বাড়ি-বাড়ি গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ। পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের অধিকাংশ এলাকায় এই পর্ব আগামী ১৬ আগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে।
তবে দেশের কিছু তুষারাবৃত অঞ্চলের ক্ষেত্রে সময়সূচিতে পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন গেজেট বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, লাদাখ, জম্মু ও কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ডের তুষারাবৃত এলাকাগুলিতে জনগণনার তথ্য সংগ্রহের কাজ চলতি বছরের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হবে। মূলত ওই বিশেষ সময়সূচি অনুযায়ী জনগণনা প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্যই নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এবার জনগণনায় ‘স্ব-গণনা’ বা ‘সেলফ এনুমারেশন’-এর ব্যবস্থাও থাকছে। বাড়ি-বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ শুরুর আগে নাগরিকদের নিজেদের তথ্য নিজেরাই জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। গেজেট বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই স্ব-গণনার পর্ব ১৭ থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। তবে পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের বাকি অংশে দ্বিতীয় পর্যায়ের জনগণনা আগামী বছর অনুষ্ঠিত হবে। স্ব-গণনার জন্য ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সুযোগ থাকার কথাও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রথম পর্যায়ে প্রকাশিত ৩৩টি প্রশ্নের মধ্যে পরিবারের বাড়ি ও বসবাসের পরিস্থিতি সম্পর্কে একাধিক তথ্য চাওয়া হয়েছে। যেমন— বাড়ির নম্বর, বাড়ির অবস্থা, ঘরের মেঝে কী দিয়ে তৈরি, শৌচাগার, স্নানাগার, নিকাশি ব্যবস্থা, জ্বালানির ধরন এবং পানীয় জলের পর্যাপ্ত সুবিধা রয়েছে কি না— এসব তথ্য সংগ্রহ করা হবে। পরিবারের সদস্যদের জন্য কী ধরনের খাদ্যশস্য মূলত বাড়িতে আনা হয়, সেই প্রশ্নও থাকবে। এ ছাড়াও আধুনিক জীবনযাত্রার সঙ্গে সম্পর্কিত একাধিক তথ্যও নেওয়া হবে। পরিবারের কাছে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, ইন্টারনেট, সাইকেল, মোটরবাইক ইত্যাদি রয়েছে কি না, সে সম্পর্কেও প্রশ্ন থাকবে। পরিবারের মোট সদস্যসংখ্যা, তাঁদের লিঙ্গ, বৈবাহিক অবস্থা-সহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত তথ্যও সংগ্রহ করা হবে।
জনগণনা সংক্রান্ত কাজের প্রয়োজনে মোবাইল নম্বর, আধার, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স-এর মতো পরিচয়সংক্রান্ত তথ্যও নেওয়া হতে পারে। কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, এই তথ্যগুলি শুধুমাত্র জনগণনার কাজেই ব্যবহার করা হবে। জনগণনার দ্বিতীয় পর্যায়ের মূল গুরুত্ব থাকবে মানুষের ধর্মীয় ও জাতিগত পরিচয়, সংস্কৃতি এবং অন্যান্য সামাজিক তথ্য সংগ্রহের উপর। জনগণনা প্রক্রিয়ার মধ্যে জাতি গণনাকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার রাজনৈতিক বিষয়ক কমিটি। গত বছরের ৩০ এপ্রিল এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলে ২০২৭ সালের জনগণনা শুধু জনসংখ্যা নির্ধারণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। পরিবারের আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি, জীবনযাত্রার বিভিন্ন দিক, ধর্মীয় ও জাতিগত পরিচয় এবং স্বাস্থ্যসংক্রান্ত নির্দিষ্ট তথ্য—সব মিলিয়ে এবার জনগণনার তথ্যসংগ্রহের পরিধি আরও বিস্তৃত হচ্ছে।
❤ Support Us







