Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • মার্চ ৬, ২০২৬

ইরান যুদ্ধের আবহেও দেশে বাড়বে না তেল-গ্যাসের দাম, আশ্বাস কেন্দ্রের। ভারতকে ৩০ দিনের বিশেষ ছাড় আমেরিকার

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ইরান যুদ্ধের আবহেও দেশে বাড়বে না তেল-গ্যাসের দাম, আশ্বাস কেন্দ্রের। ভারতকে ৩০ দিনের বিশেষ ছাড় আমেরিকার

পশ্চিম এশিয়ায় ইরান-ইজরায়েল-আমেরিকাকে ঘিরে ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠা যুদ্ধের আবহে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম গত কয়েক দিনে দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। সূত্রের খবর, সংঘাত শুরুর পর মাত্র ৬ দিনের মধ্যেই তেলের দাম প্রায় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গিয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে ভারতে পেট্রোপণ্যের দাম বাড়বে কি না, তেল-গ্যাসের জোগানে ঘাটতি তৈরি হবে কি না বা কালোবাজারির আশঙ্কা রয়েছে কি না— এসব প্রশ্নে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে উদ্যোগী হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। সরকারঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা থাকলেও দেশের অভ্যন্তরে তেল ও গ্যাসের দাম আপাতত বাড়তে দেওয়া হবে না। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতিমধ্যেই একাধিক স্তরে আলোচনা শুরু করেছে নয়াদিল্লি। যদিও, এ পর্যন্ত পেট্রোপণ্যের দাম নিয়ে সরকারিভাবে কোনো ঘোষণা করা হয়নি, তবে কূটনৈতিক মহলের ইঙ্গিত— সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্রিয়ভাবে পদক্ষেপ করছে। কেন্দ্রের দাবি, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে একাধিক তেল উৎপাদক দেশের সঙ্গে লাগাতার যোগাযোগ রেখে চলছে ভারত। সে প্রচেষ্টার ফলেই আপাতত তেল আমদানি নিয়ে তেমন কোনো উদ্বেগের পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলেই মনে করছে কেন্দ্র।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের জন্য সবচেয়ে আশঙ্কার কারণ হরমুজ প্রণালী। আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহণের ক্ষেত্রে এই সংকীর্ণ সমুদ্রপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ওই পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ভারতের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ দেশের মোট তেলের চাহিদার প্রায় ৮৫ শতাংশই আমদানিনির্ভর। তার মধ্যে প্রায় অর্ধেক তেলই হরমুজ প্রণালী দিয়ে দেশে আসে। ফলে ওই পথে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় সমস্যা তৈরি হতে পারত। তবে কেন্দ্রের দাবি, আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে। খুব শিগগিরই প্রায় ৯৫ লক্ষ ব্যারেল রুশ তেল ভারতের হাতে পৌঁছতে চলেছে।

শুধু তা-ই নয়, আগামী এক মাসে সেই সরবরাহ আরও বাড়তে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে। কারণ, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ভারতের জন্য ৩০ দিনের একটি বিশেষ ছাড়পত্র দিয়েছে। এই সময়সীমার মধ্যে সমুদ্রে থাকা রুশ তেল কেনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে ভারতকে। এর আগে রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করার শর্তে ভারতীয় পণ্যের উপর আমদানি শুল্ক কমিয়েছিল ওয়াশিংটন। কিন্তু পশ্চিম এশিয়ার নতুন সংকটের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হওয়ায় সেই নীতিতে সাময়িক শিথিলতা আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। শুক্রবার সমাজমাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্ট করে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট। তাঁর বক্তব্য, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের স্থিতি বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

স্কট বেসেন্ট আরও জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের জ্বালানি নীতির ফলে আমেরিকায় তেল ও গ্যাস উৎপাদন এখন রেকর্ড স্তরে পৌঁছেছে। পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করেছেন, এই ছাড় এমনভাবে দেওয়া হয়েছে যাতে রাশিয়ার সরকার বড় আর্থিক সুবিধা না পায়। মূলত সমুদ্রে ইতিমধ্যে থাকা তেল সংক্রান্ত লেনদেনের ক্ষেত্রেই এই অনুমতি প্রযোজ্য হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভারতকে যুক্তরাষ্ট্র একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে দেখে। পাশাপাশি আশা প্রকাশ করা হয়েছে, ভবিষ্যতে ভারত যেন আমেরিকা থেকেও জ্বালানি আমদানির পরিমাণ বাড়ায়।

যুদ্ধ পরিস্থিতে তেল বাণিজ্যের পরিস্থিতি সামাল দিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই জানিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী পণ্যবাহী জাহাজগুলিকে মার্কিন সেনার নিরাপত্তায় পার করানো হতে পারে। তবে ইরানের সেনাবাহিনীর বিশেষ বাহিনী ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস দাবি করেছে, বর্তমানে পুরো হরমুজ প্রণালী তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে সেটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এমনকি তারা জানিয়েছে, সীমিত আকারে কেবল চিনা জাহাজগুলিকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হতে পারে। এই পরিস্থিতিতেই বিশ্ববাজারে তেলের প্রবাহ বজায় রাখতে ভারতের তেল শোধনাগারগুলিকে রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য অস্থায়ী অনুমতি দিয়েছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ।

মোদি সরকারের দাবি, ধারাবাহিক কূটনৈতিক আলোচনার ফলেই এই অস্থায়ী অনুমতি পাওয়া সম্ভব হয়েছে। এর ফলে দেশের তেল শোধনাগারগুলির জন্য কাঁচা তেলের জোগান বজায় রাখা সহজ হবে এবং দেশীয় বাজারে পেট্রোপণ্যের দামও স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হতে পারে বলে মনে করছে সরকার। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিশ্চিন্ত নয় বলেই মনে করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। কারণ, কয়েক দিন আগেই দেশে বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম বেড়েছে। ফলে কেন্দ্র আশ্বাস দিলেও সাধারণ মানুষের রান্নার গ্যাসের দাম ভবিষ্যতে বাড়বে না— এমন নিশ্চয়তা এখনই দেওয়া যাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কোন দিকে যায়, তার উপর নজর রেখেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!