- দে । শ
- জুন ২, ২০২৬
তৃণমূলে পদত্যাগের ধাক্কা অব্যাহত, মেয়র ও দলের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে ইস্তফা তারক সিংহের
বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পর দলজুড়ে পদত্যাগের পর্ব যেন থামছেই না। একের পর এক নেতা ও জনপ্রতিনিধির পদত্যাগে অস্বস্তি বাড়ছে দলের অন্দরে। সেই তালিকায় এবার নাম জুড়ল কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদ (নিকাশি) তারক সিংহের।
মঙ্গলবার কলকাতা পুরসভায় গিয়ে নিজের ইস্তফাপত্র জমা দেন তারক সিংহ। দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত এই প্রবীণ নেতা সম্প্রতি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন। দলের ভূমিকা ও কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, কঠিন সময়ে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের পাশে দাঁড়াতে ব্যর্থ হয়েছেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। তাঁর সমালোচনার নিশানায় ছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকও।
দলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খোলার পর থেকেই তাঁর পদত্যাগ নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছিল, অরূপ চক্রবর্তী, সুশান্ত ঘোষ ও দেবলীনা বিশ্বাসের পথেই কি হাঁটবেন তারক? শেষ পর্যন্ত সেই জল্পনাই সত্যি হল।
উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই কলকাতা পুরসভার অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন তৃণমূলের অন্যতম মুখপাত্র তথা কাউন্সিলর অরূপ চক্রবর্তী। একই সময়ে বরো চেয়ারম্যানের পদ ছেড়েছেন সুশান্ত ঘোষ এবং দেবলীনা বিশ্বাসও। ফলে কলকাতা পুরসভার অন্দরে তৃণমূলের ভাঙনের জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে।
রাজ্যে ক্ষমতা হারালেও অধিকাংশ পুরসভা এখনও তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক পদত্যাগের ঘটনাগুলি সেই সংগঠনগত শক্তির উপর প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
তারক সিংহের রাজনৈতিক জীবন দীর্ঘ এবং তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক প্রায় তিন দশকের। নব্বইয়ের দশক থেকেই তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ১৯৯৫ সালে ১১৬ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। পরে তৃণমূল কংগ্রেস গঠনের সময়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। ২০১০ সালে ১১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হন এবং ২০১৫ ও ২০২১ সালেও একই ওয়ার্ড থেকে জয়ী হন। পরবর্তীকালে মেয়র পারিষদ হিসেবে বাজার ও নিকাশি বিভাগের দায়িত্ব সামলান। পদত্যাগের আগে পর্যন্ত তিনি মেয়র পারিষদ (নিকাশি) পদে ছিলেন।
সূত্রের খবর, ঘনিষ্ঠ মহলে তারক সিংহ একাধিকবার জানিয়েছিলেন যে তিনি বিধানসভা নির্বাচনে দলের টিকিট পাওয়ার আশা করেছিলেন। তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। নির্বাচনে দলের পরাজয়ের পর থেকেই শীর্ষ নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে আরও সরব হয়ে ওঠেন তিনি। অবশেষে সেই অসন্তোষেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটল তাঁর পদত্যাগের মাধ্যমে।
❤ Support Us






