- দে । শ
- জুন ৩, ২০২৬
গ্রেফতার কালনার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক, হাসপাতালে ভর্তি রবীন্দ্রনাথ
সরকারের ত্রাণসামগ্রী নিজেদের হেফাজতে রাখার অভিযোগে ফের পুলিশের জালে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক। পুলিশের হাতে আটক ও পরে গ্রেফতার হলেন কালনার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক দেবপ্রসাদ বাগ। হুগলী থেকে তাকে পাকড়াও করে পুলিশ। অভিযোগ, পুলিশের চোখ এড়াতে তিনি রাতের অন্ধকারে কালনা ছেড়ে পালাচ্ছিলেন। তাকে মঙ্গলবার কালনা মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে বিচারক পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। এদিকে মঙ্গলবার সকালে কাটোয়া মহকুমা তৃণমূল কার্যালয়ের উল্টোদিকের একটি বাড়িতে রাখা সরকারি ত্রাণসামগ্রী মজুতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভিড় জমতে শুরু হয়।
পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা কাটোয়ার টানা ৬ বারের বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চ্যাটার্জি জানান, ‘ওইসব ত্রাণ সামগ্রী মহকুমা প্রশাসনকে ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছিল। সেইসময় আমি ও আমার দলের কর্মীরা আক্রান্ত হই। পুলিশ উদ্ধার করে।’ তবে দেবপ্রসাদবাবু ও রবীন্দ্রনাথবাবুকে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়ি ঘিরে উন্মত্ত জনতা ‘চোর—চোর’ শ্লোগান দেয়। কাটোয়ার তৃণমূল কার্যালয়ের উল্টোদিকের একটি ঘর থেকে প্রচুর সরকারি ত্রাণ সামগ্রী ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র উদ্ধার হয়েছে বলে জানান বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি অনিল দত্ত। অনিলবাবু বলেন, ‘প্রাক্তন বিধায়ক রবীন্দ্রনাথবাবু বছরের পর বছর ধরে সরকারের প্রচুর ত্রাণসামগ্রী বিলি না করে নিজের হেফাজতে মজুত করে রেখেছেন।’ রবীন্দ্রনাথবাবু অবশ্য দাবি করেন, তাঁর কাছে মজুত ত্রাণসামগ্রী স্বেচ্ছায় প্রশাসনকে ফেরত দেওয়ার সময় বিজেপির লোকজন সেখানে চড়াও হয়। তৃণমূলের নেতা কর্মীদের মারধর করে। বিশৃঙ্খলার মধ্যে জখম হন তৃণমূল নেতা কালীচরণ চট্টরাজ, তারক ঘোষ ও সন্দীপ ঘোষকে পুলিশ উদ্ধার করে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করেছে। সন্দীপের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তৃণমূলের কার্যালয়ও ভাঙচুর করা হয়। জিনিসপত্র তছনছ করা হয়েছে। রবীন্দ্রনাথবাবুর রক্তচাপ বৃদ্ধি-সহ অন্যান্য শারীরিক সমস্যা হওয়ায় তাঁকে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের এইচডি ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে ২ দিন আগে ধৃত কালনা ২নং ব্লক তৃণমূল সভাপতি প্রণব রায়কে সঙ্গে নিয়ে সোমবার গভীর রাতে কালনার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক দেবপ্রসাদ বাগের প্রাসাদোপম বাড়ির সামনে হাজির হয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। দেখা যায়, বাড়ির মূল দরজা বন্ধ। দীর্ঘ সময় ধরে পুলিশ বাড়ির বাইরে অপেক্ষা করলেও কেউ দরজা খোলেননি। এদিকে পুলিশ আসার খবর ছড়াতেই দেবপ্রসাদবাবুর বাড়ির সামনে ভিড় জমতে শুরু হয়। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, দেবপ্রসাদ বাগ ওরফে পল্টু আদতে ছিলেন টিভি মেকানিক। ২০০৫ সালের পুরভোটে কংগ্রেসের টিকিটে লড়ে জিতে উপপুরপ্রধান ও পরে পুরপ্রধান হন। পরে তৃণমূলে যোগ দিয়ে বিধানসভা ভোটে লড়ে জেতেন। রাজনীতিতে উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে বৈভবও বাড়তে থাকে। বাড়ি হার মানাবে রাজপ্রাসাদকে। সেখানে দামি আসবার, অন্দরের সাজসজ্জা থেকে আন্ডারগ্রাউন্ডে কুঠুরি। দেবপ্রসাদবাবুর বিরুদ্ধে নানারকম দুর্নীতির অভিযোগ ছিল।
এদিকে তৃণমূলের নেতা-কর্মী ও প্রাক্তন বিধায়করা ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার’ শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ তৃণমূলের রাজ্য মুখপাত্র দেবু টুডুর। দেবুবাবু বলেন, ‘আমাদের প্রবীণ নেতা দলের জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চ্যাটার্জিকে তৃণমূল কার্যালয়ে ঢুকে বিজেপি হেনস্থা করেছে। নেতা-কর্মীদের নিগ্রহ করেছে। এটা কি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতিফলন?’
❤ Support Us






