- এই মুহূর্তে দে । শ
- মার্চ ৩১, ২০২৬
জাল ফর্ম-৬ দিয়ে ভিনরাজ্যের লোকেদের ঢোকানোর চেষ্টা! প্রক্রিয়া বন্ধ করার আর্জি জানিয়ে জ্ঞানেশকুমারকে চিঠি মুখ্যমন্ত্রীর
ভারতের জাতীয় নির্বাচন কমিশন যে ভাবে এস আই আর প্রক্রিয়া পরিচালনা করছে সেটা অবাস্তব বলে তৃণমূল নেত্রী আগেও দাবি করে এই প্রক্রিয়া সংশোধনের জন্য চিঠি লিখেছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে। মঙ্গলবার তৃণমূল নেত্রী আবার জ্ঞানেশ কুমারকে ফের চিঠি লিখলেন। ফেসবুক -এ সেই চিঠির সারমর্ম ও চিঠির কপি শেয়ার করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, “আমি ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি লিখেছি এবং বাংলার মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের বিরুদ্ধে যে গুরুতর ষড়যন্ত্র রচিত হচ্ছে, সেই বিষয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছি।”
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর চিঠিতে বিজেপিকে অভিযুক্ত করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠিতে লিখেছেন, ‘বিজেপি এজেন্টরা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে হাজার হাজার জালিয়াতিপূর্ণ ৬ নম্বর ফর্ম জমা দিয়ে বাংলার ভোটার তালিকায় বহিরাগতদের ঢুকিয়ে দেওয়ার সময় হাতেনাতে ধরা পড়েছে। এটি ভোটার হাইজ্যাকিংয়ের একটি প্রচেষ্টা, যে একই নোংরা খেলা বিজেপি মহারাষ্ট্র এবং দিল্লিতে সফলভাবে খেলেছে। যখন ৬০ লক্ষের বেশি প্রকৃত ভোটারের নাম বিচারধীন অবস্থায় রয়েছে এবং ত্রুটিপূর্ণ SIR প্রক্রিয়ার কারণে ইতিমিধ্যেই ২০০-র বেশি প্রাণহানি ঘটেছে, তখন ভারতের নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত সন্দেহজনকভাবে এই একগুচ্ছ জালিয়াতিপূর্ণ আবেদনগুলি বন্ধ দরজার পিছনে গ্রহণ করার জন্য তাড়াহুড়ো করছে। এটি কেবল বেআইনি এবং মাননীয় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরিপন্থীই নয়, বরং বাংলায় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ওপর একটি সরাসরি আক্রমণ।’
https://www.facebook.com/100044572053325/posts/1491488205680234/?rdid=AhJunTqhedIA7XVH#
পরিশেষে তিনি লিখেছেন, ‘আমি দাবি জানিয়েছি যে, ভারতের নির্বাচন কমিশন অবিলম্বে এই অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বন্ধ করুক, কঠোরভাবে মাননীয় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশাবলী মেনে চলুক এবং ২৮.০২.২০২৬ তারিখে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর যেন কোনও জাল ভোটার যুক্ত না করা হয় তা নিশ্চিত করুক। বাংলা তার গণতন্ত্রকে দিনের আলোয় চুরি হতে দেবে না। বাংলার মানুষ নজর রাখছে।’
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার কলকাতার স্ট্র্যান্ড রোডে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) দফতরের সামনে ফর্ম ৬ জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। তৃণমূলপন্থী বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও)-দের অভিযোগ, পূর্ব মেদিনীপুরের এক যুবক প্লাস্টিকের প্যাকেটে করে একগুচ্ছ ফর্ম ৬ জমা দিতে সিইও অফিসে এসেছিলেন। তাঁকে ‘হাতে নাতে ধরে ফেলা’ হয়েছে বলেই দাবি তাঁদের। এরপরই তাঁকে ঘিরে টানাহেঁচড়া শুরু হয় এবং সিইও দফতরের সামনে বিক্ষোভে বসেন তৃণমূলপন্থী বিএলও-রা।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গিয়েছে, এক যুবক বগলদাবা করে একতাড়া কাগজ নিয়ে সিইও অফিসে ঢুকছেন। যদিও কাগজগুলি আদৌ ফর্ম ৬ কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে হাজির হন বিজেপি কর্মীরা। চৌরঙ্গীর বিজেপি প্রার্থী সন্তোষ পাঠকের নেতৃত্বে তাঁরা পাল্টা বিক্ষোভ দেখান। বিজেপির অভিযোগ, তাঁদের এক কর্মীকে মারধর করা হয়েছে, যদিও সেই ব্যক্তির পরিচয় স্পষ্ট করা হয়নি। এরপর শুরু হয় দুই পক্ষের স্লোগান ও পাল্টা স্লোগান, যার জেরে গোটা এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই পক্ষের মাঝে গার্ডরেল বসিয়ে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। তবে উত্তেজিত বিক্ষোভকারীদের একাংশ গার্ডরেল ভেঙে বা টপকে এগোনোর চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। দুপুর পর্যন্ত দুই পক্ষই সিইও অফিসের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ চালিয়ে যায়।
❤ Support Us






