- দে । শ স | হ | জ | পা | ঠ
- জুলাই ১৬, ২০২৬
বাঁধ নয়, নদী স্রোতেই বিদ্যুৎ! অরুণাচলে ভারতের প্রথম ‘রিভার কাইনেটিক’ প্রকল্প, নরওয়ের সংস্থার সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর
পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উদপাদনের ক্ষেত্রে ইতিহাস গড়ার পথে অরুণাচল প্রদেশ। নদীর স্বাভাবিক স্রোতকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে ভারতের প্রথম ‘রিভার কাইনেটিক এনার্জি ডেমনস্ট্রেশন প্রকল্প’ গড়ে তুলতে নরওয়ের সংস্থা ‘টাইডাল সেইল এএস’-এর সঙ্গে হাত মেলাল রাজ্য সরকার। ৫০০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এ প্রকল্প শুধু নবায়নযোগ্য শক্তির নতুন দিগন্তই খুলবে না, বরং হিমালয়াঞ্চলের দুর্গম এলাকাগুলিতে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ সরবরাহের নতুন মডেলও তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মঙ্গলবার, ইটানগরে ‘সেন্টার ফর আর্থ সায়েন্সেস অ্যান্ড হিমালয়ান স্টাডিজ’ (সিইএস অ্যান্ড এইচএস) এবং নরওয়ের সংস্থা ‘টাইডাল সেইল এএস’-এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। ভারত-নরওয়ে ‘গ্রিন পার্টনারশিপ’-এর আওতায় এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। কেন্দ্রীয় নবায়নযোগ্য শক্তি মন্ত্রক (এমএনআরই) এবং ‘ইনোভেশন নরওয়ে’ এ উদ্যোগে যৌথভাবে অংশগ্রহণ করছে। প্রকল্পটির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য এখানে কোনো বড়ো বাঁধ, জলাধার বা ব্যাপক অবকাঠামো নির্মাণের প্রয়োজন হবে না। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহের গতিশক্তিকেই কাজে লাগিয়ে সরাসরি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। ফলে পরিবেশের উপর প্রভাব তুলনামূলক ভাবে অনেক কম হবে, প্রকল্প বাস্তবায়নের খরচও উল্লেখযোগ্য ভাবে কম হতে পারে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অরুণাচল প্রদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী দাসাংলু পুল। তিনি এ উদ্যোগকে রাজ্যের পরিচ্ছন্ন শক্তি অভিযাত্রার এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, ‘এই অংশীদারিত্ব শুধু একটি প্রযুক্তিগত সহযোগিতা নয়, বরং উদ্ভাবন, পরিবেশ সংরক্ষণ আর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রতি আমাদের যৌথ অঙ্গীকারের প্রতিফলন।’ মন্ত্রী আরও জানান, অরুণাচল প্রদেশে বিস্তীর্ণ নদী ব্যবস্থা থাকায় নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদনের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। সে সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে শক্তি নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে। তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়তার জন্য কেন্দ্রীয় নবায়নযোগ্য শক্তি মন্ত্রক, বিদেশ মন্ত্রক, নরওয়ে দূতাবাস, ইনোভেশন নরওয়ে এবং অন্যান্য সহযোগী সংস্থাকে ধন্যবাদ জানান।
ভারতে নরওয়ের রাষ্ট্রদূত মে-এলিন স্টেনার বলেন, অরুণাচলের পাহাড়ি নদীগুলি এ প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক প্রয়োগের জন্য অত্যন্ত উপযুক্ত। তাঁর মতে, ‘রিভার কাইনেটিক এনার্জি’ ভবিষ্যতে জলবিদ্যুৎ, সৌর ও বায়ুশক্তির মতো বিদ্যমান নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবস্থাকে সম্পূরক হিসেবে কাজ করতে পারে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে শক্তি নিরাপত্তা আরও মজবুত হবে। রাষ্ট্রদূত আরও জানান, ভূ-তাপীয় শক্তি, ভূ-প্রযুক্তি প্রকৌশল ও টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে নরওয়ে ও অরুণাচলের সহযোগিতা ক্রমশ বাড়ছে। নতুন প্রকল্প সম্পর্ককে আরও গভীর করবে। ‘সিইএস অ্যান্ড এইচএস’-এর অধিকর্তা তানা তাগে মনে করেন, প্রকল্পটি সফল হলে অরুণাচল প্রদেশের নবায়নযোগ্য শক্তির এক ধাক্কায় অনেকখানি এগিয়ে যাবে। বিশেষ করে পাহাড়ি ও দুর্গম অঞ্চলে, যেখানে প্রচলিত বিদ্যুৎ পরিকাঠামো পৌঁছে দেওয়া কঠিন, সেখানে বিকেন্দ্রীভূত বিদ্যুৎ উৎপাদনের কার্যকর উপায় হিসেবে এ প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। তাঁর আরও দাবি, ‘নয়া প্রযুক্তি সফল হলে জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমবে, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস পাবে এবং নদীর স্বাভাবিক বাস্তুতন্ত্রও অনেকাংশে অক্ষুণ্ণ থাকবে।’
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, হিমালয় অঞ্চলের দ্রুত প্রবাহমান নদীগুলিতে এ প্রযুক্তি কার্যকর প্রমাণিত হলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং অন্যান্য পাহাড়ি রাজ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনের এক নতুন দিগন্ত খুলে যেতে পারে। পাশাপাশি, বৃহৎ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পকে ঘিরে পরিবেশগত ও সামাজিক বিতর্কের মাঝে এ ধরনের প্রযুক্তি বিকল্প পথ দেখাতে পারে।
❤ Support Us






