- দে । শ
- জুন ১, ২০২৬
বেআইনি পুর নির্মাণ ভাঙার আগে পর্যাপ্ত সময় দেওয়ার নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর
তিলজলা-তপসিয়া এলাকায় বেআইনি নির্মাণ ভাঙাকে কেন্দ্র করে কলকাতা হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণের পর প্রশাসনিক মহলে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে। কোনও বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট পরিবার ও বাসিন্দাদের পর্যাপ্ত সময় দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ।
কলকাতা পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার আলিপুরে বরো-৯ এলাকার আধিকারিকদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী । সেই বৈঠকেই তিলজলা-তপসিয়া এলাকায় বেআইনি নির্মাণ ভাঙার ক্ষেত্রে কলকাতা পুরসভার পদক্ষেপ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি ।
সূত্রের খবর, সংশ্লিষ্ট নির্মাণগুলি ভাঙার আগে নোটিস জারি এবং আইনি প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী । অভিযোগ, বাড়ি খালি করার জন্য অত্যন্ত স্বল্প সময় দিয়ে নোটিস জারি করা হয়েছিল এবং তার পরপরই ভাঙার কাজ শুরু করে কলকাতা পুরসভা । এই ঘটনায় পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের ডিজি উজ্জ্বল সরকারের কাছেও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে ।
এরই মধ্যে কলকাতা হাইকোর্ট ওই ভাঙার নোটিসের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করেছে । আদালতের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, কোনও নির্মাণ বেআইনি হলেও তা ভাঙার আগে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া মেনে চলা বাধ্যতামূলক । সংশ্লিষ্ট পক্ষকে যথাযথ নোটিস প্রদান, নিজেদের বক্তব্য পেশের সুযোগ এবং আইনসম্মত সময়সীমা না দিয়ে প্রশাসন একতরফাভাবে উচ্ছেদ বা ভাঙার পদক্ষেপ নিতে পারে না বলেও আদালত জানিয়েছে ।
হাইকোর্টের এই পর্যবেক্ষণের পর প্রশাসনের অন্দরে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে । বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন যে, বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে সরকারের কোনও আপত্তি নেই । তবে সেই পদক্ষেপ অবশ্যই আইনসম্মত এবং মানবিক হতে হবে । কোনও পরিবারকে আকস্মিকভাবে উচ্ছেদের মুখে ফেলা বা পর্যাপ্ত সময় না দিয়ে বাড়ি ভাঙার মতো পরিস্থিতি এড়ানোর উপর বিশেষ জোর দেন তিনি ।
একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে কোনওভাবেই বেআইনি নির্মাণকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না । নির্মাণের প্রাথমিক পর্যায় থেকেই নজরদারি জোরদার করা, নিয়মিত পরিদর্শন চালানো এবং প্রয়োজনে সময়মতো নোটিস জারির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে ।
বৈঠকে তিনি স্পষ্ট করে দেন, এই নির্দেশ শুধুমাত্র ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য নয়, সমগ্র কলকাতা শহরের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য । ফলে আগামী দিনে বেআইনি নির্মাণ রোধ ও মোকাবিলায় আরও সুসংহত, মানবিক এবং আইনসম্মত প্রশাসনিক পদক্ষেপ দেখা যেতে পারে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল ।
❤ Support Us





