Advertisement
  • দে । শ
  • এপ্রিল ৩, ২০২৬

অবিলম্বে উন্মুক্ত করতে হবে জলপথ, দিতে হবে নিরাপত্তা : হরমুজ নিয়ে আন্তর্জাতিক বৈঠকে দৃঢ় বার্তা দিল্লির

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
অবিলম্বে উন্মুক্ত করতে হবে জলপথ, দিতে হবে নিরাপত্তা : হরমুজ নিয়ে আন্তর্জাতিক বৈঠকে দৃঢ় বার্তা দিল্লির

দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে মার্কিন-ইজরায়েল-ইরান যুদ্ধের। বন্ধ হয়েছে হরমুজ প্রণালী। ফলে বিশ্ব জুড়ে তেল সঙ্কট চরম সীমায় পৌঁছেছে। সংকটে পড়েছে কমবেশি বিশ্বের প্রায় সব দেশ। এ আবহে বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালী খোলা নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠকের আয়োজন করেছিল ব্রিটেন। সেখানেই দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি জানিয়ে দিলেন, “এই জলপথে একমাত্র ভারতীয় নাবিকরাই প্রাণ হারিয়েছেন।”  একই সঙ্গে অবিলম্বে হরমুজ খোলার দাবিও জানিয়েছে নয়াদিল্লি।

যুদ্ধের ফলে অবরুদ্ধ হয়ে থাকা হরমুজ প্রণালী খুলতে লাগাতার হুমকি দিয়ে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সরাসরি বলেছেন, ‘ইরানকে অবিলম্বে চুক্তি করতে হবে। না হলে ওদের প্রস্তর যুগে পাঠিয়ে দেব।’ তবে ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারির মুখে দমে না গিয়ে ইরান সরাসরি জানিয়ে দিয়েছে,  এরকম হুমকিতে তারা মোটেই ভীত নয়। নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকবে ইরান। আমেরিকা এবং তার বন্ধু দেশগুলিকে হরমুজ দিয়ে এক লিটার তেলও নিয়ে যেতে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ইরান। শুধু তাই নয়, রীতিমতো হুমকির সুরে তেহরান বলেছে, এখান দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে জাহাজে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হবে।

এদিন, আমেরিকাকে বাদ দিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠকের আয়োজন করেছিল ব্রিটেন। সেখানে উপস্থিত ছিল ৬০টিরও বেশি দেশ। ব্রিটনের বিদেশ সচিব ইভেট কুপারের নেতৃত্বে এই বৈঠকে ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি। সেখানেই ‘ময়ূরী নারী’ নামের পণ্যবাহী জাহাজে হামলার কথা তুলে ধরেন তিনি। সূত্রের খবর, অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ে জাহাজটি গুজরাট উপকূলে আসছিল। সেই সময়ে আচমকা তার উপরে হামলা হয়। তবে কারা হামলা চালিয়েছিল, তা স্পষ্ট নয়। এই হামলায় তিন জন নাবিকের মৃত্যু হয়েছিল।

বৈঠকের পরে ইরানকে কার্যত কাঠগড়ায় তুলে বিবৃতি দিয়েছে বৈঠকে থাকা ৬০টি দেশ। সেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ‘হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে বিশ্বের অর্থনীতিকে পণবন্দি করার চেষ্টা করছে ইরান। এই ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না।’ এ বৈঠককে আপাতত প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরবর্তীতে আরও বৈঠক হবে। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার বলেছেন, ‘জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা সহজ কাজ নয়। এর জন্য সামরিক এবং কূটনৈতিক পদক্ষেপ প্রয়োজন।’

বৈঠকের পর একটি বিবৃত প্রকাশ করা হয়েছে তাতে চারটি সম্ভাব্য পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথমত, রাষ্ট্রপুঞ্জ-সহ আন্তর্জাতিক স্তরে ইরানের উপরে কূটনৈতিক চাপ বাড়ানো, যাতে তারা হরমুজ় প্রণালী খুলে দিতে বাধ্য হয়। দ্বিতীয়ত, প্রয়োজনে ইরানের উপরে অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞার পথে হাঁটা। তৃতীয়ত, ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের সঙ্গে মিলে আটকে থাকা হাজার হাজার নাবিকদের ছাড়িয়ে পুনরায় জাহাজ চলাচল চালু করা। চতুর্থত, সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করা, যাতে সমুদ্রপথে বাণিজ্য আবার স্বাভাবিক হয়।


  • Tags:
❤ Support Us
Advertisement
error: Content is protected !!