- এই মুহূর্তে স | হ | জ | পা | ঠ
- আগস্ট ৫, ২০২৫
আজ পৃথিবীর তৃতীয় ‘ছোটো’ দিন ! বাড়ছে বিপদের আশঙ্কা, সতর্কবার্তা বিজ্ঞানীদের
আজ, ৫ আগস্ট, পৃথিবী তার ইতিহাসের তৃতীয় ‘ছোটো’ দিনের সাক্ষী হতে চলেছে। দিন ছোটো হচ্ছে, কারণ আরো জোরে ঘুরছে আমাদের ‘নীল গ্রহ’। গত মাসে, ৯ জুলাই এবং ২২ জুলাই, এমনই ক্ষণিকের দিনের অভিজ্ঞতা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, পৃথিবীর এমন গতি পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে চাঁদের অবস্থান, পৃথিবীর অভ্যন্তরের গলিত লোহা, আবহাওয়ার রদবদল এবং বরফ গলার মতো প্রাকৃতিক ঘটনা। আর এসব মিলিয়ে বড়োসড়ো বিপদের অশনি সংকেত দেখছেন বিশেষজ্ঞেরা।
আন্তর্জাতিক পৃথিবী ঘূর্ণন ও রেফারেন্স সিস্টেম পরিষেবা জানিয়েছে, আজকের দিন থেকে প্রায় ১.২৫ মিলিসেকেন্ড কম সময়ে পৃথিবী এক বার নিজের পাক খাবে। চাঁদ এখন বিষুবরেখা থেকে সবচেয়ে দূরে। এই অবস্থানে মেরু অঞ্চলের উপর তার টান সবচেয়ে বেশি, যার ফলে পৃথিবীর ঘূর্ণন গতি বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই প্রবণতা যদি চলতে থাকে, তবে ২০২৯ সালে সময়রক্ষকরা ইতিহাসে প্রথম বার ‘নেগেটিভ লিপ সেকেন্ড’ জুড়তে বাধ্য হবেন, অর্থাৎ, ঘড়ির কাঁটা থেকে বাদ যাবে একটি পুরো সেকেন্ড। পৃথিবীর এমন ‘দ্রুতগামীতা’ নিয়ে উদ্বিগ্ন বিজ্ঞানীমহল। তাঁদের মতে, এভাবে ক্রমাগত গতি বাড়তে থাকলে, এক সময় ব্যাপক গতি বিপর্যয় ডেকে আনবে। মাধ্যাকর্ষণ বলের বিপরীতে কাজ করা কেন্দ্রবিমুখী বল ঠেলে দেবে মেরুর জল বিষুবরেখার দিকে। যার ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, পৃথিবীর ঘূর্ণন যদি ঘণ্টায় মাত্র ১ মাইলও বাড়ে, তবে সমুদ্রের জলস্তর বাড়তে পারে কয়েক ইঞ্চি। ১০০ মাইল গতিতে ঘূর্ণন শুরু হলে, বিষুবরেখার কাছে বিপুল জল জমে প্লাবিত করবে একাধিক দেশকে। বহু উপকূলবর্তী শহর কার্যত জলের তলায় তলিয়ে যাবে। প্লাবিত জল যেসব অঞ্চলে পৌঁছাবে না, সেখানেও অস্থিরতা থামবে না। দিন ছোটো হয়ে গেলে মানবদেহের জৈবঘড়ি বিগড়ে যাবে। ২৪ ঘণ্টার পরিবর্তে যদি মাত্র ২২ ঘণ্টার দিন হয়, তাহলে ঘুম, কাজ, খাদ্যাভ্যাস— সব কিছুতেই নেমে আসবে বিশৃঙ্খলা। ইতিমধ্যেই ‘ডে-লাইট সেভিং টাইম’-এর সময় বদলের কারণে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের হার বাড়ার প্রমাণ মিলেছে একাধিক গবেষণায়। তাছাড়া, পৃথিবীর ঘূর্ণন গতি বাড়লে ‘কোরিওলিস প্রভাব’ আরো প্রবল হবে। বদলে যাবে ঝড়-বৃষ্টির চরিত্র। হ্যারিকেন, টাইফুন কিংবা ঘূর্ণিঝড়, সবই আরো তীব্র, আরো বিধ্বংসী হয়ে উঠবে। নাসার জ্যোতির্বিজ্ঞানী ড. স্টেন ওডেনওয়াল্ড বলেছেন, ‘পৃথিবীর গতি যত বাড়বে, ঝড়ের গতিও ততই বেড়ে যাবে। একপর্যায়ে ঘূর্ণিঝড়গুলি এতটাই শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে যে, তার ধ্বংসের মাত্রা আগের থেকে বহুগুণ হবে।’
সাম্প্রতিক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, চাঁদ ধীরে ধীরে পৃথিবী থেকে সরে যাচ্ছে। এই ‘লুনার রিসেশন’- এর জেরে পৃথিবীর ঘূর্ণন ক্রমশ বদলে যাচ্ছে। প্রতি বছর প্রায় ১.৫ ইঞ্চি করে দূরে সরে যাচ্ছে চাঁদ। এই গতি যদি বজায় থাকে, তবে ভবিষ্যতে পৃথিবীর ঘূর্ণন একদিন হয়তো নিয়ন্ত্রণ হারাবে। এ মুহূর্তে যদিও আশঙ্কা চরমে ওঠেনি, তবে লক্ষণগুলো উদ্বেগজনক। বিজ্ঞানীদের পরামর্শ, মহাজাগতিক পরিবর্তনকে খাটো করে দেখার সময় আর নেই। পৃথিবীর ভিতরে ক্রমাগত চলছে এক নীরব বিপ্লব, যার প্রভাব পড়তে চলেছে পরিবেশ, জলবায়ু, এমনকি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের উপরেও।
❤ Support Us







