Advertisement
  • দে । শ
  • জুন ২, ২০২৬

ঋতব্রত-সন্দীপনের সঙ্গে বৈঠকে জাভেদ-শিউলিরা, তৃণমূলে কি বাড়ছে বিদ্রোহের সুর ? জল্পনা তুঙ্গে

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ঋতব্রত-সন্দীপনের সঙ্গে বৈঠকে জাভেদ-শিউলিরা, তৃণমূলে কি বাড়ছে বিদ্রোহের সুর ? জল্পনা তুঙ্গে

তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। দলের অন্দরে অস্বস্তির আবহের মধ্যেই কলকাতার এমএলএ হস্টেলে এই দুই বিধায়কের সঙ্গে তৃণমূলের কয়েকজন বিধায়কের বৈঠকের খবর সামনে এসেছে। সূত্রের দাবি, ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল বিধায়ক জাভেদ খান, শিউলি সাহা-সহ আরও কয়েকজন বিধায়ক।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই বৈঠক তৃণমূলের অন্দরে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ এবং সম্ভাব্য বিদ্রোহের ইঙ্গিত বহন করছে। যদিও বৈঠক নিয়ে সরাসরি কিছু বলতে চাননি শিউলি সাহা। এমএলএ হস্টেল থেকে বেরিয়ে তিনি বলেন, “হস্টেলে নিজের ঘর দেখতে এসেছিলাম। দেখলাম ঋতব্রত-সন্দীপনরা বসে আছেন। একটু চা খেয়ে গেলাম।” তবে তাঁর আরও একটি মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য তৈরি করেছে। শিউলি বলেন, “বিধায়ক বহিষ্কৃত নয়, দল থেকে বহিষ্কৃত।” এই মন্তব্যকে অনেকেই ইঙ্গিতপূর্ণ বলে মনে করছেন।

সূত্রের খবর, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অসন্তুষ্ট প্রায় ৫০ জন তৃণমূল বিধায়ক মঙ্গলবার বিধানসভার স্পিকারের কাছে চিঠি জমা দিতে পারেন। জানা গিয়েছে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলনেতা করে ‘প্রকৃত তৃণমূল’ নামে একটি পৃথক গোষ্ঠীর স্বীকৃতি চেয়ে ওই চিঠি দেওয়া হতে পারে।

রাজনৈতিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, ঋতব্রত ও সন্দীপনের বহিষ্কারের পর থেকেই একাধিক বিধায়কের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমর্থনের হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। এদিন প্রথমে বাইপাস সংলগ্ন একটি স্থানে বৈঠক হয় বলে খবর। পরে সন্ধ্যায় এমএলএ হস্টেলেও আরেক দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে মালদহ ও মুর্শিদাবাদের কয়েকজন বিধায়ক-সহ মোট ১৫ থেকে ১৬ জন জনপ্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করা হচ্ছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই স্পিকারের কাছে চিঠি জমা দেওয়া হতে পারে বলেও শোনা যাচ্ছে।

এদিকে বহিষ্কারের পর থেকেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ তুলছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। দুর্নীতির প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন, “উলুবেড়িয়া পুরসভায় ১০ হাজার ঘর চুরি হয়েছে। কোনও টেন্ডার ডাকা হয়নি।” তাঁর দাবি, সরকারের অংশ থাকাকালীন প্রাণনাশের আশঙ্কায় তিনি মুখ খুলতে পারেননি। এখন তিনি দুর্নীতির বিষয়ে তদন্ত দাবি করবেন এবং সরকারকেও লিখিতভাবে জানাবেন বলে ঘোষণা করেছেন।

অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে বড় ধরনের ভাঙনের আশঙ্কাও ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। দলীয় সূত্রে অসন্তোষের খবর ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি শাসকদলের বহু বিধায়ক দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়েছেন বলেও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। এমনকি দলনেত্রীর ডাকা সাম্প্রতিক বৈঠকেও বহু বিধায়ক অনুপস্থিত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। সেই বৈঠক কার্যত ভেস্তে যাওয়ার পর থেকেই দলীয় ঐক্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

সব মিলিয়ে, এমএলএ হস্টেলে বহিষ্কৃত দুই বিধায়কের সঙ্গে তৃণমূলের একাধিক বিধায়কের বৈঠক এবং ‘প্রকৃত তৃণমূল’ গঠনের জল্পনা রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। এখন নজর আগামী কয়েক দিনের দিকে—সত্যিই কি স্পিকারের কাছে চিঠি যাবে, নাকি সবটাই রাজনৈতিক জল্পনা, তার উত্তর মিলবে শীঘ্রই।


  • Tags:
❤ Support Us
Advertisement
error: Content is protected !!