- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- মার্চ ২৫, ২০২৬
‘বিজেপি-কমিশন মিলে আমার সব কেড়ে নিয়েছে, তবে আমার কাছে মানুষ আছে’ : ময়নাগুড়ির সভায় বিষ্ফোরক মন্তব্য মমতার
‘বিজেপি-কমিশন মিলে আমার সব কেড়ে নিয়েছে, তবে আমার কাছে মানুষ আছে’, ময়নাগুড়ি থেকে এ ভাবেই বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘এসআইআর করে বিজেপির নির্দেশে নির্বাচন কমিশন রাজবংশীদের নাম বাদ দিয়েছে, মহিলাদের নাম বাদ দিয়েছে, এসআইআরে মৃত্যু হয়েছে অনেক মানুষের, এই দায় কে নেবে?’ সভা মঞ্চ থেকে এই প্রশ্ন করেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতার দাবি, ‘এখন এসআইআর করে ভোটাধিকার কাড়ছে, দু’দিন পর বলবে এনআরসি করে ডিটেনশন ক্যাম্প করব। আমি বেঁচে থাকতে ডিটেশন ক্যাম্প করতে দেব না। আমার পরের জেনারেশনও তা অ্যালাও করবে না।’
ময়নাগুড়ির সভা থেকে কেন্দ্র বাহিনীকে বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সম্মান করি। কিন্তু মনে রাখবেন, জনগণের শক্তিই আসল শক্তি। যারা এখন দিল্লিতে ক্ষমতায় আছে,পাল্টে যাবে। আপনারা আপনাদের (কেন্দ্রীয় বাহিনী) কাজ সম্মানের সঙ্গে করুন।’ তার পরেই মমতার তোপ, ‘যদি ভোটের সময় আপনারা বিজেপির পোলিং এজেন্ট হয়ে যান, আমাদের মা-বোনেরা আছেন, তাঁরা দেখে নেবেন। আমরা কিছু করব না।’ মমতা বলেন, ‘বিজেপি হিংসুটে দল। মা-বোনেদের নাম কেটে দিচ্ছে। কোনও মহিলা বিয়ে করে শ্বশুরবাড়ি গিয়েছেন,পদবি বদলেছে, ঠিকানা বদলেছে তাঁর নাম বাদ।’’ মমতা বলেন,‘‘পেট্রলের দাম বেড়েছে। সব জিনিসের দাম বেড়েছে। এটা আমার হাতে নেই। এখন তো আমার হাত থেকে সব কেড়ে নিয়েছে। আমার হাতে একটাই আছে, সেটা মানুষ। বিজেপি পার্টি ভ্যানিশ পার্টি।’
সোমবার মধ্য রাতে নির্বাচন কমিশন প্রথম অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে। সেই নিয়ে ময়নাগুড়ির সভা থেকে মমতা বলেন, ‘‘মধ্যরাতে যত তাণ্ডব। মধ্যরাতে স্বাধীনতা এসেছিল বলে আমরা গর্ব করি। আর আজ ভুলে যান স্বাধীনতার কথা। ওরা সংবিধান মানছে না, স্বাধীনতা মানছে না। মানুষের অধিকার মানছে না।’’ উল্লেখ্য় দিন কয়েক আগে মধ্যরাতেই রাজ্যের মুখ্যসচিব পদ থেকে নন্দিনী চক্রবর্তী এবং স্বরাষ্ট্রসচিব পদ থেকে জগদীশপ্রসাদ মীনাকে সরিয়ে দিয়েছিল কমিশন। মমতা আবার ‘বিজেপি-স্ট্যাম্প’ নিয়ে সরব হয়ে বলেন, ‘‘কখনও শুনেছেন, নির্বাচন কমিশনের নোটিফিকেশনে বিজেপির চিহ্ন দিচ্ছে। জীবনে কখন দেখেছেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী বিজেপির দলীয় পতাকা নিয়ে যাচ্ছে! লজ্জা করে না। কোথায় এই লজ্জা ঢাকবেন বিজেপি নেতৃত্ব?’’
প্রসঙ্গত, উত্তরবঙ্গ দিয়ে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের ভোটপ্রচার শুরু করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলের সর্বময় নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবারই উত্তরবঙ্গে উড়ে গিয়েছেন তিনি। তবে তার আগে কলকাতা বিমানবন্দর থেকে নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপির ‘আঁতাঁত’ নিয়ে সরব হয়েছিলেন। নির্বাচন কমিশনের একটি ছ’বছরের পুরনো নথি সোমবার প্রকাশ্যে এনেছিলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। যাতে পদ্মফুল চিহ্ন-সহ বিজেপির নাম লেখা সিল ব্যবহার করা হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গে মমতা বলেছিলেন, ‘কমিশনের কাগজে বিজেপি পার্টির স্ট্যাম্প। বিজেপির চিহ্ন। পিছন থেকে খেলছেন কেন? সামনে এসে খেলুন।’
এদিন অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে তৃণমূল নেত্রী বলেন, ‘অন্নপূর্ণা পুজোর শুভ দিনে, মা অন্নপূর্ণাকে সাক্ষী রেখে আমি আমার নির্বাচনী প্রচার শুরু করলাম।’ বুধবারই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম জনসভা শুরু করলেন ময়নাগুড়ি টাউন ক্লাব মাঠে। এ বার এই কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী করেছে রামমোহন রায়কে। তাঁর সমর্থনেই প্রথম জনসভা করবেন তৃণমূল নেত্রী। সভা থেকে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘পেট্রলের দাম বাড়ছে। কিন্তু এখন আমার কিছু করার নেই। আমার থেকে সব কেড়ে নিয়েছে। তবে আমার কাছে মানুষ আছে।’ মমতা বলেন, ‘আমরা প্রতিশ্রুতি দিই না, করে দেখাই।’’ তৃণমূলকে কেন ভোট দেবেন, তার ব্যাখ্যা করে তিনি। তাঁর দাবি, ‘‘চা-বাগান খোলা রাখতে, চা সুন্দরী চালু রাখতে তৃণমূলকে ভোট দিন।’ ময়নাগুড়ির সভা থেকে আলুচাষিদের আশ্বাস দিলেন মমতা। তিনি বলেন, ‘জলপাইগুড়ি-সহ উত্তরবঙ্গে বৃষ্টি হচ্ছে। ক্ষতি হচ্ছে আলু চাষের। আলু চাষিরা চিন্তা করবেন না। আলু চাষিদের শস্যবিমা করা আছে। সবাই ক্ষতিপূরণ পাবেন। এটা আগে থেকে করা আছে।’
❤ Support Us





