Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • মে ২০, ২০২৫

উত্তরবঙ্গ সফরে মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনিক বৈঠকের পাশাপাশি আজ একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
উত্তরবঙ্গ সফরে মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনিক বৈঠকের পাশাপাশি আজ একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন

উত্তরবঙ্গ সফরের দ্বিতীয় দিনে কর্মব্যস্ত দিন কাটাচ্ছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একাধিক প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি। সোমবার সকালে কলকাতা থেকে বাগডোগরা পৌঁছেই শিলিগুড়ির দীনবন্ধু মঞ্চে একটি ব্যবসায়িক সম্মেলনে (বিজনেস সামিট) যোগ দেন তিনি। গত আট বছর ধরে কলকাতায় হয়ে আসা বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনের ধাঁচেই এবার এই সামিটের আয়োজন করা হয়েছে শিলিগুড়িতে। প্রায় আড়াই ঘণ্টার ওই বৈঠকে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার শিল্পপতিদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দোপাধ্যায়ের এই সফরের মূল উদ্দেশ্য প্রশাসনিক হলেও, রাজনৈতিকভাবে এটি তৃণমূল কংগ্রেসের শক্তি প্রদর্শনের একটি মঞ্চ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মঙ্গলবার, মুখ্যমন্ত্রীর আজকের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে কয়েক হাজার কোটি টাকার একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস। মুখ্যমন্ত্রী ডাবগ্রামে আয়োজিত সরকারি পরিষেবা প্রদান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন, যেখানে বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা সরাসরি জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। গতকাল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, কলকাতা ও দিঘার মতো উত্তরবঙ্গেও একটি আধুনিক কনভেনশন সেন্টার তৈরি হবে, যেখানে নিয়মিত বাণিজ্য সম্মেলন আয়োজিত হবে। সেইসঙ্গে তিনি রাজ্যের মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে একটি কোর গ্রুপ গঠনের ঘোষণা করেন, যার কাজ হবে উত্তরবঙ্গের ক্ষুদ্র শিল্পে সমন্বয় সাধন ও বিকাশ ঘটানো।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসনিক কাজকর্ম ছাড়াও এই সফরের রাজনৈতিক গুরুত্বও যথেষ্ট। উত্তরবঙ্গের আটটি জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের জনসমর্থন গত কয়েক বছরে অনেকটাই বেড়েছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে এই সফরকে জনসংযোগ ও শক্তি প্রদর্শনের একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সোমবার, শিলিগুড়ির দীনবন্ধু মঞ্চে শিল্পপতিদের সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে আরো অনেক কিছু করার আছে। আপনাদের আমাদের পাশে থাকতে হবে।’ রাজ্যের শিল্প স্থাপনায় সরকারের সদিচ্ছার প্রশংসা করেন উপস্থিত ব্যবসায়ীরা। এ সময় আলিপুরদুয়ার, মালদা, কালিম্পং এবং উত্তর দিনাজপুরের একাধিক উদ্যোক্তা জমি, পরিকাঠামো, ট্যাক্স ছাড় সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা ও প্রস্তাব মুখ্যমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন।

এদিন, উত্তর দিনাজপুরের এক শিল্পোদ্যোগীর জিএসটি ও টোল ট্যাক্স সংক্রান্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে এই বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার জন্য রাজ্যের মুখ্যসচিবকে নির্দেশ দেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের তিন বিশিষ্ট শিল্পপতি– হর্ষ নেওটিয়া, সত্যম রায়চৌধুরী ও রুদ্র চট্টোপাধ্যায়। নেওটিয়া গ্রুপ আগামী ৫ বছরে বাংলায় ১৫ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের কথা ঘোষণা করে। অন্যদিকে সত্যম রায়চৌধুরীর টেকনো গ্রুপের উদ্যোগে মাটিগাড়ায় একটি আবাসিক স্কুলের উদ্বোধনও করেন মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়াও ওয়েবেলের ডেটা ব্যাঙ্ক প্রকল্প এবং জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে চারটি নতুন শিল্পতালুকেরও উদ্বোধন করেন তিনি। তবে জল্পেশ মন্দিরে নির্মীয়মাণ স্কাইওয়াকের পরিকাঠামো দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সবাই তো সিঁড়ি দিয়ে উঠতে পারবে না, বয়স্কদের যাতায়াতের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করতে হবে।’ পাশাপাশি, শিলিগুড়ির নাগরিক পরিসেবা বাড়ানোর লক্ষ্যে পুরসভার আয়তন বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনাও হয়। মেয়র গৌতম দেব এই প্রস্তাব দিলে মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে বিষয়টি লিখিতভাবে জমা দিতে বলেন। একইসঙ্গে মহানন্দা অভয়ারণ্যের সংলগ্ন এলাকায় বাড়ি নির্মাণ সংক্রান্ত বন দপ্তরের নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কেও দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দেন তিনি। উত্তরবঙ্গ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ-এর চেয়ারম্যান সঞ্জয় টিবরেওয়াল বলেন, ‘২০১১ সালের আগে উত্তরবঙ্গে এমন শিল্পবান্ধব পরিবেশ ছিল না। বন্‌ধ কালচারের কারণে বিনিয়োগে উদ্যোক্তারা পিছিয়ে ছিলেন। এখন সেই ভয় অনেকটাই কেটে গেছে।’ মোটের ওপর, প্রশাসনিক ও শিল্পোন্নয়নমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীর এই সফর উত্তরবঙ্গে তৃণমূলের সংগঠন ও জনভিত্তিকে আরও মজবুত করতেই যে পরিকল্পিত প্রয়াস, তা স্পষ্ট।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!