- এই মুহূর্তে দে । শ
- ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬
দুর্নীতির অভিযোগে আটক খনিকর্তার ফ্ল্যাটে তল্লাশি, উদ্ধার ৪ কোটি নগদ
ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে মঙ্গলবার ভিজিল্যান্স দফতরের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন, এবার সেই খনিকর্তার ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালাতেই তদন্তকারীদের চক্ষু-চরকগাছ। ওড়িশার ইতিহাসে সর্বোচ্চ নগদ জব্দের ঘটনা ঘটল এদিন।
কটক সার্কেলের খনি বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর দেবব্রত মোহান্তির ভুবনেশ্বরের ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে ৪ কোটি টাকারও বেশি নগদ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মোহান্তির ফ্ল্যাটের ট্রলিব্যাগ এবং আলমারিতে বিপুল পরিমাণ টাকা রাখা ছিল। এছাড়া, তাঁর বাড়ি থেকে প্রায় ১৩০ গ্রাম সোনার গয়নাও জব্দ করা হয়েছে। ধৃত দেবব্রত মোহান্তির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই দুর্নীতির অভিযোগ উঠছিল। কয়লা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর ভিজিল্যান্স দফতর একটি ফাঁদ পাতেন।
মঙ্গলবার এক কয়লা ব্যবসায়ীর কাছ থেকে টাকা ঘুষ নেওয়ার সময় অভিযুক্তকে হাতেনাতে ধরে ফেলে ভিজিল্যান্স। তদন্তে জানা গেছে, ওই ব্যবসায়ীকে কয়লা ডিপোর কার্যক্রম সহজভাবে চালানোর সুযোগ পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা নিচ্ছিলেন ওই কর্মকর্তা। গ্রেফতারের পর ভিজিল্যান্স দফতর তাঁর ভুবনেশ্বরের ফ্ল্যাট, ভদ্রক জেলার তাঁর পৈতৃক বাড়ি এবং কটকের অফিস চেম্বারে সমসাময়িক তল্লাশি অভিযান চালায়। সূত্রের খবর, ভুবনেশ্বরের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার নগদ রাজ্যের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এছাড়াও, অভিযুক্তের অফিসের ড্রয়ারে আরও ১.২০ লাখ টাকা পাওয়া গেছে।
২০০৪ সালে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন দেবব্রত মোহান্তি। তখন তাঁর মাসিক বেতন ছিল মাত্র ৮,০০০ টাকা। তিনি বালাঙ্গির, বারিপাড়া, বেরহম্পুর এবং কটক বিভিন্ন স্থানে জুনিয়র মাইনিং অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০১৮ সালে সহকারী মাইনিং অফিসার (চিফ সার্ভেয়ার) পদে উন্নীত হন এবং সাম্বালপুরে নিয়োগ পান। সম্প্রতি তিনি কটক সার্কেলের ডেপুটি ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করছিলেন, যেখানে তাঁর অধীনে কটক এবং কেণ্ড্রাপাড়া জেলার খনির দায়িত্ব ছিল। ভিজিল্যান্স সুপারিন্টেনডেন্ট অফ পুলিশ সরোজ সামল জানান, ‘মোহান্তির বিরুদ্ধে আগেও একটি দুর্নীতি মামলা ছিল। আমরা খতিয়ে দেখব, কীভাবে সরকারি বেতনের তুলনায় এত বড়ো নগদ এবং সম্পদ সঞ্চয় করেছেন। নগদ গণনা এখনো চলছে। আরও লুকনো অর্থ থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।’
ওড়িশায় এর আগে সর্বোচ্চ নগদ জব্দের রেকর্ড ছিল ৩.৪ কোটি টাকা। ২০২২ সালে গঞ্জাম জেলার এক সহকারী প্রকৌশলীর বাড়ি থেকে ওই টাকা উদ্ধার করা হয়েছিল। এ ঘটনায় অভিযুক্তের ফ্ল্যাট ও অন্যান্য সম্পদের বিস্তারিত তদন্ত চলমান। সরকারি দৃষ্টিকোণ থেকে এটি দৃষ্টান্তমূলক অভিযান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতির পথ রোধ করা যায়।
❤ Support Us







