- দে । শ
- জুন ১, ২০২৬
গ্রেফতার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক, বাড়ি থেকে উদ্ধার বিপুল সরকারি ত্রাণসামগ্রী
সরকারের বিপুল ত্রাণসামগ্রী নিজের হেফাজতে রাখার অভিযোগে গ্রেপ্তার পূর্বস্থলী উত্তরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তপন চ্যাটার্জি। কেন্দ্রীয় বাহিনিকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশ তল্লাশি চালায় পূর্বস্থলীর বৈদিকপাড়ার তপন চ্যাটার্জির বাড়ি, বাড়ি লাগোয়া কার্যালয়ে। এই তল্লাশিতে উদ্ধার সরকারের লোগো দেওয়া ৪৫৫টি ত্রিপল, রাজ্য সরকারের প্রচুর ‘জয়ী’ ফুটবল, পোশাক ও অন্যান্য সামগ্রী। এরপরই পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে প্রাক্তন বিধায়ক তপনবাবুকে। তাকে থানায় নিয়ে যাওয়ার পথে ‘চোর—চোর’ স্লোগান দিতে থাকে উপস্থিত জনতা। গাড়ির পিছন পিছন ধাওয়া করে। তপনবাবুর বিরুদ্ধে নানারকম দুর্নীতির অভিযোগ জানিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে লিখিত আবেদন পেশ করেন এলাকার বাসিন্দা প্রাণকৃষ্ণ দেবনাথ, বিশ্বনাথ দত্তরা। তাঁরা বলেন, ‘বিধায়ক থাকাকালীন ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রশাসনের উপর প্রভাব খাটিয়ে লাগামছাড়া দুর্নীতি করেছেন তপনবাবু।
শুধু সরকারি জিনিস নিজের দখলে রাখাই নয়, প্রচুর বেআইনি সম্পত্তিও করেছেন। পুলিশ তদন্ত করে সেসব উদ্ধার করুক। দৃষ্টান্তমূলক সাজা দিক।’ অভিযোগের কপি পাঠানো হয়েছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও জেলা পুলিশ সুপারকে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তপনবাবুর বাড়িতে তল্লাশি চালায় পুলিশ। তাকে গ্রেপ্তার করে কালনা মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে বিচারক পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। তপনবাবু বলেন, ‘আমি রাজনৈতিক চক্রান্তের শিকার।’ তপনবাবুর গ্রেপ্তারে খুশি পূর্বস্থলী উত্তরের এবারের তৃণমূল প্রার্থী বসুন্ধরা গোস্বামী। তিনি বলেন, ‘উনি সরকারি সম্পত্তি তছরুপ করেছেন ও ওনার কাছে তা আছে জানিয়ে আমি আগেই পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছিলাম। বলি, ওগুলো উদ্ধার করে জনগণের মধ্যে বিলি করে দেওয়া হোক।’ যোগ করেন, ‘আমি খুশি এজন্য যে, অন্যায় করেছে তাই গ্রেপ্তার হয়েছে।’ পুলিশের প্রশংসা করে বসুন্ধরা বলেন, ‘পুলিশ রাজনৈতিক চাপের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করছে। এর থেকে সুসময় আর হতেই পারে না।’ উল্লেখ্য যে এবারের ভোটে তপনবাবুকে টিকিট দেয়নি তৃণমূল। টিকিট দেয় কলকাতা পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর বসুন্ধরা গোস্বামীকে। টিকিট না পেয়ে ক্ষুব্ধ তপনবাবু অভিযোগ করেন, ‘আইপ্যাক ২১ লক্ষ টাকা চেয়েছিল। দিতে পারিনি বলে টিকিট দেয়নি।’
এদিকে ২০১৭ সালে আর্থিক দুর্নীতির একটি ঘটনার ভিত্তিতে কাটোয়ার পুলিশ গ্রেফতার করল তৃণমূলের জেলা সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ সাহা ও দিগন্ত পালকে। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চ্যাটার্জির দাবি, ‘প্রথমে অভিযোগ হয় ১৯ মে। পরে ২৯ তারিখে সেই অভিযোগপত্র পাল্টে যাদের নাম যুক্ত ছিল, তাদের সঙ্গে আমাদের নাম যুক্ত করে প্রতিহিংসার রাজনীতি হচ্ছে।’ যোগ করেন, ‘সেই সময় করুই গ্রাম পঞ্চায়েত ছিল সিপিএমের। সেখানে আমাদের কোনো ছায়াই ছিল না।’ ১০০ দিনের মজুরি আত্মসাৎ ও সংস্কার না করেই ব্রহ্মাণী নদীর সংস্কার দেখিয়ে সরকারি টাকা হজমের অভিযোগ করা হয়েছে দিগন্তবাবুদের বিরুদ্ধে। তাদেরকে আদালতে তোলার সময় বিক্ষোভ দেখায় শহরের বাসিন্দারা। বিচারক দুজনকেই পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
❤ Support Us






