- এই মুহূর্তে দে । শ
- অক্টোবর ১৬, ২০২৫
বালিপাচার মামলা তদন্তে ফের সক্রিয় ইডি, কলকাতা-সহ রাজ্যের একাধিক জেলায় অভিযান
বালি পাচার মামলায় আরও একবার সক্রিয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি। বৃহস্পতিবার সকালে কলকাতা, আসানসোল, ঝাড়গ্রাম, লালগড় ও গোপীবল্লভপুর-সহ রাজ্যের একাধিক এলাকায় একযোগে অভিযান চালায় কেন্দ্রীয় সংস্থাটি। অভিযানে সহযোগিতার জন্য সঙ্গে ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের একটি বিশেষ দল। তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয় এক বালি পাচার চক্রের সূত্র ধরে এই অভিযান চালানো হচ্ছে। একাধিক জায়গায় আগেই নজরদারি চালানো হচ্ছিল। অবশেষে বৃহস্পতিবার সকালে সেই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শুরু হয় অভিযান।
সূত্রের খবর, আসানসোলের মুর্গাশোল এলাকায় মনীশ বাগারিয়া নামে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে অভিযান চালান তদন্তকারীরা। দীর্ঘদিন ধরেই ওই ব্যক্তি বালির ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বলে ইডির কাছে খবর ছিল। স্থানীয় সূত্রের দাবি, মনীশের বাড়ি ছাড়াও তাঁর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালান আধিকারিকেরা। খতিয়ে দেখা হয় বিভিন্ন আর্থিক নথি, জমি সংক্রান্ত দলিল এবং ব্যাঙ্কের লেনদেনের কাগজপত্র। একই সঙ্গে তল্লাশি অভিযান চলে ঝাড়গ্রামের লালগড় ও গোপীবল্লভপুরে। গোপীবল্লভপুরে ‘জিডি মাইনিং’ নামে এক সংস্থার অফিসে হানা দেন আধিকারিকরা। পাশাপাশি, লালগড়ে বিশালাকৃতির একটি বাংলো ও অফিসে অভিযান চালানো হয়, যা বালি ব্যবসায়ী সৌরভ রায়ের বলে জানা গিয়েছে। ইডি সূত্রে খবর, লালগড় থেকেই মূলত রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলে বালিপাচারের জাল বিস্তার হয়েছিল।
তল্লাশির তালিকায় ছিল কলকাতার বেন্টিঙ্ক স্ট্রিটও। ওই এলাকায় একটি বেসরকারি সংস্থার দফতরে হানা দেন ইডির আধিকারিকরা। যদিও সকাল পর্যন্ত সেই অফিসে প্রবেশ করতে পারেননি তাঁরা। অফিস খোলার অপেক্ষায় বাইরে বসে থাকতে দেখা যায় আধিকারিকদের। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, ওই সংস্থার বিরুদ্ধে বালিপাচারের টাকার বিনিয়োগে যুক্ত থাকার প্রমাণ মিলেছে। এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর একই মামলার তদন্তে রাজ্যের একাধিক জেলায় একযোগে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। সেই সময় মেদিনীপুরের সৌরভ রায়ের বাড়ি থেকে প্রায় ৬৫ লক্ষ টাকা এবং গোপীবল্লভপুরের অপর এক ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে ২৫ লক্ষ টাকা উদ্ধার করা হয়। সেই তল্লাশিতে উদ্ধার হওয়া নথি ও তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতেই বৃহস্পতিবারের এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইডির এক আধিকারিক।
তদন্তকারীদের দাবি, বালি পাচারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করা হতো। অনুমতিপ্রাপ্ত যে লরিগুলি দিয়ে নদী থেকে বালি তোলা হত, সেই একই নম্বর ব্যবহার করে একাধিক গাড়িতে বালি পাচার চালানো হতো। কাগজে কলমে সব কিছু বৈধ মনে হলেও, বাস্তবে তা ছিল সম্পূর্ণ বেআইনি। কিউআর কোড সম্বলিত অনুমতি পত্র জাল করে বালি পাচারের পরিমাণ বহুগুণে বাড়ানো হয়েছে বলেও অভিযোগ। ইডি সূত্রে খবর, এই অভিযান মূলত অর্থপাচার সংক্রান্ত লেনদেন এবং সম্পত্তি গঠনের পদ্ধতি অনুসন্ধানের উদ্দেশ্যেই চালানো হচ্ছে। বালি ব্যবসার আড়ালে কীভাবে কালো টাকা সাদা করা হচ্ছিল, কারা সে প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তল্লাশির মাধ্যমে সেই চক্রের সন্ধানেই নজর দিচ্ছেন আধিকারিকরা। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।
ইডির তৎপরতা নিয়ে রাজনীতির পারদ চড়েছে রাজ্যে। বিধানসভা ভোটের আগে কেন্দ্রীয় সংস্থার ব্যাপক অভিযানের পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে দাবি করেছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। ঘাসফুল শিবিরের অভিযোগ, ভোটের মুখে তৃণমূলকে কোণঠাসা করতে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি। এর আগেও নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়ে ইডি-সিবিআইয়ের তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীসহ তৃণমূলের শীর্ষ নেতারা। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হয়ে তদন্তের নামে একপক্ষীয় অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে এসব বিতর্কের মধ্যেই চলেছে বৃহস্পতিবারের অভিযান। ইডির দাবি, তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তল্লাশি চলবে দিনভর। তল্লাশির ফলে যে সব নতুন তথ্য উঠে আসছে, তাতে আড়ো বড়ো কোনো চক্রের হদিশ মিলতে পারে বলেই আশাবাদী তাঁরা।
❤ Support Us







