- দে । শ
- জুন ৩, ২০২৩
শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশ উপেক্ষা, আচার্যের কনক্লেভে ১১ উপাচার্য। অস্থায়ী উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে রাজ্য -রাজ্যপাল সংঘাত চরমে
রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে রাজ্যপাল-রাজ্য সংঘাত চরমে পৌঁছেছে। রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর অভিযোগ, রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস, উপাচার্য নিয়োগের কোনও নিয়ম না মেনে, রাজ্যকে অন্ধকারে রেখে অস্থায়ী উপাচার্য নিয়োগ করেছেন রাজ্যের ১১টি বিশ্ববিদ্যালয়ে। ব্রাত্য বসু এই ১১জন উপাচার্যকে সসম্মানে পদত্যাগ করতে অনুরোধ করেন, যাঁদের রাজ্যপাল তথা আচার্য নিয়োগ দিয়েছেন। কিন্তু ব্রাত্য বসুর এই নির্দেশ অগ্রাহ্য করে শুক্রবার রাজভবনে রাজ্যপাল তথা আচার্যের ডাকা কনক্লেভে ওই ১১জন উপাচার্যই যোগ দিয়েছেন। এর ফলে রাজ্যের সঙ্গে রাজ্যপালের সংঘাত শুক্রবার চরমে পৌঁছল।
এদিকে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর অভিযোগ, অস্থায়ী উপাচার্য পদে রাজ্য সরকারের পাঠানো নামগুলি নিয়ে রাজভবন উচ্চবাচ্য করছে না। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলি উপাচার্যবিহীন হয়ে পড়েছে।
এরই মধ্যে রাজ্যপাল আনন্দ বোস ১১টি বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থায়ী উপাচার্য পদে নতুন নাম ঘোষণা করে নিয়োগপত্র জারি করে দেন রাজভবন থেকে। তাতে দেখা যায়, রাজ্যপাল আগের অস্থায়ী উপাচার্যদের বেশিরভাগকেই পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। এই তালিকায় সেই সব উপাচার্য রয়েছেন, যাঁরা আচার্যের নির্দেশ মেনে রাজভবনকে পাক্ষিক রিপোর্ট পাঠাননি। শুক্রবার বিকালে নতুন নিয়োগ হওয়া ১১ জন উপাচার্যকে নিয়েশেষ পর্যন্ত আচার্য তথা রাজ্যপাল আনন্দ বোস রাজভবনে বিস্তারিত আলোচনা বা কনক্লেভের আয়োজন করে করে রাজ্য-রাজ্যপাল বিরোধকে ঘৃতাহুতি দিলেন বলেই রাজ্য সরকারের বক্তব্য।
শুক্রবার রাজভবনে যখন কনক্লেভ চলছে তখন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী হুঁশিয়ারির সুরে নতুন নিয়োগপত্র পাওয়া উপাচার্যদের পদ গ্রহণ না করতে নির্দেশ দেন। কিন্তু ১১ জন উপাচার্যের এক জনও ব্রাত্য বসুর নির্দেশ না শুনে রাজভবনের বৈঠকে অংশ নেন।
এই কনক্লেভ থেকে রাজ্যপাল তথা আচার্য উচ্চশিক্ষা নিয়ে ১১ জন উপাচার্যের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন। কীভাবে রাজ্যে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার স্বাভাবিক অবস্থা ফেরানো সম্ভব তা আচার্য উপাচার্যদের কাছে জানতে চান। এছাড়াও শিক্ষার মানকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে নিয়ে যাওয়া সহ ১৫ দফা সংকল্প আচার্য ঘোষণা করেন রাজভবন থেকে।
আচার্যের ১৫ দফা সংকল্পর মধ্যে অন্যতম সঙ্কল্পগুলি, যা উপাচার্যদের পালন করতে বলা হয়েছে :-
* রাজ্যের উচ্চশিক্ষাকে দেশের সেরা করে তোলা হবে
* কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম ও প্রধান অগ্রাধিকার পড়ুয়ারা
* উচ্চশিক্ষার অঙ্গনকে সম্পূর্ণভাবে রাজনীতি মুক্ত রাখতে হবে
* শিক্ষাঙ্গনে কোনওরকম গোষ্ঠীবাজি, দলাদলি মণ হবে না
* দেশের সেরা করে পড়ুয়াদের গড়ে তুলতে হবে
* জাতীয় শিক্ষানীতিকে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়কে দ্রুততার সঙ্গে গুরুত্ব দিয়ে রূপায়ণ করতে হবে
* শিল্প সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে শিক্ষাকে সময়োপযোগী করতে হবে, এর জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন
* সমাজের পিছিয়ে পড়া ছাত্রছাত্রীরা যাতে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা পায় সেদিকে নজর দিতে হবে
* আলাদা করে মেধাবী ছাত্রদের বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং তাদের গভর্নর গোল্ডেন গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত করা হবে
❤ Support Us






