Advertisement
  • এই মুহূর্তে স | হ | জ | পা | ঠ
  • অক্টোবর ১৫, ২০২৫

ফ্লোরিডার উপকূলে মৃত ডলফিনদের মস্তিষ্কে ‘আলজেইমারের ছাপ’ ! মানবদেহেও ছড়াতে পারে জীবাণু, সতর্কবার্তা বিজ্ঞানীদের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ফ্লোরিডার উপকূলে মৃত ডলফিনদের মস্তিষ্কে ‘আলজেইমারের ছাপ’ ! মানবদেহেও ছড়াতে পারে জীবাণু, সতর্কবার্তা বিজ্ঞানীদের

একের পর এক ডলফিনের দেহ ভেসে উঠছে ফ্লোরিডার উপকূলে। প্রথমে কেউ ভাবেনি, এর পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে ভয়ঙ্কর বৈজ্ঞানিক রহস্য। গবেষণা যত এগিয়েছে, ততই স্পষ্ট হয়েছে, মৃত ডলফিনগুলির মস্তিষ্কে রয়েছে এমন এক রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতি, যা মানুষের মস্তিষ্কে আলজেইমার রোগের মতো ক্ষয় ডেকে আনে। গবেষকদের মতে, এই রাসায়নিকটির উৎস সায়ানোব্যাকটেরিয়া, অর্থাৎ নীল-সবুজ শৈবাল। দেখতে নিরীহ হলেও, এই অণুজীবই ফ্লোরিডার জলাশয়জুড়ে নীরব বিপর্যয়ের জন্ম দিচ্ছে। উষ্ণ, স্থির ও পুষ্টিতে ভরপুর জলে দ্রুত জন্ম নিচ্ছে এই শৈবাল, আর তার মধ্যেই উৎপন্ন হচ্ছে বিষাক্ত যৌগ, যা শুধু সামুদ্রিক প্রাণীর জন্য নয়, ভবিষ্যতে মানুষের জন্যও প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে ।

ফ্লোরিডার ইন্ডিয়ান রিভার লেগুন অঞ্চলে ভেসে আসা ২০টি মৃত ডলফিনের মস্তিষ্ক বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা পেয়েছেন, তাতে বিষের মাত্রা ছিল স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ২,৯০০ গুণ বেশি। সঙ্গে মিলেছে ভয়াবহ এক প্রমাণ, ডলফিনগুলির মস্তিষ্কে আলজেইমার রোগীর মতোই দেখা গেছে ‘অ্যামাইলয়েড প্ল্যাক’, ‘টাউ প্রোটিনের জট’ এবং স্নায়ুকোষের ক্ষয়। এ সমস্ত পরিবর্তনই মস্তিষ্কের স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা নষ্ট করে দেয়, যার ফলে স্মৃতি ও চিন্তাশক্তি ধীরে ধীরে লোপ পায়। বিজ্ঞানীদের মতে, এ কেবল প্রাণিবিজ্ঞানের সঙ্গে সংযুক্ত কোনো সাধারণ ঘটনা নয়, বরং মানবস্বাস্থ্যের জন্যও বিপর্যয়ের গম্ভীর ইঙ্গিত। মায়ামি-ডেড কাউন্টি–তে ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সর্বাধিক আলজেইমার রোগীর সংখ্যা নথিভুক্ত হয়েছে। মানুষ কি তবে অজান্তেই এই একই বিষের সংস্পর্শে এসে মস্তিষ্কের ক্ষয় ডেকে আনছে? এ প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বেশি ভাবাচ্ছে বিশেষজ্ঞদের।

প্রসঙ্গত, প্রাণঘাতী শৈবালের এরকম অতিবৃদ্ধি ঘটে মূলত তখনই, যখন শিল্প, কৃষি বা গৃহস্থালির বর্জ্যের কারণে জলে নাইট্রোজেন ও ফসফরাসের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। জল তখন উজ্জ্বল সবুজ বা নীলাভ হয়ে ওঠে, আর সেই সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে বিষাক্ত রাসায়নিক। এ সময় নদী বা হ্রদের জলে নামা বিপজ্জনক হতে পারে। এমনকি বাতাসেও ছড়িয়ে যেতে পারে বিষ। সংস্পর্শে এলে তা ত্বক, শ্বাসযন্ত্র বা স্নায়ুতন্ত্রের ওপর প্রভাব ফেলতে ফেলতে পারে। গবেষণা দলের প্রধান এক বিজ্ঞানী জানিয়েছেন, ‘এই বিষ মস্তিষ্কে এমন পরিবর্তন ঘটায় যা আমরা সাধারণত আলজেইমার রোগীদের মধ্যে দেখি, স্মৃতিভ্রংশ, বিভ্রান্তি, চিন্তাশক্তির ক্ষয়। এটি কেবল প্রাণীদের নয়, মানুষের জন্যও বিপজ্জনক।’

এ উদ্বেগও নতুন নয়। অতীতেও গবেষণায় দেখা গেছে, গুয়াম দ্বীপের বাসিন্দাদের মধ্যে যারা নিয়মিত সায়ানোব্যাকটেরিয়া-দূষিত খাবার খেতেন, তাঁদের মস্তিষ্কেও আলজেইমারের মতো প্রোটিনের গঠন দেখা গেছে। ফলে, ডলফিনের মৃত্যুদেহগুলি হয়তো ভবিষ্যতের মানবজীবনের ভয়াবহ সংকটের ইঙ্গিত বহন করছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উষ্ণতা বাড়ছে, আর তাতে শৈবাল বৃদ্ধির হারও বহুগুণ বেড়েছে। জলদূষণ ও মানবিক কর্মকাণ্ডের প্রভাবে ঝুঁকি আরো তীব্র হচ্ছে। এখনই নিয়ন্ত্রণ না আনলে, ফ্লোরিডার ডলফিনদের মতোই হয়তো মানুষকেও একদিন এই বিষের কঠিন মাশুল দিতে হবে। প্রকৃতির সতর্কবার্তা উপেক্ষা করার সময় ফুরিয়ে আসছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!