Advertisement
  • দে । শ
  • মে ২৫, ২০২৬

বেলেঘাটায় পুর পুনর্বাসন প্রকল্প নিয়ে ক্ষোভ

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বেলেঘাটায় পুর পুনর্বাসন প্রকল্প নিয়ে ক্ষোভ

বেলেঘাটার ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে পুরনো ও জরাজীর্ণ বসতি ভেঙে নতুন আবাসন তৈরির প্রকল্প ঘিরে রবিবার রাতে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। কেএমডিএ-র উদ্যোগে চলা এই পুনর্বাসন প্রকল্পে তৈরি হওয়া নতুন ফ্ল্যাটগুলি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। অভিযোগ, যেসব ফ্ল্যাট দেওয়া হয়েছে, সেগুলি অত্যন্ত ছোট এবং বসবাসের উপযুক্ত নয়। পাশাপাশি, এখনও বহু পরিবার ফ্ল্যাট পাননি বলেও দাবি উঠেছে।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই রবিবার রাতে এলাকায় পৌঁছন স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তিনি দলীয় কার্যালয়ে যেতেই স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, ওঠে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানও। বিক্ষোভের জেরে দীর্ঘ সময় দলীয় কার্যালয়ের ভিতরেই আটকে থাকতে হয় বিধায়ককে।

সূত্রের খবর, বেলেঘাটার ওই পুরনো আবাসন দীর্ঘদিন ধরেই বিপজ্জনক অবস্থায় ছিল। সাধারণের ব্যবহারের শৌচালয় নিয়েও ছিল একাধিক সমস্যা। প্রবল ঝড়বৃষ্টি হলে যে কোনও সময় বাড়ি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা ছিল বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। বহুবার মেরামতির চেষ্টা হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। এই পরিস্থিতিতে এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে নতুন আবাসন তৈরির উদ্যোগ নেয় কেএমডিএ।

জানা গিয়েছে, ২০১০ সাল থেকেই এই প্রকল্প নিয়ে কেএমডিএ-র সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছিলেন কুণাল ঘোষ। পরে স্থানীয় কাউন্সিলর অয়ন চক্রবর্তীর উদ্যোগে বিষয়টি আরও গতি পায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুরনো ব্লকগুলি ভেঙে সেখানে নতুন ‘টু রুম অ্যাটাচ বাথ’ ফ্ল্যাট তৈরি করে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বাসিন্দাদের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেইমতো কয়েকটি ব্লকের কাজ শেষ করে ইতিমধ্যেই কিছু পরিবারকে ফ্ল্যাটও দেওয়া হয়েছে।

তবে নতুন ফ্ল্যাটের আয়তন ছোট হওয়ায় ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, পরিবারের সদস্যসংখ্যার তুলনায় ঘর অত্যন্ত কম জায়গার। আবার কেউ কেউ দাবি করেছেন, এখনও তাঁদের হাতে ফ্ল্যাট তুলে দেওয়া হয়নি।

বিক্ষোভের সময় কুণাল ঘোষ বাসিন্দাদের সমস্যার কথা শুনে ফোনে কেএমডিএ-র আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন। কেএমডিএ সূত্রে জানানো হয়, কিছু কারিগরি ও প্রশাসনিক সমস্যার কারণেই কাজ সম্পূর্ণ করতে দেরি হচ্ছে। তবে দ্রুত বাকি কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়।

যদিও তাতেও পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত হয়নি। গভীর রাত পর্যন্ত পার্টি অফিসে আটকে থাকতে হয় কুণাল ঘোষকে। পরে ফেসবুক পোস্টে তিনি দাবি করেন, বিজেপিরই একাংশ তাঁকে সেখান থেকে বের হতে সাহায্য করেছে।

সোমবার সকালে নবনির্মিত আবাসনের ছবি পোস্ট করে কুণাল ঘোষ লেখেন, “মানুষের উপকার করা, এলাকা ঢেলে সাজানো নিশ্চয়ই অপরাধ নয়।” একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, এই প্রকল্পের সম্পূর্ণ দায়িত্ব কেএমডিএ-র। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি শুধুমাত্র কাজ দ্রুত শেষ করার দাবি জানাতে পারেন এবং ভবিষ্যতেও এলাকাবাসীর পাশে থাকবেন বলেও আশ্বাস দেন।


  • Tags:
❤ Support Us
Advertisement
error: Content is protected !!